Dhaka ০৯:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
সমঝোতার রাজনীতিতে আসার আহ্বান রাষ্ট্রপতির সান্তাহারে ছাতিম গাছের ডালে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ, মৃত্যু নিয়ে রহস্য ফিবোনাকি রোবটিক্স অলিম্পিয়াডে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন কেএফটির প্রিয়ন্ত ও তার দল, এবার লক্ষ্য ইতালি বিশ্বম্ভরপুর পিএফজির ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত নবীনগরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও মেধাবৃত্তি প্রদান সবুজ পরিবেশ গড়ার প্রত্যয়ে বিশ্বম্ভরপুরে ৪২০টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ বিতরণ বিএনপির দুর্দিনে কর্মীদের পাশে থাকা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ‘বাবলু ভাই’ আজ কালীগঞ্জের রাজনীতিতে এক বিশ্বস্ত নাম রামপালে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির নবগঠিত কমিটির পরিচিতি ও শুভেচ্ছা বিনিময় সাপাহারে শিক্ষক আছেন ১৫ জন, কাগজে শিক্ষার্থী ২৯৯; মাদ্রাসায় গিয়ে মিলল মাত্র ৪ জন
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

সাপাহারে শিক্ষক আছেন ১৫ জন, কাগজে শিক্ষার্থী ২৯৯; মাদ্রাসায় গিয়ে মিলল মাত্র ৪ জন

জাহাঙ্গীর আলম মানিক,
সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি


নওগাঁর সাপাহারে করমুডাঙ্গা জোয়াকিয়া দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর চেয়ে দ্বিগুণ শিক্ষক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, শুধুমাত্র দশম শ্রেণিতে চারজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে একজন শিক্ষক পাঠদান করাচ্ছেন। বাকি সব শ্রেণিকক্ষে কোনো শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি। কাগজ-কলমে শত শত শিক্ষার্থী থাকলেও বাস্তবে এর কোনো মিল নেই। ১৫ জন শিক্ষকের পাঠদানের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানে রয়েছে মাত্র ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী। আছে শিক্ষক, আছে শ্রেণিকক্ষ—নেই শুধু শিক্ষার্থী।

প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সুপার মোজাম্মেল হকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাগজ-কলমে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৯৯ জন। এর মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ছাত্র ৫৮ জন ও ছাত্রী ১৪ জন, সপ্তম শ্রেণিতে ছাত্র ৩৭ জন ও ছাত্রী ৭ জন, অষ্টম শ্রেণিতে ছাত্র ৪৬ জন ও ছাত্রী ১৩ জন, নবম শ্রেণিতে ছাত্র ৪৬ জন ও ছাত্রী ৯ জন এবং দশম শ্রেণিতে ছাত্র ৬০ জন ও ছাত্রী ৯ জন। তবে এসব সংখ্যার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই বলে সরেজমিনে দেখা গেছে।

মাদ্রাসাটির নিকটবর্তী স্থানীয় জনসাধারণ জানান, মাদ্রাসায় ছাত্র-ছাত্রী না থাকার পরও শিক্ষকরা শিক্ষার্থী সংগ্রহের চেষ্টা না চালিয়ে মাসের পর মাস বেতন তুলে নিচ্ছেন। ১৫ জন শিক্ষক ও ৫ জন কর্মচারীর প্রতি মাসে বেতন বাবদ ৪ লাখ ৮১ হাজার ৮৫৬ টাকা দেওয়া হয়। শুধু সরকারের টাকা খরচই হচ্ছে না, এর মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানও ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

আরও জানা যায়, মাদ্রাসাটিতে আলিম শাখা ২০০১ সালে অনুমোদন পেলেও বর্তমানে এর কোনো কার্যক্রম নেই।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মোজাম্মেল হক বলেন, “সন্তোষজনক ফলাফল না হওয়ায় স্থগিত করে দিয়েছে।”

আরও পড়ুনঃ  হরিণাকুন্ডুতে ৫৩তম জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

শিক্ষার্থী না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী আছে। কিন্তু কয়েকটি ক্লাস করার পর চলে যায়, আর আসে না। অনেকে টিফিন পিরিয়ডে একেবারে চলে যায়, আবার অনেকে বিভিন্ন অজুহাতে ছুটি নেয়।”

এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শামসুল কবিরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

সমঝোতার রাজনীতিতে আসার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

সাপাহারে শিক্ষক আছেন ১৫ জন, কাগজে শিক্ষার্থী ২৯৯; মাদ্রাসায় গিয়ে মিলল মাত্র ৪ জন

সময়: ০৮:৫৭:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাহাঙ্গীর আলম মানিক,
সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি


নওগাঁর সাপাহারে করমুডাঙ্গা জোয়াকিয়া দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর চেয়ে দ্বিগুণ শিক্ষক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, শুধুমাত্র দশম শ্রেণিতে চারজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে একজন শিক্ষক পাঠদান করাচ্ছেন। বাকি সব শ্রেণিকক্ষে কোনো শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি। কাগজ-কলমে শত শত শিক্ষার্থী থাকলেও বাস্তবে এর কোনো মিল নেই। ১৫ জন শিক্ষকের পাঠদানের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানে রয়েছে মাত্র ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী। আছে শিক্ষক, আছে শ্রেণিকক্ষ—নেই শুধু শিক্ষার্থী।

প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সুপার মোজাম্মেল হকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাগজ-কলমে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৯৯ জন। এর মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ছাত্র ৫৮ জন ও ছাত্রী ১৪ জন, সপ্তম শ্রেণিতে ছাত্র ৩৭ জন ও ছাত্রী ৭ জন, অষ্টম শ্রেণিতে ছাত্র ৪৬ জন ও ছাত্রী ১৩ জন, নবম শ্রেণিতে ছাত্র ৪৬ জন ও ছাত্রী ৯ জন এবং দশম শ্রেণিতে ছাত্র ৬০ জন ও ছাত্রী ৯ জন। তবে এসব সংখ্যার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই বলে সরেজমিনে দেখা গেছে।

মাদ্রাসাটির নিকটবর্তী স্থানীয় জনসাধারণ জানান, মাদ্রাসায় ছাত্র-ছাত্রী না থাকার পরও শিক্ষকরা শিক্ষার্থী সংগ্রহের চেষ্টা না চালিয়ে মাসের পর মাস বেতন তুলে নিচ্ছেন। ১৫ জন শিক্ষক ও ৫ জন কর্মচারীর প্রতি মাসে বেতন বাবদ ৪ লাখ ৮১ হাজার ৮৫৬ টাকা দেওয়া হয়। শুধু সরকারের টাকা খরচই হচ্ছে না, এর মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানও ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

আরও জানা যায়, মাদ্রাসাটিতে আলিম শাখা ২০০১ সালে অনুমোদন পেলেও বর্তমানে এর কোনো কার্যক্রম নেই।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মোজাম্মেল হক বলেন, “সন্তোষজনক ফলাফল না হওয়ায় স্থগিত করে দিয়েছে।”

আরও পড়ুনঃ  ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ চার জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে

শিক্ষার্থী না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী আছে। কিন্তু কয়েকটি ক্লাস করার পর চলে যায়, আর আসে না। অনেকে টিফিন পিরিয়ডে একেবারে চলে যায়, আবার অনেকে বিভিন্ন অজুহাতে ছুটি নেয়।”

এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শামসুল কবিরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।