শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি:
পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসতেই খুলনার ডুমুরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার কামারপাড়াগুলো টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে। দিন-রাত হাতুড়ির আঘাত আর গনগনে আগুনে লোহা পিটিয়ে দা, বঁটি, ছুরি ও চাপাতি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। দম ফেলারও যেন ফুরসত নেই তাদের।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশু জবাই ও মাংস কাটার প্রধান সরঞ্জাম তৈরির কাজ এখন পুরোদমে চলছে। ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও কামারপট্টি ঘুরে দেখা গেছে, কয়লার ধোঁয়া, আগুনের উত্তাপ এবং হাতুড়ির টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে কামারশালাগুলো।
একদিকে নতুন সরঞ্জাম তৈরির কাজ চলছে, অন্যদিকে পুরোনো দা-ছুরি ও চাপাতিতে শান দেওয়ার ধুম পড়েছে। বাজারে আধুনিক যান্ত্রিক সরঞ্জামের ব্যবহার বাড়লেও পশু জবাই, চামড়া ছাড়ানো ও মাংস কাটার ক্ষেত্রে কামারদের হাতে তৈরি লোহার সরঞ্জামের কদর এখনো অটুট রয়েছে।
স্থানীয় কামারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লোহার মান ও ওজনভেদে ছোট ছুরি তৈরিতে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, বঁটি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, চাপাতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং বড় জবাইয়ের ছুরি তৈরিতে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পুরোনো সরঞ্জামে শান দিতে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
কামাররা জানান, বছরের অন্য সময় কাজ কম থাকলেও কোরবানির ঈদকে ঘিরেই তাদের প্রধান আয় হয়। সাধারণ সময়ে একজন কারিগর দৈনিক ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করলেও ঈদের মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়।
ডুমুরিয়ার বিভিন্ন হাটবাজারে স্থায়ী দোকানের পাশাপাশি অস্থায়ী কামার দোকানও বসেছে। কাজের চাপ সামাল দিতে অনেক জায়গায় মৌসুমি কারিগর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ডুমুরিয়া বাজার এলাকার কারিগর নিরাপদ কর্মকার (৪৫) বলেন,
“আমার দাদা ও বাবা এই পেশার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের কাছ থেকেই কাজ শিখেছি। সারা বছর তেমন কাজ থাকে না, তবে কোরবানির ঈদের সময় আয় ভালো হয়। এই সময়ের আয় দিয়েই সংসারের বড় খরচ মেটাই।”
পাচপোতা এলাকার এক কারিগর বলেন,
“কয়লার দাম বাড়ায় এবার খরচ কিছুটা বেশি। তারপরও দিন-রাত কাজ করছি, যাতে ঈদের আগেই সব অর্ডার বুঝিয়ে দিতে পারি। এখন আমাদের দম ফেলারও সময় নেই।”
মহিতোষ (৪০) নামের এক মৌসুমি কারিগর বলেন,
“আমি বাবার কাছ থেকে এই কাজ শিখেছি। নিজের দোকান না থাকলেও ঈদের সময় বিভিন্ন দোকানে কাজ করি। এই মৌসুমটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে ব্যস্ত ও আয়ের সময়।”
স্থানীয়দের মতে, কোরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কামারদের ব্যস্ততা। ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত চলবে তাদের এই নিরলস কর্মযজ্ঞ।
Reporter Name 




























