জাহাঙ্গীর আলম মানিক,
সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর সাপাহারে করমুডাঙ্গা জোয়াকিয়া দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর চেয়ে দ্বিগুণ শিক্ষক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, শুধুমাত্র দশম শ্রেণিতে চারজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে একজন শিক্ষক পাঠদান করাচ্ছেন। বাকি সব শ্রেণিকক্ষে কোনো শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি। কাগজ-কলমে শত শত শিক্ষার্থী থাকলেও বাস্তবে এর কোনো মিল নেই। ১৫ জন শিক্ষকের পাঠদানের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানে রয়েছে মাত্র ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী। আছে শিক্ষক, আছে শ্রেণিকক্ষ—নেই শুধু শিক্ষার্থী।
প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সুপার মোজাম্মেল হকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাগজ-কলমে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৯৯ জন। এর মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ছাত্র ৫৮ জন ও ছাত্রী ১৪ জন, সপ্তম শ্রেণিতে ছাত্র ৩৭ জন ও ছাত্রী ৭ জন, অষ্টম শ্রেণিতে ছাত্র ৪৬ জন ও ছাত্রী ১৩ জন, নবম শ্রেণিতে ছাত্র ৪৬ জন ও ছাত্রী ৯ জন এবং দশম শ্রেণিতে ছাত্র ৬০ জন ও ছাত্রী ৯ জন। তবে এসব সংখ্যার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই বলে সরেজমিনে দেখা গেছে।
মাদ্রাসাটির নিকটবর্তী স্থানীয় জনসাধারণ জানান, মাদ্রাসায় ছাত্র-ছাত্রী না থাকার পরও শিক্ষকরা শিক্ষার্থী সংগ্রহের চেষ্টা না চালিয়ে মাসের পর মাস বেতন তুলে নিচ্ছেন। ১৫ জন শিক্ষক ও ৫ জন কর্মচারীর প্রতি মাসে বেতন বাবদ ৪ লাখ ৮১ হাজার ৮৫৬ টাকা দেওয়া হয়। শুধু সরকারের টাকা খরচই হচ্ছে না, এর মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানও ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
আরও জানা যায়, মাদ্রাসাটিতে আলিম শাখা ২০০১ সালে অনুমোদন পেলেও বর্তমানে এর কোনো কার্যক্রম নেই।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মোজাম্মেল হক বলেন, “সন্তোষজনক ফলাফল না হওয়ায় স্থগিত করে দিয়েছে।”
শিক্ষার্থী না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী আছে। কিন্তু কয়েকটি ক্লাস করার পর চলে যায়, আর আসে না। অনেকে টিফিন পিরিয়ডে একেবারে চলে যায়, আবার অনেকে বিভিন্ন অজুহাতে ছুটি নেয়।”
এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শামসুল কবিরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
জাহাঙ্গীর আলম মানিক সাপাহার, নওগাঁ প্রতিনিধি 





















