রফিকুল ইসলাম, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের বিচার বাংলার মাটিতে হবেই বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর রাসুনামগঞ্জ জেলা শিল্প কলা একাডেমীর আয়োজনে শাহ আব্দুল করিমের স্মরণ সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
লতিফুর রহমান রাজু.সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জ জেলা শিল্প কলা একাডেমীর আয়োজনে বাউল সম্রাট ও একুশে পদক প্রাপ্ত শাহ আব্দুল করিমের ১৭ তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধা ৬ টায় সুনামগঞ্জ জেলা শিল্প কলা একাডেমীর হাসন রাজা মিলনায়তনে বাউল সাধক শাহ আব্দুল করিমের উপর আলোচনা করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রাক্তন অধ্যক্ষ শেরগুল আহমদ, লেখক গবেষক সুভাষ উদ্দিন, সুনামগঞ্জ জেলা প্রেস ক্লাব সভাপতি লতিফুর রহমান রাজু, সাংবাদিক খলিল রহমান বাউল তছকির আলী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুনামগঞ্জ জেলা শিল্প কলা একাডেমীর কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাভেল। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন বাউল তছকির আলী, জুবায়ের বখত সেবুল, আছদ আলী,তুতি মিয়া,শফিক মিয়া,বিভাষ দাস,আব্দুল আলীম, সুলেমান মিয়া, হানিফ মিয়া,সাজিদ মিয়া ,ছালাম ভান্ডারী, বিল্লাল হামিদ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা বাউল শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহমদ।জনৈতিক সহকারী মো: রাশেদ খাঁন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নে শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় রাশেদ খাঁন বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদের মুখ যে আর কখনো দেখা যাবে না, তা আমরা কেউ জানতাম না। এমনকি আবরার ফাহাদ নিজেও জানতেন না। আজ তার কবর জিয়ারত করেছি। তিনি আমাদের চেতনার জায়গা, সাহসের নাম। ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক শহীদ আবরার ফাহাদ। তাকে নিয়ে আমরা গর্ব করি। বাংলাদেশের মানুষ আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যে লড়াই শুরু করেছিল, আবরার ফাহাদ সেই লড়াইয়ের সাহস ও চেতনার প্রতীক হয়ে থাকবেন।
জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ করে রাশেদ খান বলেন, আপনারা যদি প্রকৃতপক্ষে শহীদ আবরার ফাহাদের চেতনাকে ধারণ করতেন, তাহলে যারা আবরার ফাহাদকে হত্যা করেছে, তাদের পক্ষের আইনজীবী হিসেবে কেউ দাঁড়াতেন না। আমরা দেখেছি, আবরারের ছোট ভাইও এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন আবরার ফাহাদের নাম মানুষের মুখে মুখে থাকবে। আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সাহসের নাম হয়ে থাকবে আবরার।
আবরার ফাহাদের বাবার পক্ষ থেকে কয়া এলাকায় নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবির বিষয়ে রাশেদ খান বলেন, পাশেই নদী রয়েছে। এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে এলাকার মানুষ খুব সহজেই পাবনা হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবেন। এটি এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি। শহীদ আবরার ফাহাদের নামে সেতুটি নির্মাণ করা গেলে তার স্মৃতি আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে। এ বিষয়ে আমার জায়গা থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে।
আবরার হত্যার পর নিজের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, যেদিন আবরার ফাহাদকে হত্যা করা হয়, সেদিন আমি আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিলাম। সেখানেই জানতে পারি, বুয়েটের একজন শিক্ষার্থীকে রাতভর পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। খবর পাওয়ার পর ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কর্মসূচি আয়োজন করেন। ডাকসুর তৎকালীন নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা মিছিল বের করেন। সেই মিছিলে আমিও ছিলাম।
তিনি বলেন, ওই মিছিল নিয়ে বুয়েট ক্যাম্পাসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের নেমে আসার আহ্বান জানানো হয়েছিল। পরে বুয়েটের শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে নেমে আসেন। বর্তমানে বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নেই এবং শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পরিবেশ পেয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খাঁন বলেন, বুয়েটের শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার আহ্বান, আপনাদের এই গর্বিত শিক্ষার্থীকে যথাযথভাবে স্মরণ করতে হবে। সারা বাংলাদেশের মানুষের কাছেও আহ্বান থাকবে, শহীদ আবরার ফাহাদকে মনে রাখুন। তিনি আমাদের বিশ্বাসের নাম, চেতনার নাম। তিনি আমাদের প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছেন।
ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আবরার ফাহাদকে যারা রাতভর নির্যাতন করে হত্যা করেছে, তারা কোনো রাজনৈতিক দল বা ছাত্র সংগঠন হতে পারে না। তাদের কর্মকাণ্ড সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তুলনীয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারের দাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। পরবর্তী সময়ে দেশের যে গণপরিবর্তন হয়েছে, তার পেছনে আবরার ফাহাদের সাহস ও প্রতিবাদের প্রেরণা রয়েছে। শহীদ আবরার ফাহাদ শুধু একটি নাম নয়, একটি বিশ্বাস। তার চেতনাকে ধারণ করে আমরা একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও ন্যায়বিচারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।
আবরার ফাহাদের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন করা হয়েছে জানিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, আবরারের বাবা, মা ও ছোট ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করব। খুব শিগগিরই শহীদ আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হবে বলে আশা করছি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শহীদ আবরার ফাহাদের পিতা বরকত উল্লাহ, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার, কুষ্টিয়া গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ, সদর উপজেলা সভাপতি তানভীর রয়েলসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
Reporter Name 























