
মোঃ সোহেল রানা, রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি:
বেকারত্ব, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের অভিশাপ থেকে রাঙ্গামাটিকে মুক্ত করে একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও সমৃদ্ধ পার্বত্য জেলা হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ নং আসন (রাঙ্গামাটি) থেকে ১১ দলীয় জোট ও ঐক্যের সমর্থনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এই প্রার্থী ইতোমধ্যে নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সাধারণ ভোটারদের মাঝে অভূতপূর্ব সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক (হাফি.) সাহেবের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক রাঙ্গামাটির বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে গণসংযোগ, পথসভা ও মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করছেন। এসব কর্মসূচিতে পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
গণসংযোগকালে আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “আমি ও আমার বাবা এই রাঙ্গামাটিরই আদি বাসিন্দা। এই পাহাড়, এই মাটি, এই মানুষ আমাদের রক্তের সঙ্গে মিশে আছে। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ভালোবাসা ও আস্থাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।” তিনি জানান, সম্প্রতি জুড়াইছড়িতে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন পাহাড়ি ভাই তাঁকে ফুলের মালা দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান, যা তাঁর প্রতি পাহাড়ের মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনেরই প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা, বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার। এখন তারা নতুন নেতৃত্ব, ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতি এবং বাস্তব পরিবর্তন চায়। সেই পরিবর্তনের পথচলায় তিনি নিজেকে একজন সেবক হিসেবে মানুষের পাশে রাখতে চান।
ভূমি সমস্যা সমাধান ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার
নির্বাচিত হলে পার্বত্য অঞ্চলের অন্যতম জটিল ও দীর্ঘদিনের সমস্যা ‘ভূমি সমস্যা’ সমাধানে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দেন আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি বলেন, “পাহাড়ের ভূমি সমস্যা কোনো একক সিদ্ধান্তে নয়, বরং ১৪টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ পাহাড়ি-বাঙালি সকল পক্ষের সাথে আলোচনা ও সম্মতির ভিত্তিতেই স্থায়ীভাবে সমাধান করতে হবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহাবস্থান ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে ভূমি সমস্যার সমাধানই পারে পাহাড়ে টেকসই শান্তি ফিরিয়ে আনতে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা চাই পাহাড়ি-বাঙালি সবাই মিলেমিশে একটি শান্ত, নিরাপদ ও সম্প্রীতির রাঙ্গামাটি গড়ে তুলতে। বিভেদ নয়, ঐক্যই হবে আমাদের রাজনীতির মূল শক্তি।”
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিদ্যুৎখাতে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি
রাঙ্গামাটির অনগ্রসর ও দুর্গম এলাকাগুলোতে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, মানসম্মত শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি এগোতে পারে না। প্রত্যন্ত পাহাড়ি গ্রামগুলোতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, শিক্ষকের সংকট নিরসন এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যসেবার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাঙ্গামাটির মানুষ যেন ন্যূনতম চিকিৎসার জন্য জেলা শহর বা চট্টগ্রামের দিকে ছুটতে বাধ্য না হয়, সে লক্ষ্যে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালগুলোর মান উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হবে।
এছাড়া তিনি প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “দেশের অন্যান্য জেলা যখন উন্নয়নের ছোঁয়ায় এগিয়ে যাচ্ছে, তখন রাঙ্গামাটি কেন পিছিয়ে থাকবে?” উন্নয়নের জোয়ার পাহাড়েও পৌঁছে দেওয়ার দৃঢ় আশ্বাস দেন তিনি।
কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব দূরীকরণে বাস্তব পরিকল্পনা
রাঙ্গামাটির বিপুল সম্ভাবনাময় ফল-ফলাদি ও কৃষিপণ্যের সঠিক বাজারজাতকরণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বেকারত্ব দূর করতে হিমাগার স্থাপন, ফল সংরক্ষণ কেন্দ্র ও ফ্রুট জুস ফ্যাক্টরি গড়ে তোলা হবে। এতে একদিকে যেমন কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবে, অন্যদিকে স্থানীয় যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি বলেন, “শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানই হবে আমাদের তারুণ্যের শক্তি। তরুণরা কাজ পেলে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ থেকে দূরে থাকবে।”
চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে কঠোর অবস্থান ইউপিডিএফ ও জেএসএস-এর চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে যদি শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয় এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে, তাহলে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের সহযোগিতায় যেকোনো মূল্যে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নির্মূল করা হবে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পাহাড়ের মানুষ আর জিম্মি হয়ে থাকতে চায় না। নিরাপদ জীবন ও স্বাধীনভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করার অধিকার নিশ্চিত করাই তাঁর রাজনীতির অন্যতম লক্ষ্য।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের অবদানের কথা স্মরণ করে আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ আমরা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক।” তিনি এই বীরদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আগামী দিনের বাংলাদেশ বিনির্মাণে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
সবশেষে তিনি বলেন, রাঙ্গামাটির মানুষ যদি তাঁকে সুযোগ দেয়, তবে তিনি এই পাহাড়ি জনপদকে বেকারত্ব, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত করে একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও মর্যাদাপূর্ণ রাঙ্গামাটি গড়ে তুলতে সর্বাত্মকভাবে কাজ করবেন।
Reporter Name 


























