
আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, মোংলা
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা এখন কর্মচঞ্চলতায় মুখর। গত কয়েক বছরে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির সংযোজনে এই বন্দরটি জাতীয় অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে।
রেকর্ড জাহাজ ও রাজস্ব বৃদ্ধি
সম্প্রতি মোংলা বন্দরে বিদেশি জাহাজের আগমনের সংখ্যা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে ঢাকার কাছের এই বন্দরটি ব্যবসায়ীদের কাছে প্রথম পছন্দে পরিণত হয়েছে। গাড়ি আমদানির পাশাপাশি কন্টেইনার এবং বাল্ক কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সরকারের রাজস্ব আদায়ে।

উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন
বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বন্দরে বর্তমানে বেশ কিছু মেগা প্রকল্প চলমান রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
চ্যানেল ড্রেজিং: ইনার বার এবং আউটার বারে ড্রেজিংয়ের ফলে এখন অনেক গভীর ড্রাফটের জাহাজ সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারছে।
আধুনিক ইক্যুইপমেন্ট: কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য দ্রুতগতির গ্যান্ট্রি ক্রেন ও মোবাইল হারবার ক্রেন সংযোজন করা হয়েছে।
রেল সংযোগ: মোংলা-খুলনা রেললাইন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন এখন আরও সাশ্রয়ী ও দ্রুততর।
ব্যবসায়ীদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ
স্থানীয় আমদানিকারকদের মতে, মোংলা বন্দরে এখন জাহাজ জট নেই বললেই চলে। চট্টগ্রাম বন্দরের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং নিজস্ব গতিতে এটি এখন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস পাওয়ায় এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু হওয়ায় তারা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবেশী দেশগুলোর (ভারত, নেপাল, ভুটান) ট্রানজিট সুবিধা পুরোপুরি কার্যকর হলে মোংলা বন্দর দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক হাবে পরিণত হবে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জানান, “আমরা বন্দরকে শতভাগ ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্যে কাজ করছি, যাতে করে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আরও বেশি আগ্রহী হয়।”
মোংলা বন্দরের এই অগ্রযাত্রা শুধু দক্ষিণাঞ্চল নয়, বরং গোটা বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
Reporter Name 
























