Dhaka ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
কলকাতা ইসকনের উদ্যোগে বাবুঘাট গঙ্গা তীর পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতার অভিযান চালালেন আত্রাই রেললাইনের পাশে পড়ে ছিল কলেজ অধ্যক্ষের মরদেহ!! হোয়াইক্যং আলহাজ্ব আলী আছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হলেন জুনায়েদ আলী চৌধুরী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থীদের মেধা ও একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরুপ মেডেল ও সম্মামনা প্রদান ‘লা পুলগা’ থেকে ‘দ্য গোট’ রেকর্ডের অপেক্ষায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, পর্তুগালের মুখোমুখি হবে ডিআর কঙ্গো সংসদে বাজেটকে ‘চানাচুর মার্কা’ বললেন এমপি আমির হামজা সকল অপকর্মের সমাপ্তি চাই গফরগাঁওয়ে স্বামীকে বেঁধে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ‘গেম চেঞ্জার’ বললেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

যখন লবণই নষ্ট হয়—সমাজ কে রক্ষা করবে?

২৬ অক্টোবর ২০২৫

লেখক: অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া

বিশেষ প্রতিবেদন:এক নীরব গ্রাম।এক সাধারণ যুবক ও তার সুন্দরী স্ত্রী—তাদের সংসার ছিল ভালোবাসা ও শান্তির প্রতীক।কিন্তু সেই শান্তিতে আগুন জ্বেলে দিল গ্রামের মোড়ল—যার চোখে পড়েছিল যুবকের স্ত্রী।নিজের ক্ষমতার প্রভাবে মোড়ল যুবকটিকে শহরে পাঠানোর ফন্দি আঁটে,এবং সুযোগে রাতে হাজির হয় যুবকের ঘরে।

 

স্ত্রী ভয় পেয়েও জিজ্ঞেস করে,
“এত রাতে, মোড়ল সাহেব?”
উত্তরে মোড়ল বলে—
“তোমাকে দেখার পর থেকে আমার মন শান্তি পায় না, তোমাকে চাই।”

 

কিন্তু নারীটি ক্রোধ নয়, জ্ঞান দিয়ে উত্তর দেয়—
“ঠিক আছে, তবে আগে একটি প্রশ্নের উত্তর দিন—
মাংস পচন থেকে বাঁচাতে আমরা লবণ ব্যবহার করি,
কিন্তু যদি লবণই পচে যায়,

তাহলে মাংসকে রক্ষা করবে কে?”

পরদিন গ্রামজুড়ে প্রশ্নটি ছড়িয়ে পড়ে।
কেউ উত্তর দিতে পারে না।

একজন বৃদ্ধ বলেন—
“এই প্রশ্ন নয়, এটা বিবেক জাগানোর বার্তা।
যে নেতা মানুষের নৈতিক রক্ষক,
সে যদি নিজেই নষ্ট হয়ে যায়,
তবে সমাজকে রক্ষা করবে কে?”

নৈতিক বিশ্লেষণ:
এই প্রতীকী গল্পটি আজকের বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে মিলে যায়।
যখন নৈতিকতার অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে,
তখন রাজনীতি, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা—সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতি ও স্বার্থান্বেষী মানসিকতা প্রাধান্য পায়।

 

যদি নেতা নিজেই অন্যায়ে লিপ্ত হন, জনগণ দিশেহারা হয়ে যায়।যদি বিচারব্যবস্থা পক্ষপাতদুষ্ট হয়, ন্যায়বিচার মৃত হয়।যদি শিক্ষক নৈতিকতা হারান, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অন্ধকারে চলে যায়।যদি পুলিশ বা প্রশাসন দুর্নীতিগ্রস্ত হয়, নাগরিকের নিরাপত্তা থাকে না।

এই “লবণ ও মাংস” রূপক শুধু একটি গল্প নয়,এটি আজকের জাতির আত্মসমালোচনার প্রতিচ্ছবি।

বিশ্লেষণ ও করণীয়:

বাংলাদেশ আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে—
একদিকে অর্থনৈতিক চাপ,অন্যদিকে রাজনৈতিক বিভাজন ও নৈতিক অবক্ষয়।

যদি এই সময়ে নেতৃত্ব সৎ, সাহসী ও ন্যায়পরায়ণ না হয়,তাহলে “লবণই নষ্ট হয়ে যাওয়ার” মতো সমাজ ভেতর থেকে পচে যাবে।

আরও পড়ুনঃ  সংসদে বাজেটকে ‘চানাচুর মার্কা’ বললেন এমপি আমির হামজা

রাষ্ট্র, সেনাবাহিনী, প্রশাসন, আদালত ও গণমাধ্যম—সকল স্তরে বিবেক ও জবাবদিহিতা পুনরুদ্ধার করতে হবে।কারণ, “লবণ” ঠিক থাকলেই “মাংস” বাঁচে—
আর নৈতিকতা ঠিক থাকলেই জাতি টিকে থাকে।

শেষ কথা:
“যখন লবণই নষ্ট হয়, তখন মাংসকে রক্ষা করবে কে?”
— এই প্রশ্ন আজ প্রতিটি নাগরিক, নেতা ও প্রশাসকের আত্মার দরজায় ধাক্কা দেয়।

 

 প্রকাশ: দৈনিক মানবজীবন খবর

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

কলকাতা ইসকনের উদ্যোগে বাবুঘাট গঙ্গা তীর পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতার অভিযান চালালেন

যখন লবণই নষ্ট হয়—সমাজ কে রক্ষা করবে?

