Dhaka ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
চট্টগ্রামের রাজনীতিতে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব: বাস্তবতা, প্রত্যাশা ও সাংগঠনিক সমীকরণ জাহাজভাঙা শিল্পে নিরাপত্তাহীনতা রয়ে গেছে ‘শিক্ষার জয়যাত্রা ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত, সহযোগিতায় জাস ফাউন্ডেশন শহীদ জিয়াউর রহমানের গুণাবলীর সঙ্গে মানসিক সংযোগ স্থাপন করতে হবে শিক্ষা, সমাজসেবা ও নেতৃত্বে এক অনন্য পথিকৃৎ: হাফেজ মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ মুসা খান চট্টগ্রামে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম মেডিকেলে সাধারণ রোগীদের দালালের হাতে জিন্মি 🌙 মানব জীবন পত্রিকার পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক 🌙 সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য অপরাজয়ের সংগঠনকে সম্মাননা প্রদান সমাজ ও মানবসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে “ইসলামিক সেবক সম্মাননা” পেলেন মাওলানা মুহাম্মদ রজীবুল হক
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

জনগণের ঘরে চোরের বসবাস চলবে না

  • Reporter Name
  • সময়: ১২:১৯:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫
  • ২৯৫ Time View

?????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????

 

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক:

