মোঃ হাসান সারোয়ার ভুট্রো
নদী বিধৌত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা চাঁদপুর বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় জেলা হলেও নাগরিক সুবিধা ও পরিকল্পিত উন্নয়নের দিক থেকে এখনও অনেকখানি পিছিয়ে রয়েছে। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময়ে বিভিন্ন সরকারের আমলে চাঁদপুরের কৃতি সন্তানরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকলেও জেলার সামগ্রিক উন্নয়নে প্রত্যাশিত অগ্রগতি চোখে পড়েনি।
একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক-এর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করে চাঁদপুরের নাগরিক উন্নয়নে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।
প্রস্তাবিত উন্নয়ন পরিকল্পনা
১. ইচলি ঘাট ও আইডব্লিউটি সংযোগ সেতু নির্মাণ
ইচলি ঘাট নদী পারাপার স্থানে একটি সেতু এবং আইডব্লিউটি মোড় থেকে স্টার আলকায়েদা জুট মিল সংলগ্ন সড়ক পর্যন্ত আরেকটি সংযোগ সেতু নির্মাণ করা হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যান চলাচল আরও সহজ ও নিরাপদ হবে। এতে ফরিদগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত সময় ও দুর্ভোগ কমবে।
২. বাস টার্মিনাল স্থানান্তর ও বাইপাস সড়ক নির্মাণ
বর্তমান আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল শহরের প্রবেশমুখে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি করছে। এটি বাবুরহাট এলাকায় স্থানান্তর এবং স্বর্ণখোলা হয়ে বাবুরহাট হাইস্কুল পর্যন্ত বাইপাস সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে শহরের যানজট অনেকাংশে নিরসন সম্ভব।
৩. রেল যোগাযোগ আধুনিকায়ন
চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী মেঘনা এক্সপ্রেস ও সাগরিকা এক্সপ্রেস দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। আধুনিক, নিরাপদ ও দ্রুতগতির ট্রেন সংযোজনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
৪. কোর্ট স্টেশন স্থানান্তর
শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কোর্ট স্টেশনের কারণে কালীবাড়ি এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। তাই বড় স্টেশন পর্যন্ত রেল চলাচল সচল রেখে কোর্ট স্টেশনকে দর্জিঘাট এলাকায় স্থানান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে।
৫. ডাকাতিয়া নদী তীরবর্তী সড়ক নির্মাণ
ডাকাতিয়া নদীর উত্তর পাশ ঘেঁষে চৌধুরীঘাট থেকে আইডব্লিউটি মোড় পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ করা হলে শহরের অভ্যন্তরে ভারী যানবাহনের চাপ কমবে এবং যাত্রী চলাচল আরও নির্বিঘ্ন হবে।
৬. জলাধার সংস্কার ও নগর উন্নয়ন
জামতলা, নিশিবিল্ডিং, রেলওয়ে কাঁচা কলোনি ও হরিজন কলোনি এলাকায় ছোট-বড় বহু জলাধার রয়েছে, যা বর্তমানে অব্যবহৃত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে। এসব জলাধার পরিকল্পিতভাবে ভরাট ও উন্নয়ন করে সরকারি স্থাপনা, পর্যটন কেন্দ্র এবং আধুনিক আবাসন গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সালে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছিল এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড-কেও সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে সেই উদ্যোগ থেমে যায়।
৭. পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা
অপরিকল্পিত নগরায়ন, অপ্রশস্ত সড়ক, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও বিশুদ্ধ পানির সংকট বর্তমানে চাঁদপুরবাসীর বড় সমস্যা। তবে পরিচ্ছন্ন শহর গঠনে নুরুল আমিন খান আকাশ-এর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ইতোমধ্যে প্রশংসিত হয়েছে।
লেখক মনে করেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, পরিকল্পিত উদ্যোগ ও জনসম্পৃক্ত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে চাঁদপুরকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহরে রূপান্তর করা সম্ভব।
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা ইলিশের রাজধানী চাঁদপুর যেন অবহেলা কাটিয়ে উন্নয়নের আলোকবর্তিকায় উদ্ভাসিত হয়—এটাই জেলার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।
বিনীত,
মোঃ হাসান সারোয়ার ভুট্রো
বিল্ডার্স সোসাইটি
জে. এম. সেনগুপ্ত রোড, নতুন বাজার, চাঁদপুর।
Reporter Name 






















