মোঃ শফিয়ার রহমান, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি :
আদালতে দায়ের হওয়া মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেলেও তথ্য গোপন করে একটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে রোববার দুপুরে খুলনার পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলার কে.আর.আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বরখাস্ত হওয়া সহকারী শিক্ষক মিলন কুমার রায়।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনা হয়। এ ঘটনায় তাকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই একই বছরের ৮ নভেম্বর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।
এই বরখাস্তাদেশের বিরুদ্ধে তিনি আদালতে ২৮৫/২৪ নম্বর মামলা দায়ের করেন। মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ৩০ জুন ২০২৬ নির্ধারিত রয়েছে।
এদিকে, ওই ছাত্রীর অভিভাবকের মাধ্যমে ২০ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১৩৫/২৪ নম্বর একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটিতে প্রধান সাক্ষী ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজেই। পরে ওই মামলায় ২০২৫ সালের ২১ মে আদালত তাকে বেকসুর খালাস দেন বলে দাবি করেন শিক্ষক মিলন।
তিনি অভিযোগ করেন, আদালতে বিচারাধীন বিষয়টি গোপন রেখে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে যশোর শিক্ষা বোর্ডে অনলাইনে আবেদন করেন প্রধান শিক্ষক। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা বোর্ড ওয়েবসাইটে একটি নোটিশ প্রকাশ করে। তবে বিষয়টি তিনি অবগত ছিলেন না বলে দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করে। পরে ওই আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য বিদ্যালয় পরিদর্শক ও বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করা হলেও এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান বলেন, “বোর্ড তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে। আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। তবে তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন বলে শুনেছি, যদিও কোনো কাগজ দেখিনি।”
Reporter Name 




