এই রাষ্ট্রে কে মালিক? সংবিধান বলে—জনগণ। বাস্তবে কি আমরা সেই মালিক? যখন একটি জাতির লক্ষ লক্ষ মানুষ খোলা আকাশের নিচে ঘুমায়, হাসপাতালের বারান্দায় মরতে মরতে পড়ে থাকে, তখন সেই রাষ্ট্রের কেন্দ্রস্থলে গণভবন, সংসদ ভবনের মতো বিলাসবহুল স্থাপনা মাসের পর মাস খালি পড়ে থাকে। যেসব ভবনের প্রতিটি ইট, কাঠ, লোহা—সবই আমাদের রক্তঘামে গড়া, সেখানে আজ বসবাস করে এমন কিছু মানুষ, যারা এই জাতির জন্য অভিশাপ ছাড়া আর কিছু নয়। দুর্নীতি, চাটুকারিতা আর পারিবারিক রাজনীতির সিঁড়ি বেয়ে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা কেবল রাষ্ট্রযন্ত্র দখল করেনি, দখল করেছে জাতির আত্মাও।
এই রাষ্ট্রের মূলধন আসে রিকশাচালক, গার্মেন্টস শ্রমিক, কৃষক, দোকানদার, শিক্ষক, সাধারণ নাগরিকের পরিশ্রম আর ট্যাক্স থেকে। মোবাইল রিচার্জে ট্যাক্স, চাল-ডাল কেনায় ট্যাক্স, এমনকি মৃত্যুর সনদ নিতেও ট্যাক্স। এই টাকায় চলে বিলাসবহুল সংসদ ভবন, শত একরজুড়ে নিরাপত্তাবেষ্টিত গণভবন। অথচ আজ এই ভবনগুলোতে থাকেন এমনসব মানুষ, যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না—ক্ষমতায় থাকে সেনাবাহিনী, পুলিশ, আমলা, দলীয় ক্যাডার ও দুর্নীতির জাল বুনে। এরা জনগণের মুখোমুখি আসে না, আদালতের মুখোমুখি দাঁড়ায় না, কোনো জবাবদিহি মানে না। কেবল রাষ্ট্রটাকে নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি ভাবে।
প্রশ্ন হলো—কেন এই ভবনগুলো ফাঁকা পড়ে থাকবে? যখন হাজারো মানুষ বস্তিতে, ড্রেনে, ফুটপাথে, রেলস্টেশনে রাত্রিযাপন করে? যেখানে একটা শীতের চাদর নেই, বাচ্চার জন্য একটা ওষুধ নেই, সেখানে এই নেতারা এসি রুমে শুয়ে কতোটা স্বাচ্ছন্দ্যে জাতির টাকা গিলে খাচ্ছে! কেন এসব ভবন সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত হবে না? মালিক তো জনগণ! তবে কেন মালিক আজ ঘরের বাইরে, আর চোরেরা ভেতরে?
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার জোয়ারে শেখ হাসিনার পতন হয়। গণভবন, সংসদ ভবনের মতো ‘অস্পর্শ্য’ স্থাপনাগুলিতে ঢুকে পড়ে হাজারো মানুষ। কারণ তারা বুঝে গেছে—এই রাষ্ট্রে আর কোনো ভরসা নেই। তারা কারো দয়ায় নয়, নিজেদের অধিকারে ঢুকেছে। প্রমাণ করে দিয়েছে—এই ভবন কারো পারিবারিক সম্পত্তি নয়। এগুলো করদাতা গরিব মানুষের মালিকানাধীন, যারা তিলে তিলে রাষ্ট্র গড়েছে, কিন্তু আজ রাষ্ট্র তাদের গিলে ফেলছে।
আমরা আর চুপ থাকবো না। আমরা আর চুপ থাকলে এই দুর্নীতির, বিচারহীনতার, চোর-রাজনীতির শেকড় আরও গভীরে প্রবেশ করবে। এই ‘নেতা’ নামধারী দুর্নীতিবাজরা দেশকে বিদেশে বিক্রি করে দেয়, নিজেদের ছেলেমেয়েদের লন্ডনে পাঠায়, অথচ দেশের কৃষক ধানের দাম পায় না, শ্রমিক ন্যায্য মজুরি পায় না, শিক্ষার্থী চাকরি পায় না। এই রাষ্ট্র কাদের জন্য? এই ভবন কাদের জন্য?
এখনই সময়—এই ভবনগুলো জনগণের জন্য খুলে দিতে হবে। হ্যাঁ, জনগণের। কারণ রাষ্ট্রের মালিকানা কেবল এক টুকরো ভোট নয়, এটি একটি সার্বক্ষণিক অধিকার। এই ভবনগুলোতে তৈরি হোক অস্থায়ী আবাসন, খোলা হোক কমিউনিটি কিচেন, প্রতিষ্ঠিত হোক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প। তবেই রাষ্ট্রের হর্তাকর্তারা বুঝবে, মানুষ কীভাবে বেঁচে থাকে। তবেই তারা বুঝবে, ক্ষমতা মানে সেবা, চুরি নয়।
গণভবন ও সংসদ ভবন জনগণের ঘর হোক—গৃহহীনদের নিরাপদ আশ্রয় হোক। সেখানে কোনো দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকের থাকার অধিকার নেই। যারা ভোট চুরি করে ক্ষমতায় আসে, জনগণের অর্থে বিলাস করে, দেশকে লুটপাটের অভয়ারণ্য বানায়, তাদের জন্য এই রাষ্ট্রে এক ফোঁটা সম্মান থাকা উচিত নয়। বরং তাদের জন্য দরকার খোলা আদালত, গণশাসনের কাঠগড়া।
এটি কোনো আবেগ নয়, এটি যুক্তি। অর্থনৈতিক যুক্তি—কারণ ট্যাক্স দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। নৈতিক যুক্তি—কারণ ঘরহীনদের চেয়ে বেশি অধিকার আর কারো নেই। সাংবিধানিক যুক্তি—কারণ রাষ্ট্র বলেছে, সব ক্ষমতার উৎস জনগণ। তাই এই দাবিটিকে কেউ অবজ্ঞা করলে, সেটা হবে রাষ্ট্রদ্রোহ। আমরা মালিক, আর রাষ্ট্র আমাদের সেবা না দিলে সেটা হবে জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা।
তাই আজ বলছি—এটা অনুরোধ নয়। এটি একটি আদেশ। জনগণের আদেশ। ভবনগুলো খুলে দিন। বিলাসব্যসন বন্ধ করুন। দুর্নীতিবাজদের বের করে দিন। জনগণের ঘর জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিন। নইলে যেভাবে রাজপথ দখল হয়েছে, সেভাবে ভবিষ্যতেও সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্র দখল হবে। কারণ মালিক যখন তার অধিকার ফিরে পায়, তখন আর কিছুই থামাতে পারে না।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামের রাজনীতিতে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব: বাস্তবতা, প্রত্যাশা ও সাংগঠনিক সমীকরণ

— রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক
সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
rahman.mridha@gmail.com

Tag :

চট্টগ্রামের রাজনীতিতে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব: বাস্তবতা, প্রত্যাশা ও সাংগঠনিক সমীকরণ

জনগণের ঘরে চোরের বসবাস চলবে না

সময়: ১২:১৯:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫

 

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক:

এই রাষ্ট্রে কে মালিক? সংবিধান বলে—জনগণ। বাস্তবে কি আমরা সেই মালিক? যখন একটি জাতির লক্ষ লক্ষ মানুষ খোলা আকাশের নিচে ঘুমায়, হাসপাতালের বারান্দায় মরতে মরতে পড়ে থাকে, তখন সেই রাষ্ট্রের কেন্দ্রস্থলে গণভবন, সংসদ ভবনের মতো বিলাসবহুল স্থাপনা মাসের পর মাস খালি পড়ে থাকে। যেসব ভবনের প্রতিটি ইট, কাঠ, লোহা—সবই আমাদের রক্তঘামে গড়া, সেখানে আজ বসবাস করে এমন কিছু মানুষ, যারা এই জাতির জন্য অভিশাপ ছাড়া আর কিছু নয়। দুর্নীতি, চাটুকারিতা আর পারিবারিক রাজনীতির সিঁড়ি বেয়ে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা কেবল রাষ্ট্রযন্ত্র দখল করেনি, দখল করেছে জাতির আত্মাও।
এই রাষ্ট্রের মূলধন আসে রিকশাচালক, গার্মেন্টস শ্রমিক, কৃষক, দোকানদার, শিক্ষক, সাধারণ নাগরিকের পরিশ্রম আর ট্যাক্স থেকে। মোবাইল রিচার্জে ট্যাক্স, চাল-ডাল কেনায় ট্যাক্স, এমনকি মৃত্যুর সনদ নিতেও ট্যাক্স। এই টাকায় চলে বিলাসবহুল সংসদ ভবন, শত একরজুড়ে নিরাপত্তাবেষ্টিত গণভবন। অথচ আজ এই ভবনগুলোতে থাকেন এমনসব মানুষ, যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না—ক্ষমতায় থাকে সেনাবাহিনী, পুলিশ, আমলা, দলীয় ক্যাডার ও দুর্নীতির জাল বুনে। এরা জনগণের মুখোমুখি আসে না, আদালতের মুখোমুখি দাঁড়ায় না, কোনো জবাবদিহি মানে না। কেবল রাষ্ট্রটাকে নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি ভাবে।
প্রশ্ন হলো—কেন এই ভবনগুলো ফাঁকা পড়ে থাকবে? যখন হাজারো মানুষ বস্তিতে, ড্রেনে, ফুটপাথে, রেলস্টেশনে রাত্রিযাপন করে? যেখানে একটা শীতের চাদর নেই, বাচ্চার জন্য একটা ওষুধ নেই, সেখানে এই নেতারা এসি রুমে শুয়ে কতোটা স্বাচ্ছন্দ্যে জাতির টাকা গিলে খাচ্ছে! কেন এসব ভবন সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত হবে না? মালিক তো জনগণ! তবে কেন মালিক আজ ঘরের বাইরে, আর চোরেরা ভেতরে?
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার জোয়ারে শেখ হাসিনার পতন হয়। গণভবন, সংসদ ভবনের মতো ‘অস্পর্শ্য’ স্থাপনাগুলিতে ঢুকে পড়ে হাজারো মানুষ। কারণ তারা বুঝে গেছে—এই রাষ্ট্রে আর কোনো ভরসা নেই। তারা কারো দয়ায় নয়, নিজেদের অধিকারে ঢুকেছে। প্রমাণ করে দিয়েছে—এই ভবন কারো পারিবারিক সম্পত্তি নয়। এগুলো করদাতা গরিব মানুষের মালিকানাধীন, যারা তিলে তিলে রাষ্ট্র গড়েছে, কিন্তু আজ রাষ্ট্র তাদের গিলে ফেলছে।
