Dhaka ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
চট্টগ্রামে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম মেডিকেলে সাধারণ রোগীদের দালালের হাতে জিন্মি 🌙 মানব জীবন পত্রিকার পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক 🌙 সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য অপরাজয়ের সংগঠনকে সম্মাননা প্রদান সমাজ ও মানবসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে “ইসলামিক সেবক সম্মাননা” পেলেন মাওলানা মুহাম্মদ রজীবুল হক প্রবর্তক মোড়ে ছিনতাই, জনতার হাতে আটক সিএনজি চালক শোক সংবাদ কক্সবাজার আয়কর অফিসের সাবেক প্রধান সহকারী মোঃ ছাবের আহমদের দাফন সম্পন্ন প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, তরুণীকে ধাক্কা দিয়ে হত্যা রাজশাহীতে বিপুল পরিমাণ গাজা উদ্ধার আত্মহত্যার চেষ্টার পর মারা গেলেন বগুড়ার এএসআই রবিউল ইসলাম
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

মণিরামপুর পৌরসভায় উন্নয়ন কাজ স্থবির: ভোগান্তিতে নাজেহাল জনসাধারণের চলাচল

  • Reporter Name
  • সময়: ১২:৪৯:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬৩ Time View

 

মোঃ মাসুম বিল্লাল, স্টাফ রিপোর্টার:


যশোরের মণিরামপুর পৌরসভায় আইউজিআইপি (IUGIP) প্রকল্পের আওতায় সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ কাজ চরম ধীরগতিতে চলায় স্থবির হয়ে পড়েছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড,নির্ধারিত সময়ের বেশ কয়েক মাস অতিবাহিত হলেও কাজ শেষ না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,চলমান দুটি প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তৃতীয় প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পৌরবাসী। প্রকল্পের বিবরণ ও বর্তমান অবস্থা:পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, দুটি প্যাকেজের আওতায় ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আরসিসি,ডিবিসি এবং ইউনি-ব্লক পদ্ধতিতে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

প্রথম প্যাকেজ (সড়ক ও ড্রেন): এই প্যাকেজে ৬০৯,২০০ মিটার (তথ্যানুযায়ী) সড়কের পুনর্বাসন ও নির্মাণ কাজ এবং ৪টি স্থানে ২২৩১ মিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণের কথা,এর মধ্যে ৫ নং ওয়ার্ডের আকুঞ্জি মোড় থেকে তাহেরপুর পর্যন্ত ডিবিসি সড়ক,হাসপাতাল রোড থেকে কামালপুর পর্যন্ত ইউনি-ব্লক পেভমেন্ট এবং পাবলিক লাইব্রেরি থেকে ফাজিল মাদ্রাসা পর্যন্ত আরসিসি সড়ক অন্তর্ভুক্ত। তবে মাদ্রাসা রোডের ড্রেনের কাজ শুরু হয়ে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

১ নং ওয়ার্ড হাকোবা হরিহর নদী সংলগ্ন আজিম কাউন্সিলরের বাড়ির রোডের কাজ এখনো শুরুই হয়নি,এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ মোড় থেকে ঢাকুরিয়া রোড এবং দুর্গাপুর ঈদগাহ থেকে দোলখোলা মোড় পর্যন্ত কাজেরও কোনো অগ্রগতি নেই। দ্বিতীয় প্যাকেজ (JGIP/MONI+DR/02/2023): এই প্যাকেজের আওতায় ৩৭২৮ মিটার রাস্তা সংস্কার এবং ৩০৪৫ মিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণের টেন্ডার হয়েছে। এর মধ্যে ২ নং ওয়ার্ডের জয়নগর থেকে জামতলা মোড়, ৭ নং ওয়ার্ডের পোস্ট অফিস মোড় থেকে সাহাজাহান হোসেনের বাড়ি এবং ৯ নং ওয়ার্ডের বিজয়রামপুরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রয়েছে।

এখানেও অধিকাংশ স্থানে কাজ শুরু হয়নি অথবা আংশিক করে ফেলে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে মণিরামপুর বাজারের কাপড় পট্টি, কাঁচা বাজার ও কলাই পট্টি এলাকার ড্রেন নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন,ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি:পৌর প্রকৌশলী উত্তম মজুমদার জানান, প্রথম প্রকল্পের ঠিকাদার শামীম চাকলাদার (মণিরামপুর প্রতিনিধি মো. রয়েল) এবং দ্বিতীয় প্যাকেজের ঠিকাদার গোপালগঞ্জের মেসার্স কামরুল ইসলাম (মণিরামপুর প্রতিনিধি সিদ্দিকুর রহমান)। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে অন্তত ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। কাজের মেয়াদ এক বছর হলেও ইতিমধ্যে ৪ থেকে ৬ মাস অতিবাহিত হয়েছে।

