রফিকুল ইসলাম, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও উসকানির প্রতিবাদে কুষ্টিয়ায় মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কুষ্টিয়ার নিকেতনে এ মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনটির কুষ্টিয়া জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন শীর্ষ নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। তিনি প্রকাশ্যে হুমকি, সহিংসতায় উসকানি, মিথ্যা অপপ্রচার ও নারীদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর বক্তব্য প্রদানকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের সাংবিধানিক অধিকার, মানবাধিকার এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।
ইমাম সেলিম বলেন, ওয়াজ-মাহফিলে, মসজিদের মিম্বরের মতো পবিত্র স্থানে দাঁড়িয়ে হেযবুত তওহীদের নামে মিথ্যাচার করে আসছে একটি উগ্রবাদী ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণি। সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করেও তারা হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। যারা হেযবুত তওহীদ সম্পর্কে জানেন না, তারা তাদের অপপ্রচারে প্রভাবিত হয়ে হেযবুত তওহীদের ওপর ক্ষুব্ধ হচ্ছেন।
এর আগে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে হেযবুত তওহীদের ইমামের গ্রামের বাড়িতে অরাজকতা সৃষ্টির চক্রান্ত হিসেবে ১০-১৫ দিন ধরে নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর অঞ্চলে মসজিদে মসজিদে উসকানিমূলক বয়ান এবং উগ্র প্রচারপত্র বিলি করা হয়। এমনকি ঢাকার উত্তরায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও উসকানিমূলক মিছিল নিয়ে এসে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রশাসন ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করার পরেও ওয়াজের নাম করে কাফের ফতোয়া দিয়ে সাধারণ মানুষকে উসকে দিচ্ছে উগ্রপন্থীরা—বক্তব্যে বলেন হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম।
বিগত ৩১ বছরে পাঁচ শতাধিক মামলায় আদালতে বেকসুর খালাস পাওয়া হেযবুত তওহীদ কখনো আইন অমান্য করেনি বলেও দাবি করেন তিনি। পক্ষান্তরে নিষিদ্ধের দাবি তোলা এই ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীর পরিচালিত মাদ্রাসা ও মসজিদেই ‘শিশু বলাৎকার, নির্যাতন ও মব’ সৃষ্টির মতো ভয়াবহ অপকর্মের সাক্ষী বাংলার জনগণ। সুতরাং বাংলার মাটিতে নিষিদ্ধ যদি করতে হয়, তবে এই কামুক, উগ্র, শিশু নির্যাতকদেরই করা উচিত। কওমি মাদ্রাসাগুলোতে চলমান শিশু নির্যাতন ও বলাৎকারের ঘটনা থেকে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের দৃষ্টিকে সরাতে এই পদ্ধতি বেছে নিয়েছে তারা—অভিযোগ করে বলেন তিনি।
আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ ধরনের উসকানি হেযবুত তওহীদের সদস্যদের জানমাল, বাড়িঘর ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করেছে। অতীতে ২০১৬ সালে আমার গ্রামের বাড়িতে হামলা চালিয়ে দুইজন সদস্যকে হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটিয়েছে; একই ধরনের সহিংসতার ক্ষেত্র আবারও তৈরি করা হচ্ছে।
একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সুনাগরিক হিসেবে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের সাংবিধানিক অধিকার, মানবাধিকার এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।
সবশেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন হেযবুত তওহীদের এই নেতা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় আমির তানভীর আহমেদ, কুষ্টিয়া আঞ্চলিক আমির মো. জসেব উদ্দিন, খুলনা অঞ্চলের আঞ্চলিক আমির শামসুজ্জামান মিলন, কেন্দ্রীয় বাণিজ্য সম্পাদক কাজী জাহিদুল হক, কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক আইনুল হক, কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি মো. আক্কাচ আলী, খুলনা বিভাগীয় গণমাধ্যম সম্পাদক জাহিদ মাহমুদ প্রমুখ।
Reporter Name 





















