
মো. মেহেদী হাসান, ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি:
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় জামায়াত নেতা ও শিক্ষক জিল্লুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় এজাহারভুক্ত ১০ জনসহ অজ্ঞাত আরও ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ এজাহারভুক্ত এক আসামিসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে।
শুক্রবার (২২ মে) গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভাঙ্গুড়া থানার এসআই আলআমিন।
আহত জিল্লুর রহমান (৫০) উপজেলার দাশমরিচ গ্রামের বাসিন্দা এবং খানমরিচ ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি। তিনি পেশায় একজন শিক্ষক। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বজনদের দাবি, তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার দুজন হলেন দাশমরিচ এলাকার আয়নাল ও তার ছেলে হাফিজুর রহমান। তারা স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এর আগে খানমরিচ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ৮টার দিকে উপজেলার দাশমরিচ এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে ধারালো অস্ত্রধারীদের হামলায় গুরুতর আহত হন জিল্লুর রহমান। অভিযোগ ওঠে, স্থানীয় যুবক আব্দুর রহমান, স্বপন ও তাদের সহযোগীরা এ হামলা চালান।
তার দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে বাকবিতণ্ডার ঘটনার জেরে রাতে সংঘবদ্ধ হামলা করা হয়। প্রথমে হামলাকারীরা জিল্লুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে তার মাকে মারধর করে। পরে তাকে খুঁজতে বিভিন্ন স্থানে ঘোরার পর রাস্তায় পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
ঘটনার পর রাতেই পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য আলী আজগর দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ভাঙ্গুড়া থানা চত্বরে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তিনি দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সংসদ সদস্য আলী আজগর বলেন, “আমার নেতাকে কুপিয়ে মৃতপ্রায় করা হয়েছে। প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।”
এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার কর্মকর্তা সাকিউল আজম বলেন, “দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।”
মো. মেহেদী হাসান, ভাঙ্গুড়া, পাবনা 


















