
মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নৌ-পথে বালিজুরী নৌ মালিক ও শ্রমিক কল্যাণ সংঘের নামে বেনামে সদস্য কার্ড দিয়ে মধ্যস্থভোগী সেজে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে ফাজিলপুর বিআইডব্লিউটিএ,খাস কালেকশন,উপজেলা প্রশাসনের টোল ট্যাক্স এর ইজারাদার মো ওয়াহেদ আলী আফিন্দি। তিনি সাচনাবাজার ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামের রজব আলী আফিন্দির ছেলে।
তাহিরপুর উপজেলার ফাজিলপুর টুল টেক্স,খাস কালেকশন,আবুয়া বিআইডব্লিউটিএ,দূর্লভপুর বিআইডব্লিউটিএ ইজারাদার সরকার নিধারিত হারে টোল আদায় করছে এমনটি বলেছেন মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজের নৌ-শ্রমিক শরিফুল ইসলাম।
ভীমখালী ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা হাসেন আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমি নৌ পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের সাথে জড়িত আছি। নৌ শ্রমিকদের দাবি দাওয়া আদায়ে যে কোন আন্দোলন সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়েছি। আমার শ্রমিকরা সর্বদাই নৌ পথে বৈধভাবে রশিদের মাধ্যমে টোল ট্যাক্স দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। ঝালুরটেক এলাকায় রেকর্ডীয় ভূমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় পাড় ধসে বালু চাপায় এক শ্রমিকের মৃত্যু এবং একই স্থানে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় ২/৩ ধরে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিআইডব্লিউটিএ ও টোল ট্যাক্স সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত ইজারাদাররা সরকার নিধারিত হারে আমাদের কাছ থেকে কোন সময়েই অতিরিক্ত টোল ট্যাক্স আদায় করেননি। কিন্তু
নৌপথে বালিজুরী নৌ মালিক ও শ্রমিক কল্যাণ সংঘের মূল হোতা ফ্যাসিস্ট চিকসা সরকারি প্রাঃ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু নাসের,সংঘটনের সভাপতি শফিউল ইসলাম
সদস্য কার্ড দিয়ে চাঁদাবাজি করছে।
বালিজুড়ী ইউনিয়নের পুরান বারুঙ্কা গ্রামের মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজের সুকানী বলেন,সরকার নির্ধারিত চার্ট অনুসারে আমরা বিআইডব্লিউটিএ,উপজেলা টুল ট্যাক্স,খাস কালকশন ঘাটে টুল দিয়ে যাচ্ছি। এমপি সাহেব এবং উপজেলা প্রশাসন নদীতে মাইকিং করার পর থেকে সরকার নিধারিত হারে টুল দিচ্ছি। বালিজুরী নৌ মালিক ও শ্রমিক কল্যাণ সংগঠনের কিছু সংখ্যক শ্রমিক নেতারা অর্থের বিনিময়ে সদস্য কার্ড বিক্রি করে সুকানীদের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলছেন এই কার্ড সাথে থাকলে ইজারাদার ৩০ পয়সা টুল নিব। এতে করে ইজারাদাররা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।
সাচনাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ব্যবসায়ি জয়নাল আবেদীন কাঁচা মিয়া বলেন,জন্মলগ্ন থেকেই আমরা নদী তীরের বাসিন্দারা নৌ পথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। বিআইডব্লিউটিএ এবং উপজেলা প্রশাসনের টোল ট্যাক্স এর ইজারাদার যে ব্যক্তিই হোক না কেন আমাদের শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টোল নেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। সরকার নিধারিত হারের চেয়ে অনেক কম টোল আমরা দিয়ে থাকি। ৫ আগষ্টের পর থেকে নৌপথে তেমন বেশি নৌকা আসে না। উচ্চ আদালতে পাল্টা-পাল্টি মামলা এবং প্রাকৃতিক দূর্যোগ সক্রান্ত জটিলতার কারণে এবছর নদী মাসের পর মাস প্রশাসনের নির্দেশে নদী বন্ধ থাকায় সরকারকে দেওয়া রাজস্বের অর্ধেক টাকাই উত্তোলন করা সম্ভব হবে না।
