সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ |
কলকাতার এসপ্ল্যানেড ইস্ট রোড সংলগ্ন ৪ নম্বর ডেকারস লেনের একটি পুরোনো তিনতলা বাড়ির অর্ধেক অংশ হুড়মুড় করে ধসে পড়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাড়িটির অর্ধেক অংশ ভেঙে পড়ার পর পুরো ভবনজুড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। বাড়িটির বাকি অংশও হেলে পড়েছে বলে জানা গেছে। জনবহুল ডেকারস লেনে এ ধরনের একটি পুরোনো ভবন ধসে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, ডেকারস লেনে প্রতিদিন অফিসগামী মানুষের ব্যাপক চলাচল থাকে। ওই ভবনে একটি বার, টেইলারিংয়ের দোকান ও একটি রেস্টুরেন্ট ছিল। অফিস চলাকালীন এসব দোকানে নিয়মিত মানুষের যাতায়াতও ছিল।
তবে ১৫ আগস্ট সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় অধিকাংশ অফিস বন্ধ ছিল এবং অনেক দোকানপাটও বন্ধ ছিল। ফলে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
বাড়িটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক লেখকের বেশ কিছু বই ও ব্যক্তিগত সামগ্রী ভবনের ভেতরে আটকে রয়েছে। তিনি জানান, তার লেখা প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০টি বই ছাড়াও জামাকাপড়, আধার কার্ড, প্যান কার্ডসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভবনের ভেতরে রয়ে গেছে। ওই বাড়িতে কর্মরত কয়েকজনের সামগ্রীও ভেতরে আটকে পড়েছে বলে জানা গেছে।
বাড়িটি ধসে পড়ার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হেয়ার স্ট্রিট থানায় ও কলকাতা পুরসভায় খবর দেন। পরে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়িটির চারপাশে ব্যারিকেড দিয়ে দেয়, যাতে সাধারণ মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করতে না পারেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরসভার কর্মীরা ঘটনাস্থলে এলেও বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তার দেখা মেলেনি। ফলে ভবনের ধসে পড়া অংশ অপসারণের কাজও শুরু করা সম্ভব হয়নি বলে তারা জানান।
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা ভবনটিতে কীভাবে একটি বারসহ একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চলছিল। ভবনটির বিভিন্ন অংশে আগে থেকেই ফাটল ও জীর্ণতার চিহ্ন ছিল বলে স্থানীয়দের দাবি।
এ ঘটনায় পুরসভা বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কি না, কিংবা ভবনটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ অবগত ছিল কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় দোকানদারদের আশঙ্কা, কর্মদিবসে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারত। ছুটির দিনে অধিকাংশ দোকান ও অফিস বন্ধ থাকায় এবার বড় ধরনের বিপদ এড়ানো গেছে বলে তারা মনে করছেন।
ঘটনার পর বাড়িটির অবশিষ্ট অংশও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নিরাপত্তার কারণে পুলিশ এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছে।
Reporter Name 



























