নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লার আলেখারচর চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক দলের বিরুদ্ধে এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের জন্য নেওয়ার পর চলন্ত রোগীবাহী গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাইয়্যুমের বয়স প্রায় ৭০ বছর। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার মেরকুডা গ্রামের বাসিন্দা।
তিনি অভিযোগ করেন, ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের সাবেরা সোহবান স্কুলে গরিব ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন করা হবে বলে আলেখারচর চক্ষু হাসপাতালের পক্ষ থেকে প্রচার ও মাইকিং করা হয়। সেই প্রচারণার ভিত্তিতে আব্দুল কাইয়্যুম চিকিৎসার জন্য সেখানে যান।
প্রথমে হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করে ছানি অপারেশনের জন্য উপযুক্ত হিসেবে বাছাই করেন। পরে বিনামূল্যে অপারেশনের জন্য তাকে হাসপাতালের রোগীবাহী গাড়িতে তোলা হয়।
গাড়ি করে কিছুদূর যাওয়ার পর তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত হওয়ার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। প্রোগ্রাম অফিসার মো. শাহজাহানের নেতৃত্বাধীন চিকিৎসক দলের সদস্যরা তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেন। ভুক্তভোগীর দাবি, তাকে অপমানজনকভাবে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় এবং বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সেখানে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই।
প্রেসক্লাবে অভিযোগ
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ ও অপমানিত আব্দুল কাইয়্যুম ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে তার অভিযোগ তুলে ধরেন।
অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, হাসপাতালটির সঙ্গে সরকারি প্রকল্পের আওতায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অসহায় রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার যে ব্যবস্থা রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কুমিল্লা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, আলেখারচর চক্ষু হাসপাতাল বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতির অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান এবং ডিপিপি প্রকল্পের আওতায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিনামূল্যে ছানি অপারেশন এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক দরিদ্র ও অসহায় রোগীকে বিনামূল্যে ওষুধসহ চিকিৎসা দেওয়ার বিধান রয়েছে।
সরকারি নথির শর্ত সত্যিই কার্যকর নেই এই প্রতিষ্ঠানটির বলে মনে করছেন চিকিৎসক ও সচেতন মহল। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে চিকিৎসার জন্য বাছাই করার পর কেন তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হলো—এতে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে চরমভাবে অপমান করা হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। এদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মহলের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান তারা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে হাসপাতালের প্রোগ্রাম অফিসার মো. শাহজাহানের বক্তব্য জানতে তার অফিসিয়াল মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত থাকার কথা জানান। হাসপাতালের পরিচালনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আ.হ.ম. তাঈফুর আলমের সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাসপাতাল কমিটির বিরুদ্ধে পূর্বের অভিযোগ
ইতিপূর্বেও এই হাসপাতালের কমিটির বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রায় শতাধিক পত্রপত্রিকাসহ টিভি চ্যানেলে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল।
অনুসন্ধানে জানা যায় যে, এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি, লুটপাট করা সহ আওয়ামী স্বৈরাচারীদের নিয়ন্ত্রণে এই হাসপাতাল এখনো চলছে। ২৪-এর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উপরে হামলাকারী পরিচালনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আ.হ.ম. তাঈফুর আলমসহ অনেকে কুমিল্লা সদরের আওয়ামী এমপি হাজী আ ক ম বাহা উদ্দীন বাহারের সাথে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেলেও তারা এখনো বিএনপির ব্যানারে পদ-পদবী ক্যারি করে যাচ্ছে।
বিএনপি এ বিষয় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকলেও দল কানা নেতারা এদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করে কুমিল্লার এক মন্ত্রী তাদেরকে সেল্টার দিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ হাসপাতালের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও লুটপাটের বিষয় অভিযোগ করেছিলেন ডাঃ বশির আহম্মেদ নামের এক ডাক্তার। অভিযোগ করার কারণে ডাঃ বশির আহম্মেদের উপরে হামলাও করা হয়। তার উপরে হামলার বিষয় থানায় মামলা করলেও এক মন্ত্রীর তদবিরে সেই মামলা থানায় ঘুমাচ্ছেন। আসামি ধরার জন্য পুলিশ একবারও চেষ্টা করেনি।
অভিযোগ রয়েছে, পরিচালনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আ.হ.ম. তাঈফুর আলমের বিরুদ্ধে বুড়িচং থানায় মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়াতে থানায় দালালীও করেছিলেন। এ বিষয় আমার দেশ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলেও দল কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। উল্টো দলের কানা নেতারা সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করিয়েছেন।
সর্ব অঙ্গে গাঁ মলম দিবে কোথায় এ জাতী।
Reporter Name 























