Dhaka ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
চাঁদপুরে ৫ দিন ধরে নিখোঁজ শারীরিক প্রতিবন্ধী ফাহিম, সন্ধান চায় পরিবার ডিমলায় ফ্যামিলি কার্ড বিষয় প্রেস কনফারেন্স সভা সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে বাবার লাশ দাফনে বাধা পাইকগাছায় কন্যাশিশু দিবস পালিত, বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ কালীগঞ্জে নানা আয়োজনে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদযাপিত বুড়িচংয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত সাভারে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ, সমাধান কোথায়? জিপার ইন্ডাস্ট্রিজের এমডি কিশোর বাবুর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ধর্মপাশায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য কাজলের রহস্যজনক মৃত্যু, সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন বুড়িচংয়ে জাতীয় কন্যাশিশু দিবসে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ সাপাহারে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদ্‌যাপন
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

যাদুকাটা নদীতে উত্তোলন বন্ধ, বাদাঘাট বাজারে নেমেছে নীরবতা

  • Reporter Name
  • সময়: ১১:১০:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫ Time View

আমির হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টার:

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীতে বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ। একসময় শ্রমিকদের ব্যস্ততা, বারকি নৌকার আনাগোনা, পণ্য পরিবহন ও বেচাকেনার কোলাহলে মুখর থাকা বাদাঘাট বাজারের কালীবাড়ি রোডেও এখন আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য নেই। নদীকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডে ভাটা পড়ায় শ্রমিকদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বাজারনির্ভর পেশাজীবীদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, যাদুকাটা নদী শুধু বালু-পাথর আহরণের উৎস নয়; এটি তাহিরপুর ও আশপাশের এলাকার বহু মানুষের জীবন-জীবিকা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। নদীকে কেন্দ্র করে শ্রমিক, বারকি নৌকার মাঝি, পরিবহনকর্মী, দোকানদার, হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কর্মসংস্থান গড়ে উঠেছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্যের বরাত দিয়ে জানা যায়, যাদুকাটা নদীকে কেন্দ্র করে একসময় প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক সরাসরি কাজ করতেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিক বারকি নৌকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে নদীতে কাজ বন্ধ বা সীমিত হলে এর প্রভাব শুধু বালু-পাথর উত্তোলনকারী শ্রমিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং নদীকেন্দ্রিক পুরো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেই এর প্রভাব পড়ে।

বাদাঘাট বাজারের কালীবাড়ি রোডসহ নদীকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত এলাকায় আগের তুলনায় কর্মচাঞ্চল্য কমে যাওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নদীতে কাজের সুযোগ কমলে শ্রমিকদের আয় কমে যায়। এতে তাঁদের দৈনন্দিন কেনাকাটা, নৌকা ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যয় এবং বাজারের অন্যান্য ব্যবসার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

নদীতে কাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের উপার্জনের ওপর অনেক পরিবারের দৈনন্দিন জীবন নির্ভরশীল। নিয়মিত কাজ না থাকলে সংসার চালানো, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের আয় কমে গেলে বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বেচাকেনাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আরও পড়ুনঃ  রাজগোবিন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি উদযাপনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

এর আগেও যাদুকাটা নদীতে বালু উত্তোলন দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর আদালতের রায়ে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছিল বলে জানা যায়। তবে নদীকে ঘিরে উত্তোলন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আবারও আলোচনায় এসেছে।

যাদুকাটা নদীতে বালু-পাথর উত্তোলনকে কেন্দ্র করে অবৈধ কার্যক্রম, নদীভাঙন ও পরিবেশগত ক্ষতির অভিযোগও রয়েছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, তীরবর্তী জনপদ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় এসব অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলন নিয়ে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা এবং পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা ও আদালতের আদেশ অনুসরণ করে নদীর ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বৈধ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

নদী রক্ষার নামে সাধারণ শ্রমিকদের জীবিকার সংকট উপেক্ষা করা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি কর্মসংস্থানের অজুহাতে নদী ও পরিবেশের ক্ষতি হয়—এমন কার্যক্রমও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন আইনসম্মত, স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনা।

সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের প্রত্যাশা, অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করা হবে। আদালত ও সরকারি নির্দেশনা মেনে বৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ থাকলে তা নিশ্চিত করা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখতে নদীকেন্দ্রিক শ্রমিক, নৌকার মাঝি, পরিবহনকর্মী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে নদীর পরিবেশগত ক্ষতি প্রতিরোধ, অবৈধ উত্তোলন বন্ধ এবং নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

যাদুকাটা নদীকে ঘিরে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে হাজারো মানুষের জীবিকা জড়িত। তাই নদীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের আয়-রোজগারের পথ খুঁজে বের করা সময়ের দাবি।

আরও পড়ুনঃ  চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন: ১১ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন ফরম জমা দিলেন বারেক ভূঁইয়া

