হাকিকুল ইসলাম খোকন ও এমডি নাসির, বাপসনিউজ:
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে রাজনৈতিক ব্যয় ও আদর্শ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজের (এওসি) পুনর্নির্বাচনী প্রচারাভিযানের হোটেলে থাকার ব্যয় নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদনের শিরোনাম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে হোটেলে থাকার জন্য প্রায় ৫০ হাজার ডলার ব্যয় করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আইবিএননিউজ ও বাপসনিউজের বরাতে জানা যায়, ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের (এফইসি) ব্যয়সংক্রান্ত নথির উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে প্রায় সাত মাসে এওসি-র পুনর্নির্বাচনী প্রচারাভিযান যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে হোটেলে থাকার জন্য মোট প্রায় ৪৭ হাজার ডলার ব্যয় করেছে।
যেসব হোটেলে উল্লেখযোগ্য ব্যয়
প্রতিবেদনে প্রচারাভিযানের কয়েকটি হোটেল-সংক্রান্ত ব্যয়ের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- দ্য মেমফিয়ান, মেমফিস: প্রায় ৫ হাজার ৪৪ ডলার।
- দ্য ক্যান্ডলার হোটেল, আটলান্টা: দুটি ব্যয়ে যথাক্রমে ১ হাজার ৫৯৯ ও ২ হাজার ৬৯৪ ডলার।
- দ্য টালবট, শিকাগো: প্রায় ২ হাজার ২৭৪ ডলার।
- থম্পসন সেন্ট্রাল পার্ক, ম্যানহাটন: প্রায় ৫৩০ ডলার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট ৪৫টি হোটেল-সংক্রান্ত ব্যয় বিলাসবহুল, উচ্চমানের বা আপার-আপস্কেল শ্রেণির হোটেলে করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব ব্যয় শুধু এওসি-র ব্যক্তিগত আবাসনের জন্য করা হয়েছে, এমন তথ্য প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি। প্রচারাভিযান দলের একাধিক সদস্যের থাকা এবং একাধিক রাতের আবাসন ব্যয়ের অর্থও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
রাজনৈতিক সমালোচনা
ধনীদের ওপর বেশি কর আরোপের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এওসি-র প্রচারাভিযানে হোটেল খাতে এ ধরনের ব্যয় নিয়ে রিপাবলিকান রাজনীতিকদের একাংশ সমালোচনা করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ তাঁকে ব্যঙ্গ করে ‘চ্যাম্পেইন কমিউনিস্ট’ আখ্যা দিয়েছেন।
সমালোচকদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অনুদানের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও সংযম ও জবাবদিহি থাকা উচিত। তবে এসব মন্তব্য রাজনৈতিক সমালোচকদের বক্তব্য; এগুলো নিজে থেকে কোনো আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ নয়।
প্রচারাভিযানের অর্থের হিসাব
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এওসি-র কংগ্রেস নির্বাচনী প্রচারাভিযান চলতি বছরে ৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ২০০ ডলারের কম অনুদানদাতাদের কাছ থেকে এসেছে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রচারাভিযান এ বছর প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার ব্যয় বা স্থানান্তর করেছে এবং হাতে ছিল প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
রাজনৈতিক প্রচারাভিযানে হোটেল, যাতায়াত ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার অংশ হতে পারে। তবে এসব ব্যয় কতটা প্রয়োজনীয়, অনুদানের অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ব্যয়ের হিসাব কতটা স্বচ্ছ—তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠতে পারে।
এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য সম্পূর্ণ ব্যয়ের বিবরণ, ভ্রমণের উদ্দেশ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আবাসনসংক্রান্ত তথ্য এবং প্রচারাভিযান কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা বিবেচনা করা জরুরি। শুধু হোটেলের শ্রেণি বা ব্যয়ের অঙ্কের ভিত্তিতে অনিয়মের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
সূত্র: আইবিএননিউজ, বাপসনিউজ ও নিউইয়র্ক পোস্ট-এর প্রতিবেদনের বরাতে প্রাপ্ত তথ্য।
Reporter Name 




























