
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় জায়গা ক্রয় করে বাড়ি নির্মাণ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন সৌদি আরব প্রবাসী আব্দুল হান্নান। চাঁদা না দেওয়ায় তার বাড়ির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আউশকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকিদকে প্রধান আসামি করে ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এছাড়া মামলা-হামলা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ওই প্রবাসী।
হবিগঞ্জের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি-৫ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন নবীগঞ্জ উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হান্নান। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নবীগঞ্জ থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। এরই মধ্যে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) দুলাল মিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের রুদ্রপুর মৌজায় প্রায় ১১০ শতক জমি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রাবেয়া খানম চৌধুরীর মালিকানাধীন। জমি বিক্রির জন্য মালিকপক্ষের প্রতিনিধি আমমোক্তার সৈয়দ আওরঙ্গজেবের সঙ্গে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় জমি ক্রয়ের চুক্তি করেন আব্দুল হান্নান। এ সময় তিনি ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা বায়না প্রদান করেন এবং পরে জমির দখল বুঝে নেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, সম্প্রতি ওই জমিতে বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিলে প্রধান আসামি জাকির হোসেন মুকিদ ও দ্বিতীয় আসামি আব্দুর রউফসহ অন্যরা ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
বাদীর অভিযোগ, গত ২ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে তিনি জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করতে গেলে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাকে বাধা দেন। এ সময় তারা ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর, গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ বিষয়ে সৌদি আরব প্রবাসী আব্দুল হান্নান বলেন, “বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে দেশে জায়গা কিনে এখন চরম হয়রানির শিকার হচ্ছি। ইউপি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুকিদসহ একটি চক্রকে চাঁদা না দেওয়ায় আমার বাড়ি নির্মাণে বাধা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপির নেতাদের দ্বারস্থ হয়েও কোনো সহযোগিতা পাইনি। বাধ্য হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “প্রবাসীরা দেশে এসে যদি এভাবে হয়রানির শিকার হন, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ দেশে বিনিয়োগ বা ঘরবাড়ি নির্মাণে আগ্রহী হবেন না।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত আউশকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকিদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার মেজ ভাইয়ের সঙ্গে আব্দুল হান্নানের জায়গা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তবে আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
তিনি আরও জানান, “সম্প্রতি আব্দুল হান্নান ওই জায়গায় নির্মাণকাজ শুরু করলে সত্তরের দশকে আমার বাবার নামে ডিক্রি থাকার কারণে আমার ভাই আদালতে ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করেন। পরে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করলে পুলিশ এসে তা বাস্তবায়ন করে।”
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৬ এপ্রিল বাড়ি নির্মাণে বাধা ও চাঁদা দাবির অভিযোগে এবং ২০ এপ্রিল জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন সৌদি আরব প্রবাসী আব্দুল হান্নান।
বুলবুল আহমেদ, নবীগঞ্জ, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি 






















