চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে বন্ডেড প্রতিষ্ঠান জ্যাস অ্যাকসেসরিজ (বিডি) লিমিটেডের কারখানা ও গুদামে অভিযান চালিয়ে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৫ দশমিক ৮ কেজি কাঁচামালের ঘাটতি পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। ঘাটতি পাওয়া এসব কাঁচামালের শুল্ক-কর বাবদ প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ ৪৭ হাজার ১৫৪ টাকা রাজস্ব ঝুঁকিতে পড়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এ তথ্য জানায়।
সংস্থাটি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর উত্তর কাট্টলীর ৫৯০ কর্নেল জোন্স রোডে অবস্থিত জ্যাস অ্যাকসেসরিজের কারখানা ও বন্ডেড গুদামে পরিদর্শন এবং মজুত যাচাই করা হয়। এ সময় বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামালের নথিপত্রের হিসাবের সঙ্গে গুদামের প্রকৃত মজুত মিলিয়ে দেখা হয়।
যাচাইয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের অনলাইন ব্যবহার অনুমোদনের তথ্য অনুযায়ী বন্ডেড গুদামে ১৯ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ কেজি কাঁচামাল মজুত থাকার কথা। কিন্তু সরেজমিনে গুদামে পাওয়া যায় ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮১ দশমিক ২ কেজি। অর্থাৎ হিসাব অনুযায়ী গুদামে থাকার কথা থাকা কাঁচামালের তুলনায় প্রকৃত মজুতে ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৫ দশমিক ৮ কেজি ঘাটতি রয়েছে।
বন্ড সুবিধার আওতায় প্রতিষ্ঠানটি এলডিপিই, এইচডিপিই, এলএলডিপিই, পিপি, জিপিপিএস, এইচআইপিএস, বিপিওপিপি, ডুপ্লেক্স বোর্ড ও রাবার থ্রেড ইয়ার্নসহ বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করে। এসব কাঁচামাল অনুমোদিত উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে ব্যবহারের কথা রয়েছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সর্বশেষ আমদানির বিল অব এন্ট্রিতে ঘোষিত মূল্য বিবেচনায় ঘাটতি পাওয়া ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৫ দশমিক ৮ কেজি কাঁচামালের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ২৪ কোটি ৯৬ লাখ ৬৭ হাজার ৬৪১ টাকা। এর বিপরীতে প্রযোজ্য শুল্ক-কর প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ ৪৭ হাজার ১৫৪ টাকা।
বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা এসব কাঁচামাল অনুমোদিত উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, নাকি বন্ড সুবিধার শর্ত লঙ্ঘন করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে—তা খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, আমদানি-রপ্তানি তথ্য, বন্ড রেজিস্টার এবং কাঁচামাল ব্যবহারের হিসাব যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে কাঁচামালের ঘাটতির কারণ এবং বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
Reporter Name 


























