Dhaka ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
কালিগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা শেহবাজ শরিফকে ঘিরে ‘হত্যা পরিকল্পনার’ অভিযোগ তুললেন ইরানি আইনপ্রণেতা ‘সর্বজন তুষ্টির বাজেট বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ থাকবে’ : ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ নিউইয়র্কে ফিফা মিউজিয়াম : এক ছাদের নিচে বিশ্বকাপের ইতিহাস নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা দিচ্ছে সরকার : ধর্মমন্ত্রী ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলায় আতঙ্ক: নিখোঁজ ১১ হাজারের বেশি মানুষ আম বাণিজ্যে গতি আনতে রাজশাহীতে শনিবারও খোলা থাকবে ব্যাংকের শাখা মার্কেটিং বিভাগে নিয়োগ দেবে স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেড, আবেদন অনলাইনে জেন্ডায়ার পরনে ‘ব্যবহৃত’ টি-শার্ট, দাম মাত্র ৩৫ ডলার! সংসদে মুজিবুর রহমান ইকবালের প্রশ্ন: ‘মদ খেতেও নাকি লাইসেন্স লাগে, এটা কোন দেশের আইন’
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

লালমনিরহাট রেল ডিভিশনে প্রভাব বিস্তার ও অনিয়মের অভিযোগ: আলোচনায় সোহেল-সাইদুর

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন


 

লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগে কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার, বদলি বাণিজ্য, অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন রেলওয়ের ট্রাফিক বিভাগের অফিস সহকারী নুরুজ্জামান সরকার সোহেল এবং তার চাচা, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অফিস সহকারী সাইদুর ইসলাম।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। পরবর্তীতে এসব অভিযোগের সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক সাধারণ রেলকর্মচারীদের কাছ থেকে নানা তথ্য সংগ্রহ করেন। তবে অভিযোগগুলোর বেশিরভাগের স্বাধীন ও আনুষ্ঠানিক যাচাই এই প্রতিবেদকের পক্ষে সম্ভব হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, নুরুজ্জামান সরকার সোহেল লালমনিরহাট রেলওয়ে সদর দপ্তরের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কয়েকজন কর্মচারীর দাবি, তিনি ও তার ঘনিষ্ঠজনেরা বদলি, টেন্ডার এবং দাপ্তরিক বিভিন্ন বিষয়ে অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কিছু কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, সোহেল ও সাইদুরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা মিথ্যা মামলায় জড়ানোর আশঙ্কা থাকে। অভিযোগ রয়েছে, তারা রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করে রেখেছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে আদালতের রায় বা সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।

অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠে এসেছে যে, তাদের পরিবারের একাধিক সদস্য রেলওয়েতে কর্মরত রয়েছেন। কয়েকজন কর্মচারী দাবি করেন, পরিবারের সদস্যদের চাকরি, পদায়ন ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে একজন নারী কর্মচারীর কর্মস্থল ও দায়িত্ব পালনের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো লিখিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

কর্মচারীদের একটি অংশের অভিযোগ, বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো বিচারিক বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুনঃ  ভারতীয় স্বজনদের সহযোগিতায় কুমিল্লার চিওড়া থানার চৌধুরী পরিবারের ব্যাভিচারী মা ও হ্যাকার ছেলেদের বিকৃত যৌনাচার

স্থানীয়ভাবে প্রচলিত তথ্যমতে, ২০২০ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রংপুর কার্যালয়ে সোহেল ও সাইদুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগটি তদন্ত করা হয়েছিল কি না এবং তদন্তের ফলাফল কী ছিল, সে বিষয়ে দুদকের কোনো আনুষ্ঠানিক নথি এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।

রেলওয়ের কয়েকজন সাধারণ কর্মচারী নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, অভিযোগগুলো সত্য হলে অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধান, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং কর্মচারীদের নিরাপত্তা প্রদানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

প্রতিবেদকের মন্তব্য: নুরুজ্জামান সরকার সোহেল, সাইদুর ইসলাম, সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

কালিগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা

লালমনিরহাট রেল ডিভিশনে প্রভাব বিস্তার ও অনিয়মের অভিযোগ: আলোচনায় সোহেল-সাইদুর

সময়: ১০:১৬:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন


 

লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগে কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার, বদলি বাণিজ্য, অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন রেলওয়ের ট্রাফিক বিভাগের অফিস সহকারী নুরুজ্জামান সরকার সোহেল এবং তার চাচা, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অফিস সহকারী সাইদুর ইসলাম।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। পরবর্তীতে এসব অভিযোগের সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক সাধারণ রেলকর্মচারীদের কাছ থেকে নানা তথ্য সংগ্রহ করেন। তবে অভিযোগগুলোর বেশিরভাগের স্বাধীন ও আনুষ্ঠানিক যাচাই এই প্রতিবেদকের পক্ষে সম্ভব হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, নুরুজ্জামান সরকার সোহেল লালমনিরহাট রেলওয়ে সদর দপ্তরের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কয়েকজন কর্মচারীর দাবি, তিনি ও তার ঘনিষ্ঠজনেরা বদলি, টেন্ডার এবং দাপ্তরিক বিভিন্ন বিষয়ে অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কিছু কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, সোহেল ও সাইদুরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা মিথ্যা মামলায় জড়ানোর আশঙ্কা থাকে। অভিযোগ রয়েছে, তারা রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করে রেখেছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে আদালতের রায় বা সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।

অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠে এসেছে যে, তাদের পরিবারের একাধিক সদস্য রেলওয়েতে কর্মরত রয়েছেন। কয়েকজন কর্মচারী দাবি করেন, পরিবারের সদস্যদের চাকরি, পদায়ন ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে একজন নারী কর্মচারীর কর্মস্থল ও দায়িত্ব পালনের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো লিখিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

কর্মচারীদের একটি অংশের অভিযোগ, বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো বিচারিক বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুনঃ  সাপাহারে পূর্ব শত্রুতার জেরে দম্পতির ওপর হামলা, গুরুতর আহত

স্থানীয়ভাবে প্রচলিত তথ্যমতে, ২০২০ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রংপুর কার্যালয়ে সোহেল ও সাইদুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগটি তদন্ত করা হয়েছিল কি না এবং তদন্তের ফলাফল কী ছিল, সে বিষয়ে দুদকের কোনো আনুষ্ঠানিক নথি এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।

রেলওয়ের কয়েকজন সাধারণ কর্মচারী নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, অভিযোগগুলো সত্য হলে অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধান, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং কর্মচারীদের নিরাপত্তা প্রদানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

প্রতিবেদকের মন্তব্য: নুরুজ্জামান সরকার সোহেল, সাইদুর ইসলাম, সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।