মো. শান্ত খান,
সাভার প্রতিনিধি
সাভারে বাংলাদেশ জিপার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির বড় একটি অংশ দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। নিজের জমি মাপঝোক করে সীমানা বুঝিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কিশোর বাবুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী এস এম আব্দুল মান্নান (৫৫)।
জমি দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এনে গত ১৭ আগস্ট সাভার মডেল থানায় বাংলাদেশ জিপার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের এমডি কিশোর বাবুসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমের কাছে নিজের অভিযোগ তুলে ধরে এস এম আব্দুল মান্নান বলেন, তিনি কারও জমি দখল করতে চান না, কারও ক্ষতিও করতে চান না। তিনি শুধু নিজের বৈধ সম্পত্তির অধিকার ফিরে পেতে চান। এ জন্য তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনগত প্রতিকার দাবি করেছেন।
৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে এস এম আব্দুল মান্নান উল্লেখ করেন, সাভার মডেল থানাধীন গেদ্দা মৌজায় সিএস, এসএ, আরএস ও বিএআরএস রেকর্ডভুক্ত কারখানা-সংলগ্ন ১৫ দশমিক ১৮ শতাংশ জমির মধ্যে ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ জমি তিনি বায়না দলিলের মাধ্যমে নিজের বলে দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছেন।
তাঁর অভিযোগ, জমিটি সঠিকভাবে মাপঝোক করতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, বাংলাদেশ জিপার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পক্ষে কারখানার দায়িত্বে থাকা লোকজন তাঁর জমির একটি বড় অংশ দখল করে রেখেছেন।
জমির সঠিক সীমানা নির্ধারণ করে বিরোধের সমাধানের জন্য তিনি কারখানাটির এমডি কিশোর বাবুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। অভিযোগকারীর দাবি, কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন সময়ে ফোন করলেও কিশোর বাবু তাঁর ফোন রিসিভ করেননি।
জমিতে গিয়ে ‘হুমকি’র অভিযোগ
অভিযোগে এস এম আব্দুল মান্নান আরও উল্লেখ করেন, গত ১৭ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি নিজের জমিতে গেলে সেখানে বাংলাদেশ জিপার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের এমডি কিশোর বাবুকে দেখতে পান।
এ সময় তিনি তাঁর জমি মাপঝোক করে সীমানা বুঝিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। অভিযোগকারীর দাবি, তখন কিশোর বাবুসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জন তাঁকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেন।
ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেন তিনি। তবে কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন বলে জানান এস এম আব্দুল মান্নান।
‘আমি জানি না, তাঁর ক্ষমতার উৎস কোথায়’
নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে এস এম আব্দুল মান্নান বলেন, “আমি জানি না, তাঁর ক্ষমতার উৎস কোথায়। কীভাবে একজন সাধারণ মানুষের জমি দখল করে রাখা হয়েছে, সেটিও আমার বোধগম্য নয়। আমি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। এই কারখানার মালিকের কাছে আমি যেন জিম্মি হয়ে আছি।”
তিনি বলেন, নিজের জমির অধিকার ফিরে পেতে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও প্রত্যাশিত প্রতিকার পাননি। এখন প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি।
‘তারেক রহমানের কাছে আমার একটাই দাবি’
এস এম আব্দুল মান্নান বলেন, “বর্তমান সরকারের কাছে, বিশেষ করে তারেক রহমানের কাছে আমার একটাই দাবি—আমি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী হিসেবে যেন ন্যায়বিচার পাই। কারও ক্ষমতা বা প্রভাবের কাছে একজন সাধারণ মানুষ যেন জিম্মি হয়ে না থাকে। আমার অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্য ঘটনা বের করা হোক।”
তিনি আরও বলেন, “আমি কারও জমি চাই না, কারও ক্ষতি করতে চাই না। শুধু আমার নিজের সম্পত্তির অধিকার চাই। যদি আমার অভিযোগের সত্যতা থাকে, তাহলে যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
কার ক্ষমতার জোরে জমি দখল?
একজন সাধারণ ব্যবসায়ীর জমি যদি সত্যিই দখল করে রাখা হয়ে থাকে, তাহলে এর পেছনে কারও প্রভাব বা ক্ষমতা কাজ করছে কি না—এ প্রশ্নও তুলেছেন অভিযোগকারী।
বাংলাদেশ জিপার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মালিকপক্ষ বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কোনো প্রভাব রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তবে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দলিলপত্র, সিএস-এসএ-আরএস-বিএআরএস রেকর্ড, বায়না দলিল এবং সরেজমিনে জমির সীমানা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ জিপার ইন্ডাস্ট্রিজের বক্তব্য
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জিপার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কিশোর বাবুর বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাঁর…
Reporter Name 





















