Dhaka ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
স্থানীয় এনজিওকে বাদ দিয়ে সরাসরি প্রকল্প বাস্তবায়ন: স্থানীয়করণের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন ঐতিহাসিক দক্ষিণ রাউজানে মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে ধর্মীয় নাটক “কৃষ্ণ হারা বৃন্দাবন” রাজশাহীতে হচ্ছে আঙ্গুরের বাণিজ্যিক চাষ চট্টগ্রাম কবিয়াল সমিতির ৩১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি গঠন সাংবাদিক সাব্বিরের বিরুদ্ধে মিথ্যা,মানহানিকর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে তাহিরপুর উপজেলা প্রেসক্লাব রাউজান পৌরসভায় শ্রীশ্রী জগন্নাথ সেবাশ্রমে জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামে ৮০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার টেকনাফের হ্নীলার ‘সূঁড়ঙ্গবাড়ির’ ফায়সাল তাহিরপুরে কৃষি ভর্তুকি বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, ইউএনও বরাবর লিখিত আবেদন কেন্দুয়ায় জমি দখলের চেষ্টা, নতুন ঘর নির্মাণে বাধা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ১,৭০০ পিস ট্যাপেন্ডাল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

রাজশাহীতে হচ্ছে আঙ্গুরের বাণিজ্যিক চাষ

  • Reporter Name
  • সময়: ১০:৫৭:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • ৮ Time View

 

মো: গোলাম কিবরিয়া,
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:


স্ট্রবেরি, মাল্টা, ড্রাগনের পর এবার রাজশাহীতে হচ্ছে আঙ্গুরের বাণিজ্যিক চাষ ।
তরুণ কৃষকরা আগ্রহী হচ্ছেন জনপ্রিয় এ ফল চাষে। রাজশাহীর আবহাওয়ায় ফল সুমিষ্ট হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে আঙ্গুর বাগানের পরিধি। কৃষকের ক্ষতি কমিয়ে বাণিজ্যিক সাফল্য আনতে সহায়তা করছে কৃষি সম্প্রসারণ অদিধপ্তর।

সবুজের সতেজতার মাঝে থোকায় থোকায় ঝুলছে আঙ্গুর। কোনটা খয়েরি, কোনটা সবুজ আবার কোনটা কালচে রঙের। প্রতিটি থোকাই টসটসে রসে ভরপুর। এমন নজরকাড়া দৃশ্য রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার হাসনিপুর গ্রামের তরুণ কৃষক ইমাম হোসেনের আঙুর বাগানের। ৩ বিঘার বাগানে রয়েছে বাইকুনুর, অ্যাপোলো, দাসুনিয়া, অস্ট্রেলিয়ান কিং-সহ ৮ জাতের আঙ্গুর।

কৃষক ও প্রকৌশলী ইমাম হোসেন সাগর বলেন, ‘যশোরে দেখলাম একটা বাগানে মোটামুটি তিন বিঘা জমিতে ভালো পরিমাণ আঙুর। এত পরিমাণ আঙুর আমি এটা আগে দেখি নাই। ওই জায়গা থেকে আমার আব্বু এবং আমি, আমার ছোট ভাই—সবাই মিলে এই জায়গাটা আমরা তৈরি করেছি। এখানে আমরা প্রায় ৫ লক্ষ টাকা ইনভেস্ট করেছি এই দুই বিঘা বাগানে।’

চলতি মৌসুমে বাগানের ৩৬০টি গাছ থেকে এই কৃষক আঙ্গুর পেয়েছেন ৭ হাজার ২১ কেজি। যার বাজার মূল্য ২১ লাখ টাকা। তার মতো জেলার তিন উপজেলায় ৩০ জন কৃষক ৩ হেক্টর জমিতে আঙ্গুরের চাষ করছেন। তাদের সাফল্যে বাগান করার স্বপ্ন বুনছেন জেলার অন্য কৃষকরাও। বাগান দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থী ও নতুন উদ্যোক্তারা।

একজন নতুন চাষি বলেন, ‘আমাদের মাটিতে হবে কি হবে না তার জন্য পরীক্ষামূলক দু-তিনটা চারা নিয়ে যাব। পরীক্ষা করার পর যদি দেখি হয়, তাহলে আমরাও করার চিন্তাভাবনা করছি।’

আঙুর উৎপাদনের পাশপাশি চারাও উৎপন্ন হচ্ছে এসব বাগান থেকে। গেল ১ বছরে গাছের কাটিং বা ছেটেফেলা ডাল থেকে তৈরি হয়েছে শত শত চারা। প্রতিপিস চারা ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এতে চারা থেকেই বছরে আয় অন্তত ১৫ লাখ টাকা।

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জে জিয়া পরিষদের ৫১ সদস্যের উপজেলা কমিটি ঘোষণা

একজন বলেন, ‘চারা এখন বর্তমান আমাদের অনেকগুলো বিক্রি করেছি, আরও অর্ডারও আছে। অল্পদিনের মধ্যেই আমাদের চারা প্রায় শেষ হয়ে যাবে।’

এর আগে রাজশাহীর চাষিরা চেষ্টা করেও আঙ্গুর চাষে ভালো ফলাফল পাননি। তবে এবছর আবহাওয়ার পরিবর্তন ও পলিশেড হাউসে সাফল্য আসায় কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে। সফল বাণিজ্যিক উৎপাদনে বহুমূখী সহায়তা বাড়িয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘রাজশাহী জেলায় বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ৩ হেক্টর জমিতে আঙুরের চাষ হচ্ছে। তো আমাদের ওই ৩ হেক্টর জমি আঙুরের চাষের সঙ্গে জড়িত কৃষক সংখ্যা প্রায় ৩০ জনের মতো। আবাদটা যদি বাড়াতে পারি এবং লোকাল মার্কেটটা যদি আমরা ধরতে পারি, তাহলে দেখা যায় বাইরের থেকে আমদানি নির্ভরতা কমে যাবে।’