কাজের গতি ফেরাতে প্রকল্প পরিচালক (PD) ইতিমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুইবার নোটিশ দিয়েছেন,জনদুর্ভোগ ও শঙ্কা:সরেজমিনে দেখা গেছে,অনেক জায়গায় রাস্তা খুঁড়ে রাখা হয়েছে, আবার কোথাও ড্রেন অর্ধেক করে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে রাস্তাগুলো। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঠিকাদারদের খামখেয়ালিপনায় তাদের প্রতিদিনের যাতায়াত ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। পৌর প্রকৌশলী আরও জানান, এই দুটি প্রকল্পের কাজ সন্তোষজনকভাবে শেষ না হলে তৃতীয় প্রকল্পের বরাদ্দ বা কাজ শুরু করা সম্ভব হবে না। ফলে ঠিকাদারদের অবহেলার দায় পুরো মণিরামপুর পৌরবাসীকে নিতে হচ্ছে। দ্রুত কাজ শুরু না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

চট্টগ্রামে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

মণিরামপুর পৌরসভায় উন্নয়ন কাজ স্থবির: ভোগান্তিতে নাজেহাল জনসাধারণের চলাচল

সময়: ১২:৪৯:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

 

মোঃ মাসুম বিল্লাল, স্টাফ রিপোর্টার:


যশোরের মণিরামপুর পৌরসভায় আইউজিআইপি (IUGIP) প্রকল্পের আওতায় সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ কাজ চরম ধীরগতিতে চলায় স্থবির হয়ে পড়েছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড,নির্ধারিত সময়ের বেশ কয়েক মাস অতিবাহিত হলেও কাজ শেষ না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,চলমান দুটি প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তৃতীয় প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পৌরবাসী। প্রকল্পের বিবরণ ও বর্তমান অবস্থা:পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, দুটি প্যাকেজের আওতায় ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আরসিসি,ডিবিসি এবং ইউনি-ব্লক পদ্ধতিতে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

প্রথম প্যাকেজ (সড়ক ও ড্রেন): এই প্যাকেজে ৬০৯,২০০ মিটার (তথ্যানুযায়ী) সড়কের পুনর্বাসন ও নির্মাণ কাজ এবং ৪টি স্থানে ২২৩১ মিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণের কথা,এর মধ্যে ৫ নং ওয়ার্ডের আকুঞ্জি মোড় থেকে তাহেরপুর পর্যন্ত ডিবিসি সড়ক,হাসপাতাল রোড থেকে কামালপুর পর্যন্ত ইউনি-ব্লক পেভমেন্ট এবং পাবলিক লাইব্রেরি থেকে ফাজিল মাদ্রাসা পর্যন্ত আরসিসি সড়ক অন্তর্ভুক্ত। তবে মাদ্রাসা রোডের ড্রেনের কাজ শুরু হয়ে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

১ নং ওয়ার্ড হাকোবা হরিহর নদী সংলগ্ন আজিম কাউন্সিলরের বাড়ির রোডের কাজ এখনো শুরুই হয়নি,এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ মোড় থেকে ঢাকুরিয়া রোড এবং দুর্গাপুর ঈদগাহ থেকে দোলখোলা মোড় পর্যন্ত কাজেরও কোনো অগ্রগতি নেই। দ্বিতীয় প্যাকেজ (JGIP/MONI+DR/02/2023): এই প্যাকেজের আওতায় ৩৭২৮ মিটার রাস্তা সংস্কার এবং ৩০৪৫ মিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণের টেন্ডার হয়েছে। এর মধ্যে ২ নং ওয়ার্ডের জয়নগর থেকে জামতলা মোড়, ৭ নং ওয়ার্ডের পোস্ট অফিস মোড় থেকে সাহাজাহান হোসেনের বাড়ি এবং ৯ নং ওয়ার্ডের বিজয়রামপুরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রয়েছে।

এখানেও অধিকাংশ স্থানে কাজ শুরু হয়নি অথবা আংশিক করে ফেলে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে মণিরামপুর বাজারের কাপড় পট্টি, কাঁচা বাজার ও কলাই পট্টি এলাকার ড্রেন নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন,ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি:পৌর প্রকৌশলী উত্তম মজুমদার জানান, প্রথম প্রকল্পের ঠিকাদার শামীম চাকলাদার (মণিরামপুর প্রতিনিধি মো. রয়েল) এবং দ্বিতীয় প্যাকেজের ঠিকাদার গোপালগঞ্জের মেসার্স কামরুল ইসলাম (মণিরামপুর প্রতিনিধি সিদ্দিকুর রহমান)। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে অন্তত ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। কাজের মেয়াদ এক বছর হলেও ইতিমধ্যে ৪ থেকে ৬ মাস অতিবাহিত হয়েছে।

কাজের গতি ফেরাতে প্রকল্প পরিচালক (PD) ইতিমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুইবার নোটিশ দিয়েছেন,জনদুর্ভোগ ও শঙ্কা:সরেজমিনে দেখা গেছে,অনেক জায়গায় রাস্তা খুঁড়ে রাখা হয়েছে, আবার কোথাও ড্রেন অর্ধেক করে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে রাস্তাগুলো। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঠিকাদারদের খামখেয়ালিপনায় তাদের প্রতিদিনের যাতায়াত ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। পৌর প্রকৌশলী আরও জানান, এই দুটি প্রকল্পের কাজ সন্তোষজনকভাবে শেষ না হলে তৃতীয় প্রকল্পের বরাদ্দ বা কাজ শুরু করা সম্ভব হবে না। ফলে ঠিকাদারদের অবহেলার দায় পুরো মণিরামপুর পৌরবাসীকে নিতে হচ্ছে। দ্রুত কাজ শুরু না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।