আমরা আর চুপ থাকবো না। আমরা আর চুপ থাকলে এই দুর্নীতির, বিচারহীনতার, চোর-রাজনীতির শেকড় আরও গভীরে প্রবেশ করবে। এই ‘নেতা’ নামধারী দুর্নীতিবাজরা দেশকে বিদেশে বিক্রি করে দেয়, নিজেদের ছেলেমেয়েদের লন্ডনে পাঠায়, অথচ দেশের কৃষক ধানের দাম পায় না, শ্রমিক ন্যায্য মজুরি পায় না, শিক্ষার্থী চাকরি পায় না। এই রাষ্ট্র কাদের জন্য? এই ভবন কাদের জন্য?
এখনই সময়—এই ভবনগুলো জনগণের জন্য খুলে দিতে হবে। হ্যাঁ, জনগণের। কারণ রাষ্ট্রের মালিকানা কেবল এক টুকরো ভোট নয়, এটি একটি সার্বক্ষণিক অধিকার। এই ভবনগুলোতে তৈরি হোক অস্থায়ী আবাসন, খোলা হোক কমিউনিটি কিচেন, প্রতিষ্ঠিত হোক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প। তবেই রাষ্ট্রের হর্তাকর্তারা বুঝবে, মানুষ কীভাবে বেঁচে থাকে। তবেই তারা বুঝবে, ক্ষমতা মানে সেবা, চুরি নয়।
গণভবন ও সংসদ ভবন জনগণের ঘর হোক—গৃহহীনদের নিরাপদ আশ্রয় হোক। সেখানে কোনো দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকের থাকার অধিকার নেই। যারা ভোট চুরি করে ক্ষমতায় আসে, জনগণের অর্থে বিলাস করে, দেশকে লুটপাটের অভয়ারণ্য বানায়, তাদের জন্য এই রাষ্ট্রে এক ফোঁটা সম্মান থাকা উচিত নয়। বরং তাদের জন্য দরকার খোলা আদালত, গণশাসনের কাঠগড়া।
এটি কোনো আবেগ নয়, এটি যুক্তি। অর্থনৈতিক যুক্তি—কারণ ট্যাক্স দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। নৈতিক যুক্তি—কারণ ঘরহীনদের চেয়ে বেশি অধিকার আর কারো নেই। সাংবিধানিক যুক্তি—কারণ রাষ্ট্র বলেছে, সব ক্ষমতার উৎস জনগণ। তাই এই দাবিটিকে কেউ অবজ্ঞা করলে, সেটা হবে রাষ্ট্রদ্রোহ। আমরা মালিক, আর রাষ্ট্র আমাদের সেবা না দিলে সেটা হবে জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা।
তাই আজ বলছি—এটা অনুরোধ নয়। এটি একটি আদেশ। জনগণের আদেশ। ভবনগুলো খুলে দিন। বিলাসব্যসন বন্ধ করুন। দুর্নীতিবাজদের বের করে দিন। জনগণের ঘর জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিন। নইলে যেভাবে রাজপথ দখল হয়েছে, সেভাবে ভবিষ্যতেও সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্র দখল হবে। কারণ মালিক যখন তার অধিকার ফিরে পায়, তখন আর কিছুই থামাতে পারে না।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামের রাজনীতিতে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব: বাস্তবতা, প্রত্যাশা ও সাংগঠনিক সমীকরণ

— রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক
সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
rahman.mridha@gmail.com