Dhaka ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
চাঁদা দাবির অভিযোগে আদালতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে নালিশ কালীগঞ্জে ভ্রাম্যমান আদালতে তিন ব্যবসায়ীকে অর্থদন্ড ঢাকায় পবিত্র ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে জাতীয় সুন্নী ওলামা মাশায়েখ পরিষদের আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মান্দায় ভুয়া পরিচয়ে বিয়ে, ৪ মাস পর তরুণীকে নিয়ে উধাও যুবক: আতঙ্কে পরিবার তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিস্ফোরক মামলায় ভাঙ্গুড়া পৌরসভার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও আ.লীগ নেতা কালু গ্রেপ্তার ফেরদৌস স্টিল ইয়ার্ডে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির দাবি আদমদীঘিতে চোলাইমদ ও ওয়াশসহ শাশুড়ি-জামাই গ্রেপ্তার নরসিংদীতে বিশেষ অভিযানে ২৩৭ গ্রেফতার, বিপুল অস্ত্র-মাদক ও অবৈধ পণ্য উদ্ধার মেয়াদোত্তীর্ণ দুধে তারিখ কারসাজি, নকল BSTI লোগো: চট্টগ্রামে ৩ প্রতিষ্ঠানে ৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকা জরিমানা
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

সাংবাদিকতা অনেকের কাছেই স্রেফ একটি পেশা

  • Reporter Name
  • সময়: ১১:০৬:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • ১২৫ Time View

 

মো: মারুফ, চট্টগ্রাম সিটি রির্পোটার:

কেউ আসেন গ্ল্যামারের টানে, কেউ ক্ষমতার ছায়ায় থাকার আশায়, আবার কেউ নিছক জীবিকার তাগিদে। তবে ক্রাইম রিপোর্টিং বা অপরাধ সাংবাদিকতার জগতটা একেবারেই ভিন্ন। এটি যেমন রোমাঞ্চকর, তার চেয়েও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং। ‘অপরাধ বিচিত্রা’র মতো একটি নির্ভীক ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমার এই দীর্ঘ পথচলার পেছনে রয়েছে কিছু অটল আদর্শ এবং গভীর সামাজিক দায়বদ্ধতা।

সমাজ আপাতদৃষ্টিতে যতটা শান্ত দেখায়, অন্তরালে চিত্রটি অনেক সময় তার বিপরীত। পর্দার আড়ালে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট, দুর্নীতি আর অপরাধের কারণে সাধারণ মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত। ‘অপরাধ বিচিত্রা’ আমাকে সেই প্লাটফর্ম দিয়েছে, যেখান থেকে আমি অন্ধকারের সেই গোপন সত্যগুলোকে আলোর নিচে নিয়ে আসতে পারি। প্রভাবশালীদের মুখোশ খুলে তাদের আসল চেহারা উন্মোচন করার মধ্যেই একজন অপরাধ প্রতিবেদকের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত।

অপরাধের বলি হওয়া অধিকাংশ মানুষই সমাজের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির। ক্ষমতার দাপটে অনেক সময় তারা বিচার পাওয়া তো দূরে থাক, অভিযোগ করার সাহসও পায় না। আমরা যখন এই শোষিত মানুষের পক্ষে কলম ধরি, তখন সেটি কেবল একটি সংবাদ থাকে না; তা হয়ে ওঠে আর্তনাদ করা সেই মজলুমের কণ্ঠস্বর। তাদের আইনি লড়াইকে ত্বরান্বিত করা এবং নির্যাতিতের মুখে একটুখানি স্বস্তির হাসি ফোটানো অন্য যেকোনো পেশার চেয়ে অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক।

কেবল কী ঘটেছে তা জানানোই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য নয়। কেন ঘটেছে এবং এর শেকড় কতটা গভীরে—তা অনুসন্ধান করাই ‘অপরাধ বিচিত্রা’র মূল দর্শন। ডিজিটাল যুগে সাইবার অপরাধ থেকে শুরু করে নতুন নতুন অপরাধের যে মনস্তত্ত্ব, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা আমাকে প্রতিদিন নতুন কিছু শেখায় এবং মানসিকভাবে সমৃদ্ধ করে।

একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনেক সময় একটি বড় জালিয়াত চক্রকে গুঁড়িয়ে দিতে পারে। আমাদের লেখনীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ যখন প্রতারণা সম্পর্কে সচেতন হয় এবং নিজেকে রক্ষা করতে পারে, তখন নাগরিক হিসেবে এক ধরণের প্রশান্তি অনুভব করি। আমি বিশ্বাস করি, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।

অপরাধ সাংবাদিকতার পথটি মোটেও মসৃণ নয়। এখানে প্রতিনিয়ত রক্তচক্ষু, হুমকি আর প্রলোভনের মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু ‘অপরাধ বিচিত্রা’র যে সাহসী টিম দীর্ঘ সময় ধরে কোনো অপশক্তির কাছে নতি স্বীকার করেনি, সেই দলের সদস্য হতে পারাটা গর্বের। এই কর্মপরিবেশ আমাকে মেরুদণ্ড সোজা করে সত্যের পক্ষে লড়তে শিখিয়েছে।