বাদাঘাট বাজারের বর্তমান নীরবতা কেবল বেচাকেনার মন্দার চিত্র নয়; এটি নদীকেন্দ্রিক জীবিকার ওপর নির্ভরশীল মানুষের অনিশ্চয়তারও প্রতিফলন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগে নদী ও পরিবেশ রক্ষা করে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে উপকৃত হবেন শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা—যাদুকাটাকে বাঁচিয়ে, আইন মেনে এবং পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করে মানুষের জীবিকার পথ সুগম করা হোক। সচল হোক নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতি, ফিরুক বাদাঘাট বাজারের কর্মচাঞ্চল্য।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

চাঁদপুরে ৫ দিন ধরে নিখোঁজ শারীরিক প্রতিবন্ধী ফাহিম, সন্ধান চায় পরিবার

যাদুকাটা নদীতে উত্তোলন বন্ধ, বাদাঘাট বাজারে নেমেছে নীরবতা

সময়: ১১:১০:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

আমির হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টার:

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীতে বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ। একসময় শ্রমিকদের ব্যস্ততা, বারকি নৌকার আনাগোনা, পণ্য পরিবহন ও বেচাকেনার কোলাহলে মুখর থাকা বাদাঘাট বাজারের কালীবাড়ি রোডেও এখন আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য নেই। নদীকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডে ভাটা পড়ায় শ্রমিকদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বাজারনির্ভর পেশাজীবীদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, যাদুকাটা নদী শুধু বালু-পাথর আহরণের উৎস নয়; এটি তাহিরপুর ও আশপাশের এলাকার বহু মানুষের জীবন-জীবিকা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। নদীকে কেন্দ্র করে শ্রমিক, বারকি নৌকার মাঝি, পরিবহনকর্মী, দোকানদার, হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কর্মসংস্থান গড়ে উঠেছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্যের বরাত দিয়ে জানা যায়, যাদুকাটা নদীকে কেন্দ্র করে একসময় প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক সরাসরি কাজ করতেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিক বারকি নৌকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে নদীতে কাজ বন্ধ বা সীমিত হলে এর প্রভাব শুধু বালু-পাথর উত্তোলনকারী শ্রমিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং নদীকেন্দ্রিক পুরো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেই এর প্রভাব পড়ে।

বাদাঘাট বাজারের কালীবাড়ি রোডসহ নদীকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত এলাকায় আগের তুলনায় কর্মচাঞ্চল্য কমে যাওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নদীতে কাজের সুযোগ কমলে শ্রমিকদের আয় কমে যায়। এতে তাঁদের দৈনন্দিন কেনাকাটা, নৌকা ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যয় এবং বাজারের অন্যান্য ব্যবসার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

নদীতে কাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের উপার্জনের ওপর অনেক পরিবারের দৈনন্দিন জীবন নির্ভরশীল। নিয়মিত কাজ না থাকলে সংসার চালানো, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের আয় কমে গেলে বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বেচাকেনাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আরও পড়ুনঃ  লিয়াকত আলী স্মৃতি স্কুল অ্যান্ড কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা তুহিন

এর আগেও যাদুকাটা নদীতে বালু উত্তোলন দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর আদালতের রায়ে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছিল বলে জানা যায়। তবে নদীকে ঘিরে উত্তোলন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আবারও আলোচনায় এসেছে।

যাদুকাটা নদীতে বালু-পাথর উত্তোলনকে কেন্দ্র করে অবৈধ কার্যক্রম, নদীভাঙন ও পরিবেশগত ক্ষতির অভিযোগও রয়েছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, তীরবর্তী জনপদ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় এসব অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলন নিয়ে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা এবং পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা ও আদালতের আদেশ অনুসরণ করে নদীর ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বৈধ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

নদী রক্ষার নামে সাধারণ শ্রমিকদের জীবিকার সংকট উপেক্ষা করা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি কর্মসংস্থানের অজুহাতে নদী ও পরিবেশের ক্ষতি হয়—এমন কার্যক্রমও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন আইনসম্মত, স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনা।

সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের প্রত্যাশা, অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করা হবে। আদালত ও সরকারি নির্দেশনা মেনে বৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ থাকলে তা নিশ্চিত করা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখতে নদীকেন্দ্রিক শ্রমিক, নৌকার মাঝি, পরিবহনকর্মী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে নদীর পরিবেশগত ক্ষতি প্রতিরোধ, অবৈধ উত্তোলন বন্ধ এবং নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

যাদুকাটা নদীকে ঘিরে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে হাজারো মানুষের জীবিকা জড়িত। তাই নদীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের আয়-রোজগারের পথ খুঁজে বের করা সময়ের দাবি।

আরও পড়ুনঃ  কালিয়াকৈরে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মাঠকর্মী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ

বাদাঘাট বাজারের বর্তমান নীরবতা কেবল বেচাকেনার মন্দার চিত্র নয়; এটি নদীকেন্দ্রিক জীবিকার ওপর নির্ভরশীল মানুষের অনিশ্চয়তারও প্রতিফলন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগে নদী ও পরিবেশ রক্ষা করে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে উপকৃত হবেন শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা—যাদুকাটাকে বাঁচিয়ে, আইন মেনে এবং পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করে মানুষের জীবিকার পথ সুগম করা হোক। সচল হোক নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতি, ফিরুক বাদাঘাট বাজারের কর্মচাঞ্চল্য।