আঙ্গুর গাছের জীবনকাল অন্তত ৩০ বছর। এর পরিচর্যা ব্যায়ের তুলনায় লাভের পরিমাণ অনেক বেশি। তাই রাজশাহীতে আঙুর চাষ আরও বাড়বে বলে মনে করেন উদ্যোক্তারা।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

স্থানীয় এনজিওকে বাদ দিয়ে সরাসরি প্রকল্প বাস্তবায়ন: স্থানীয়করণের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন

রাজশাহীতে হচ্ছে আঙ্গুরের বাণিজ্যিক চাষ

সময়: ১০:৫৭:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

 

মো: গোলাম কিবরিয়া,
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:


স্ট্রবেরি, মাল্টা, ড্রাগনের পর এবার রাজশাহীতে হচ্ছে আঙ্গুরের বাণিজ্যিক চাষ ।
তরুণ কৃষকরা আগ্রহী হচ্ছেন জনপ্রিয় এ ফল চাষে। রাজশাহীর আবহাওয়ায় ফল সুমিষ্ট হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে আঙ্গুর বাগানের পরিধি। কৃষকের ক্ষতি কমিয়ে বাণিজ্যিক সাফল্য আনতে সহায়তা করছে কৃষি সম্প্রসারণ অদিধপ্তর।

সবুজের সতেজতার মাঝে থোকায় থোকায় ঝুলছে আঙ্গুর। কোনটা খয়েরি, কোনটা সবুজ আবার কোনটা কালচে রঙের। প্রতিটি থোকাই টসটসে রসে ভরপুর। এমন নজরকাড়া দৃশ্য রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার হাসনিপুর গ্রামের তরুণ কৃষক ইমাম হোসেনের আঙুর বাগানের। ৩ বিঘার বাগানে রয়েছে বাইকুনুর, অ্যাপোলো, দাসুনিয়া, অস্ট্রেলিয়ান কিং-সহ ৮ জাতের আঙ্গুর।

কৃষক ও প্রকৌশলী ইমাম হোসেন সাগর বলেন, ‘যশোরে দেখলাম একটা বাগানে মোটামুটি তিন বিঘা জমিতে ভালো পরিমাণ আঙুর। এত পরিমাণ আঙুর আমি এটা আগে দেখি নাই। ওই জায়গা থেকে আমার আব্বু এবং আমি, আমার ছোট ভাই—সবাই মিলে এই জায়গাটা আমরা তৈরি করেছি। এখানে আমরা প্রায় ৫ লক্ষ টাকা ইনভেস্ট করেছি এই দুই বিঘা বাগানে।’

চলতি মৌসুমে বাগানের ৩৬০টি গাছ থেকে এই কৃষক আঙ্গুর পেয়েছেন ৭ হাজার ২১ কেজি। যার বাজার মূল্য ২১ লাখ টাকা। তার মতো জেলার তিন উপজেলায় ৩০ জন কৃষক ৩ হেক্টর জমিতে আঙ্গুরের চাষ করছেন। তাদের সাফল্যে বাগান করার স্বপ্ন বুনছেন জেলার অন্য কৃষকরাও। বাগান দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থী ও নতুন উদ্যোক্তারা।

একজন নতুন চাষি বলেন, ‘আমাদের মাটিতে হবে কি হবে না তার জন্য পরীক্ষামূলক দু-তিনটা চারা নিয়ে যাব। পরীক্ষা করার পর যদি দেখি হয়, তাহলে আমরাও করার চিন্তাভাবনা করছি।’

আঙুর উৎপাদনের পাশপাশি চারাও উৎপন্ন হচ্ছে এসব বাগান থেকে। গেল ১ বছরে গাছের কাটিং বা ছেটেফেলা ডাল থেকে তৈরি হয়েছে শত শত চারা। প্রতিপিস চারা ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এতে চারা থেকেই বছরে আয় অন্তত ১৫ লাখ টাকা।

আরও পড়ুনঃ  আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবসে জামালপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

একজন বলেন, ‘চারা এখন বর্তমান আমাদের অনেকগুলো বিক্রি করেছি, আরও অর্ডারও আছে। অল্পদিনের মধ্যেই আমাদের চারা প্রায় শেষ হয়ে যাবে।’

এর আগে রাজশাহীর চাষিরা চেষ্টা করেও আঙ্গুর চাষে ভালো ফলাফল পাননি। তবে এবছর আবহাওয়ার পরিবর্তন ও পলিশেড হাউসে সাফল্য আসায় কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে। সফল বাণিজ্যিক উৎপাদনে বহুমূখী সহায়তা বাড়িয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘রাজশাহী জেলায় বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ৩ হেক্টর জমিতে আঙুরের চাষ হচ্ছে। তো আমাদের ওই ৩ হেক্টর জমি আঙুরের চাষের সঙ্গে জড়িত কৃষক সংখ্যা প্রায় ৩০ জনের মতো। আবাদটা যদি বাড়াতে পারি এবং লোকাল মার্কেটটা যদি আমরা ধরতে পারি, তাহলে দেখা যায় বাইরের থেকে আমদানি নির্ভরতা কমে যাবে।’

আঙ্গুর গাছের জীবনকাল অন্তত ৩০ বছর। এর পরিচর্যা ব্যায়ের তুলনায় লাভের পরিমাণ অনেক বেশি। তাই রাজশাহীতে আঙুর চাষ আরও বাড়বে বলে মনে করেন উদ্যোক্তারা।