বালিজুরী গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নৌকার সুকানী বলেন, অতিরিক্ত টুল নেওয়ার কারণে বালিজুরী নৌ মালিক ও শ্রমিক সংঘটন থেকে নগদ এক হাজার টাকা দিয়ে সদস্য কার্ড নিয়েছি।
ফাজিলপুর টুল টেক্স,আবুয়া বিআইডব্লিউটিএ,দূর্লভপুর বিআইডব্লিউটিএ,খাস কালেকশন,পাটলাই বিআইডব্লিউটিএর ইজারাদারগণ বললেন,বিআইডব্লিউটিএ, উপজেলা টুল ট্যাক্স ঘাট ইজারা নিয়েছি আমরা। অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা আরো বলেন,বালিজুরী নৌ মালিক ও শ্রমিক কল্যাণ সংঘের মূল হোতা চিকসা সরকারি প্রাঃ বিঃ প্রধান শিক্ষক আওয়ামী লীগ নেতা আবু নাসের ও সংগঠনের সভাপতি শফিউল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক গংরা ৫/৭ হাজার টাকার বিনিময়ে সংগঠনের সদস্যদের সদস্য কার্ড দিয়ে মধ্যস্থভোগী সেজে নদীতে অবৈধভাবে শ্রমিকদের দিয়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেছে। তাদের দাবি না মানলে মানববন্ধন,সভা সমাবেশ সহ আমাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশেরও হুমকি দেয়।আমাদেরকে ক্ষতিগ্রস্থ করার উদ্যেশে এমনটি করছেন।
চিকসা গ্রামের অভিভাবক সদস্য জানান, ৫ আগষ্টের পর থেকে প্রধান শিক্ষক আবু নাসির নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। মনগড়া ভাবে মাঝে মধ্যে বিদ্যালয়ে এসেই স্বাক্ষর দিয়ে মিটিংয়ের কথা বলে চলে যান। কেউ প্রতিবাদ করলেই কর্তৃপক্ষ জানানোর হুমকি দেন।
বালিজুরী নৌ মালিক ও শ্রমিক কল্যাণ সংঘের সভাপতি শফিউল ইসলাম বলেন,ফাজিলপুর টুল টেক্স,আবুয়া বিআইডব্লিউটিএ,খাস কালেকশন ঘাটে অতিরিক্ত টোল আদায় করায় আমরা ২৫১ জন শ্রমিক ও ব্যবসায়ির একটি তালিকা ইজারাদারকে দিয়ে বলেছি সরকার নিধারিত হারে টুল নেওয়ার জন্য। সদস্যদের কাছ থেকে আর্থিক লেনদেন এর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন সদস্যদের কাছ থেকে আমরা কোন টাকা নেই না।
চিকসা সরকারি প্রাঃ বিঃ প্রধান শিক্ষক আবু নাসির বলেন, ভাই আপনি বলেন তো আমি কি করি,আপনার পরিচয় গণমাধ্যমকর্মী,বালিজুরী নৌ মালিক ও শ্রমিক কল্যাণ সংঘ কর্তৃক সদস্য কার্ড দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার জবাবে তিনি আরো বলেন,যা পারেন আমার বিরুদ্ধে লিখেন। পাশাপাশি ইউএনও সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, অনেক শ্রমিকদের সদস্য কার্ডে সংগঠনের সভাপতি সম্পাদকের সীল-স্বাক্ষর নেই সেগুলি কি বৈধ না অবৈধ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সে বিষয়ে আমাদের সংগঠনের সভাপতি জানেন। সদস্য কার্ড নিয়ে কোন নৌ শ্রমিক নদী দিয়ে চলাচল করলে তাদের কাছ থেকে সরকার নিধারিত মূল্যর চেয়ে কম টুল ট্যাক্স আদায়ের জন্য ইজারাদারকে বলেছি। কোন সদস্যের কাছ থেকে নগদ টাকা পয়সা নেওয়া হয় না।
তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো আমিনুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তাহিরপুর উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা মো মেহেদী হাসান মানিক বললেন, বালিজুরী নৌ- মালিক ও শ্রমিক কল্যাণ সংগঠনের অভিযোগের বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে শ্রমিকদের সদস্য কার্ড দিয়ে নৌযান চলাচলে ইজারাদারকে হয়রানি সহ রাজস্ব বঞ্চিত করছে। ইজারাদার যদি এ বিষয়ে অভিযোগ করে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Reporter Name 






















