মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রতা, কাজের ধীরগতি এবং ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার অভিযোগ নিয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রকাশ্যে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী (এক্সেন) মো. আব্দুল আজিজ খান।
সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আফরোজা খান রিতা তাঁর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে একাধিক কঠোর মন্তব্য করেন। এর মাত্র চার দিন পরই স্থানীয় সরকার বিভাগের এক আদেশে তাকে খাগড়াছড়ি পৌরসভায় বদলি করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ১৪ জুন জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় মানিকগঞ্জ পৌরসভার চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়া, টেন্ডারকৃত কাজ দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা এবং জনদুর্ভোগ বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
এ সময় মন্ত্রী আফরোজা খান রিতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আপনাকে নিয়ে আগাতে পারবো না। আপনার যে কথাবার্তা, আপনার যে মেন্টালিটি, আপনি এই মানিকগঞ্জের জন্য কিছুই করতে পারবেন না। আপনি যে নেগেটিভ মাইন্ডে শুরু করেছেন; এই নেগেটিভ মাইন্ডের লোকদের কখনও পজিটিভ করা যায় না। সুতরাং এই বিষয়ে আমার অ্যাকশন নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি চাই ভালো লোক আসুক, ডাইনামিক লোক আসুক। সরকারি লোকদের তো চাকরি যাওয়ার ভয় থাকে না, ম্যাক্সিমাম ওএসডি হয়। তাহলে কাজ করতে অসুবিধা কী? আমার জনগণের টাকায় আপনার বেতন হয়। আমার জনগণ সেবা পাবে না আর আপনারা নিশ্চিন্তে বসে কাজ করে যাবেন, তা হবে না।”
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল আজিজ খান জানান, বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে ধীরগতির জন্য কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায় রয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে নানা জটিলতা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্রের দাবি, মন্ত্রী এ সময় কঠোর ভাষায় বলেন, জনগণের উন্নয়ন কাজ সময়মতো সম্পন্ন না হলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ব্যর্থ হলে তাদের দায়িত্বে রাখার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর মাত্র চার দিন পর স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-১ শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে মো. আব্দুল আজিজ খানকে মানিকগঞ্জ পৌরসভা থেকে খাগড়াছড়ি পৌরসভায় বদলি করা হয়।
একই আদেশে খাগড়াছড়ি পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলামকে মানিকগঞ্জ পৌরসভায় পদায়ন করা হয়েছে।
১৮ জুন জারি করা ওই আদেশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ২৮ জুনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। অন্যথায় তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত (Stand Released) বলে গণ্য হবেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারি আদেশে বদলির নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি—এটি সাধারণ প্রশাসনিক রদবদলের অংশ বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
মানিকগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত কাজের ধীরগতির কারণে ভোগান্তির অভিযোগ রয়েছে। নতুন নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন পৌরবাসী।
Reporter Name 




























