Dhaka ০৫:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
চুয়েটের প্রকৌশলী মকবুল হোসেনের ইশারায় সাংবাদিক পরিবার ভিটে মাটি ছাড়া মিরপুরে মাদক কারবারিকে ছাড়াতে গিয়ে আটক ৫ জনকে মুচলেকায় মুক্তি পাইকুরাটি ও সেলবরষ ইউনিয়নে কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এমপি কামরুল কালিয়াকৈরে গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে ৩ জনের মৃত্যু শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের পক্ষে আমরা নই : কুড়িগ্রামে ত্রাণমন্ত্রী নরসিংদীতে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত ধামইরহাটে ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক-বাজেট সভা অনুষ্ঠিত সাংবাদিকতার অধিকার রক্ষায় নতুন দিগন্ত: সরকারি নিবন্ধন পাওয়ায় ‘জাতীয় সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটি’র আনন্দ আয়োজন নবীগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় প্রবাসীর বাড়ির নির্মাণকাজে বাধা, বিএনপি নেতা সহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা বালিয়াডাঙ্গীতে কৃষি উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে “পার্টনার কংগ্রেস-২০২৬” অনুষ্ঠিত
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

১৮ বছর ধরে ফায়ার সার্ভিসের দখলে জমি, ক্ষতিপূরণ না পেয়ে দিশেহারা নূরনাহার বেগম

  • Reporter Name
  • সময়: ০৯:৫২:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • ১৯ Time View

 

বাদশা সেকেন্দার ভুট্টো
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:


নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় সরকারি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ক্ষতিপূরণ দীর্ঘ ১৮ বছরেও পাননি ভুক্তভোগী নূরনাহার বেগম। ভিটেমাটি হারিয়ে ন্যায্য পাওনার আশায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুরেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে এখন চরম হতাশা ও দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।

অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, ডিমলা উপজেলার বাবুরহাট মৌজার ১৭৭ নম্বর খতিয়ানের ৫৬৫ নম্বর দাগের ৩৩ শতাংশ জমি ২০০৭-২০০৮ অর্থবছরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়। এ সংক্রান্ত এল.এ কেস নম্বর-০৬/২০০৭-২০০৮।

ভুক্তভোগী নূরনাহার বেগম জানান, তৎকালীন সময়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতি শতাংশ জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল মাত্র ৪ হাজার ৩৮৩ টাকা, যা বাজারমূল্যের তুলনায় অত্যন্ত কম ছিল। তিনি ওই ক্ষতিপূরণ গ্রহণে অসম্মতি জানিয়ে ন্যায্য মূল্যের দাবি করলে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হন।

তার অভিযোগ, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই এবং পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান ছাড়াই প্রভাব খাটিয়ে তাকে পৈতৃক জমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। বর্তমানে সেই জমির ওপর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

নূরনাহার বেগম আরও জানান, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বরাবর একাধিকবার আবেদন করেও তিনি কোনো সুরাহা পাননি। তিনি বলেন, “জমি হারিয়ে আমি আজ নিঃস্ব। ১৮ বছর ধরে শুধু ক্ষতিপূরণের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। বর্তমানে ওই জমির বাজারমূল্য শতাংশপ্রতি কয়েক লাখ টাকা হলেও আজ পর্যন্ত আমি এক টাকাও পাইনি।”

তিনি দাবি করেন, জমি ছেড়ে দিতে বিভিন্ন সময় তার পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে এবং মিথ্যা মামলায়ও হয়রানি করা হয়েছে। স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন অনুযায়ী বিলম্বিত ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে বর্তমান বাজারমূল্যে অর্থ প্রদানের বিধান থাকলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বিষয়টি ঝুলে রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সাপাহারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩ লাখ টাকার বরাদ্দ, প্রশংসায় এমপি মোস্তাফিজুর রহমান

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, জমি হারানোর পর তারা বর্তমানে চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটের মধ্যে রয়েছেন। তারা জমির বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ এবং বিগত বছরের পাওনা পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় পথে বসা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকবে না বলেও কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি উন্নয়নের প্রয়োজনে জমি অধিগ্রহণ করা হলেও একজন সাধারণ নাগরিককে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত রাখা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অন্যায়। তারা দ্রুত বিষয়টির সমাধান দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

চুয়েটের প্রকৌশলী মকবুল হোসেনের ইশারায় সাংবাদিক পরিবার ভিটে মাটি ছাড়া

১৮ বছর ধরে ফায়ার সার্ভিসের দখলে জমি, ক্ষতিপূরণ না পেয়ে দিশেহারা নূরনাহার বেগম

সময়: ০৯:৫২:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

 

বাদশা সেকেন্দার ভুট্টো
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:


নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় সরকারি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ক্ষতিপূরণ দীর্ঘ ১৮ বছরেও পাননি ভুক্তভোগী নূরনাহার বেগম। ভিটেমাটি হারিয়ে ন্যায্য পাওনার আশায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুরেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে এখন চরম হতাশা ও দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।

অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, ডিমলা উপজেলার বাবুরহাট মৌজার ১৭৭ নম্বর খতিয়ানের ৫৬৫ নম্বর দাগের ৩৩ শতাংশ জমি ২০০৭-২০০৮ অর্থবছরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়। এ সংক্রান্ত এল.এ কেস নম্বর-০৬/২০০৭-২০০৮।

ভুক্তভোগী নূরনাহার বেগম জানান, তৎকালীন সময়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতি শতাংশ জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল মাত্র ৪ হাজার ৩৮৩ টাকা, যা বাজারমূল্যের তুলনায় অত্যন্ত কম ছিল। তিনি ওই ক্ষতিপূরণ গ্রহণে অসম্মতি জানিয়ে ন্যায্য মূল্যের দাবি করলে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হন।

তার অভিযোগ, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই এবং পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান ছাড়াই প্রভাব খাটিয়ে তাকে পৈতৃক জমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। বর্তমানে সেই জমির ওপর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

নূরনাহার বেগম আরও জানান, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বরাবর একাধিকবার আবেদন করেও তিনি কোনো সুরাহা পাননি। তিনি বলেন, “জমি হারিয়ে আমি আজ নিঃস্ব। ১৮ বছর ধরে শুধু ক্ষতিপূরণের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। বর্তমানে ওই জমির বাজারমূল্য শতাংশপ্রতি কয়েক লাখ টাকা হলেও আজ পর্যন্ত আমি এক টাকাও পাইনি।”

তিনি দাবি করেন, জমি ছেড়ে দিতে বিভিন্ন সময় তার পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে এবং মিথ্যা মামলায়ও হয়রানি করা হয়েছে। স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন অনুযায়ী বিলম্বিত ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে বর্তমান বাজারমূল্যে অর্থ প্রদানের বিধান থাকলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বিষয়টি ঝুলে রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সয়াবিন তেলের বোতলের ভিতর মাছি

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, জমি হারানোর পর তারা বর্তমানে চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটের মধ্যে রয়েছেন। তারা জমির বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ এবং বিগত বছরের পাওনা পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় পথে বসা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকবে না বলেও কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি উন্নয়নের প্রয়োজনে জমি অধিগ্রহণ করা হলেও একজন সাধারণ নাগরিককে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত রাখা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অন্যায়। তারা দ্রুত বিষয়টির সমাধান দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।