সময়: ১২:১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

২৬ অক্টোবর ২০২৫

লেখক: অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া

বিশেষ প্রতিবেদন:এক নীরব গ্রাম।এক সাধারণ যুবক ও তার সুন্দরী স্ত্রী—তাদের সংসার ছিল ভালোবাসা ও শান্তির প্রতীক।কিন্তু সেই শান্তিতে আগুন জ্বেলে দিল গ্রামের মোড়ল—যার চোখে পড়েছিল যুবকের স্ত্রী।নিজের ক্ষমতার প্রভাবে মোড়ল যুবকটিকে শহরে পাঠানোর ফন্দি আঁটে,এবং সুযোগে রাতে হাজির হয় যুবকের ঘরে।

 

স্ত্রী ভয় পেয়েও জিজ্ঞেস করে,
“এত রাতে, মোড়ল সাহেব?”
উত্তরে মোড়ল বলে—
“তোমাকে দেখার পর থেকে আমার মন শান্তি পায় না, তোমাকে চাই।”

 

কিন্তু নারীটি ক্রোধ নয়, জ্ঞান দিয়ে উত্তর দেয়—
“ঠিক আছে, তবে আগে একটি প্রশ্নের উত্তর দিন—
মাংস পচন থেকে বাঁচাতে আমরা লবণ ব্যবহার করি,
কিন্তু যদি লবণই পচে যায়,

তাহলে মাংসকে রক্ষা করবে কে?”

পরদিন গ্রামজুড়ে প্রশ্নটি ছড়িয়ে পড়ে।
কেউ উত্তর দিতে পারে না।

একজন বৃদ্ধ বলেন—
“এই প্রশ্ন নয়, এটা বিবেক জাগানোর বার্তা।
যে নেতা মানুষের নৈতিক রক্ষক,
সে যদি নিজেই নষ্ট হয়ে যায়,
তবে সমাজকে রক্ষা করবে কে?”

নৈতিক বিশ্লেষণ:
এই প্রতীকী গল্পটি আজকের বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে মিলে যায়।
যখন নৈতিকতার অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে,
তখন রাজনীতি, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা—সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতি ও স্বার্থান্বেষী মানসিকতা প্রাধান্য পায়।

 

যদি নেতা নিজেই অন্যায়ে লিপ্ত হন, জনগণ দিশেহারা হয়ে যায়।যদি বিচারব্যবস্থা পক্ষপাতদুষ্ট হয়, ন্যায়বিচার মৃত হয়।যদি শিক্ষক নৈতিকতা হারান, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অন্ধকারে চলে যায়।যদি পুলিশ বা প্রশাসন দুর্নীতিগ্রস্ত হয়, নাগরিকের নিরাপত্তা থাকে না।

এই “লবণ ও মাংস” রূপক শুধু একটি গল্প নয়,এটি আজকের জাতির আত্মসমালোচনার প্রতিচ্ছবি।

বিশ্লেষণ ও করণীয়:

বাংলাদেশ আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে—
একদিকে অর্থনৈতিক চাপ,অন্যদিকে রাজনৈতিক বিভাজন ও নৈতিক অবক্ষয়।

যদি এই সময়ে নেতৃত্ব সৎ, সাহসী ও ন্যায়পরায়ণ না হয়,তাহলে “লবণই নষ্ট হয়ে যাওয়ার” মতো সমাজ ভেতর থেকে পচে যাবে।

আরও পড়ুনঃ  গণ'বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে জামালপুর জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা খানের আয়োজনে শুভেচ্ছা মিছিল ও পথসভা

রাষ্ট্র, সেনাবাহিনী, প্রশাসন, আদালত ও গণমাধ্যম—সকল স্তরে বিবেক ও জবাবদিহিতা পুনরুদ্ধার করতে হবে।কারণ, “লবণ” ঠিক থাকলেই “মাংস” বাঁচে—
আর নৈতিকতা ঠিক থাকলেই জাতি টিকে থাকে।

শেষ কথা:
“যখন লবণই নষ্ট হয়, তখন মাংসকে রক্ষা করবে কে?”
— এই প্রশ্ন আজ প্রতিটি নাগরিক, নেতা ও প্রশাসকের আত্মার দরজায় ধাক্কা দেয়।

 

 প্রকাশ: দৈনিক মানবজীবন খবর