শিক্ষা খাতে সংস্কার ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই পরিকল্পনা মূলত বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। মার্চ থেকে আগামী আগস্ট পর্যন্ত সময়কে সামনে রেখে মোট ৩৬টি কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা।
পরিকল্পনায় প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় দেশের সব স্তরের প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষককে অত্যাধুনিক ট্যাব দেওয়া হবে। এছাড়া ২০ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালু করা এবং ১ হাজার ৫০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াইফাই সংযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ফ্রি স্কুল ড্রেস’ দেওয়ার বিষয়টিও এই পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে, যা অনেকের কাছে একটি চমকপ্রদ প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এছাড়াও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের অংশ হিসেবে শিক্ষা টিভি চালু, শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন এবং তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা ৩৬টি কাজের বেশিরভাগই স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগ হলেও এর মধ্যে কিছু টেকসই প্রকল্পও রয়েছে, যা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তারা মনে করছেন, এই ১৮০ দিনের পরিকল্পনার অন্তত অর্ধেক বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে শিক্ষা খাতে নতুন গতি আসবে। এতে যেমন শিক্ষকরা উৎসাহিত হবেন, তেমনি শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বাড়বে আগ্রহ ও উদ্দীপনা।
তবে শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পনার অন্তত ৮০ শতাংশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে ভেঙে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা সম্ভব হবে। তবে এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ধীরগতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
উল্লেখ্য, বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ক্ষমতায় এলে প্রতিটি শিক্ষককে ট্যাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ১৮০ দিনের এই কর্মপরিকল্পনায় সেই প্রতিশ্রুতিকে গুরুত্ব দিয়েই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
Reporter Name 



