আমার কাছে সাংবাদিকতা কেবল সকাল-সন্ধ্যা ৯টা-৫টার কোনো গতানুগতিক চাকরি নয়; এটি একটি আজীবনের মিশন। যদিও মাঝেমধ্যে চারপাশের মানুষের আদর্শহীনতা আর অন্যায়ের ছাপ দেখে মন ব্যথিত হয়, তবুও দমে যাওয়ার অবকাশ নেই। আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের সেই অমোঘ নির্দেশ—অন্যায় ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সর্বদা সোজা হয়ে দাঁড়ানো। তাঁর সেই অনুপ্রেরণাকে সঙ্গী করেই ন্যায়ের পক্ষে এই লড়াইয়ে আমি আমৃত্যু শামিল থাকতে চাই। যতদিন সমাজে অন্যায় থাকবে, ‘অপরাধ বিচিত্রা’র হয়ে আমার কলম ততদিন গর্জে উঠবে। ইনশাআল্লাহ

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

চাঁদা দাবির অভিযোগে আদালতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে নালিশ

সাংবাদিকতা অনেকের কাছেই স্রেফ একটি পেশা

সময়: ১১:০৬:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

 

মো: মারুফ, চট্টগ্রাম সিটি রির্পোটার:

কেউ আসেন গ্ল্যামারের টানে, কেউ ক্ষমতার ছায়ায় থাকার আশায়, আবার কেউ নিছক জীবিকার তাগিদে। তবে ক্রাইম রিপোর্টিং বা অপরাধ সাংবাদিকতার জগতটা একেবারেই ভিন্ন। এটি যেমন রোমাঞ্চকর, তার চেয়েও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং। ‘অপরাধ বিচিত্রা’র মতো একটি নির্ভীক ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমার এই দীর্ঘ পথচলার পেছনে রয়েছে কিছু অটল আদর্শ এবং গভীর সামাজিক দায়বদ্ধতা।

সমাজ আপাতদৃষ্টিতে যতটা শান্ত দেখায়, অন্তরালে চিত্রটি অনেক সময় তার বিপরীত। পর্দার আড়ালে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট, দুর্নীতি আর অপরাধের কারণে সাধারণ মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত। ‘অপরাধ বিচিত্রা’ আমাকে সেই প্লাটফর্ম দিয়েছে, যেখান থেকে আমি অন্ধকারের সেই গোপন সত্যগুলোকে আলোর নিচে নিয়ে আসতে পারি। প্রভাবশালীদের মুখোশ খুলে তাদের আসল চেহারা উন্মোচন করার মধ্যেই একজন অপরাধ প্রতিবেদকের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত।

অপরাধের বলি হওয়া অধিকাংশ মানুষই সমাজের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির। ক্ষমতার দাপটে অনেক সময় তারা বিচার পাওয়া তো দূরে থাক, অভিযোগ করার সাহসও পায় না। আমরা যখন এই শোষিত মানুষের পক্ষে কলম ধরি, তখন সেটি কেবল একটি সংবাদ থাকে না; তা হয়ে ওঠে আর্তনাদ করা সেই মজলুমের কণ্ঠস্বর। তাদের আইনি লড়াইকে ত্বরান্বিত করা এবং নির্যাতিতের মুখে একটুখানি স্বস্তির হাসি ফোটানো অন্য যেকোনো পেশার চেয়ে অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক।

কেবল কী ঘটেছে তা জানানোই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য নয়। কেন ঘটেছে এবং এর শেকড় কতটা গভীরে—তা অনুসন্ধান করাই ‘অপরাধ বিচিত্রা’র মূল দর্শন। ডিজিটাল যুগে সাইবার অপরাধ থেকে শুরু করে নতুন নতুন অপরাধের যে মনস্তত্ত্ব, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা আমাকে প্রতিদিন নতুন কিছু শেখায় এবং মানসিকভাবে সমৃদ্ধ করে।

একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনেক সময় একটি বড় জালিয়াত চক্রকে গুঁড়িয়ে দিতে পারে। আমাদের লেখনীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ যখন প্রতারণা সম্পর্কে সচেতন হয় এবং নিজেকে রক্ষা করতে পারে, তখন নাগরিক হিসেবে এক ধরণের প্রশান্তি অনুভব করি। আমি বিশ্বাস করি, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।

অপরাধ সাংবাদিকতার পথটি মোটেও মসৃণ নয়। এখানে প্রতিনিয়ত রক্তচক্ষু, হুমকি আর প্রলোভনের মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু ‘অপরাধ বিচিত্রা’র যে সাহসী টিম দীর্ঘ সময় ধরে কোনো অপশক্তির কাছে নতি স্বীকার করেনি, সেই দলের সদস্য হতে পারাটা গর্বের। এই কর্মপরিবেশ আমাকে মেরুদণ্ড সোজা করে সত্যের পক্ষে লড়তে শিখিয়েছে।

আমার কাছে সাংবাদিকতা কেবল সকাল-সন্ধ্যা ৯টা-৫টার কোনো গতানুগতিক চাকরি নয়; এটি একটি আজীবনের মিশন। যদিও মাঝেমধ্যে চারপাশের মানুষের আদর্শহীনতা আর অন্যায়ের ছাপ দেখে মন ব্যথিত হয়, তবুও দমে যাওয়ার অবকাশ নেই। আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের সেই অমোঘ নির্দেশ—অন্যায় ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সর্বদা সোজা হয়ে দাঁড়ানো। তাঁর সেই অনুপ্রেরণাকে সঙ্গী করেই ন্যায়ের পক্ষে এই লড়াইয়ে আমি আমৃত্যু শামিল থাকতে চাই। যতদিন সমাজে অন্যায় থাকবে, ‘অপরাধ বিচিত্রা’র হয়ে আমার কলম ততদিন গর্জে উঠবে। ইনশাআল্লাহ