Dhaka ০৭:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
ইতিহাস গড়লেন ‘বাঘা’ শরীফ নরসিংদীর শিবপুরে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের নমুনা শস্য কর্তন উৎসবের উদ্বোধন ভূরুঙ্গামারীতে স্ত্রীকে আনতে গিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতন যুবকের মৃত্যু বেতবুনিয়া কলেজ কর্তৃক আয়োজিত কলেজ এর সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে অংশীদারদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত আদমদীঘিতে নিখোঁজ মেয়েকে পেতে গৃহবধূকে চাপ; পরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ! মল্লিকেরবেড়ের জাহিদুল গ্যাংয়ের জাহিদুল র‍্যাবের হাতে আটক শান্তিগঞ্জে হরিলুট হচ্ছে ৩ ফসলি জমির মাটি, বিক্রি হচ্ছে ইটভাটায় চট্টগ্রামের ল্যাবএইডে চিকিৎসায় অবহেলার কারণে ডাক্তারের ছেলের মৃ/ত্যু, এমন দাবী করছে তার পরিবার শিক্ষায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতি: ‘শেরে বাংলা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন প্রফেসর ড. শেখ আসিফ এস. মিজান সু-সন্তান নির্মানে! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী’র ১০টি নির্দেশনা বাবা মায়ের মেনে চলা উচিৎ! 
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ক্যান্সারকে জয় করে আজ অদম্য নারী উদ্যোক্তা তানজিলা সুলতানা

  • Reporter Name
  • সময়: ০২:২১:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
  • ২৩৫ Time View

 

ই হক তৈয়ব:

ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বসবাসকারী তানজিলা সুলতানা এক অনুপ্রেরণার নাম। বাবা হাজী আব্দুস ছাত্তার ও মা হাজী জরিনা বেগমের সন্তান তানজিলার স্থায়ী ঠিকানা জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি। জীবন তাকে কঠিন এক পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল ক্যান্সারের মতো মারণব্যাধি দিয়ে। কিন্তু সেই লড়াইয়ে তিনি থেমে যাননি। দীর্ঘ চিকিৎসা ও মানসিক চাপের মধ্যেও তানজিলা সুলতানা ভেঙে পড়েননি। অসুস্থতার সময়ই নিজের ভেতরের শক্তিকে নতুনভাবে চিনেছেন। সুস্থতার পথে ফিরেই শুরু করেন স্বাবলম্বী হওয়ার সংগ্রাম। ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন নিজের উদ্যোগ, প্রতিষ্ঠিত হন একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে। আজ তানজিলা সুলতানা শুধু নিজের জীবনের মোড় ঘোরাননি, আশপাশের বহু নারীর জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন। যার ফলে তিনি একজন অদম্য নারী উদ্যোক্তা হিসেবে সমাজে প্রশংসিত, পরিচিত ও  প্রতিষ্ঠিত। তাঁর গল্প প্রমাণ করে, শারীরিক অসুস্থতা কিংবা সামাজিক বাধা চূড়ান্ত পরাজয় নয়। সাহস, ধৈর্য আর পরিশ্রম থাকলে যে কেউ ঘুরে দাঁড়াতে পারে। ক্যান্সারকে জয় করে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা তানজিলা সুলতানার পথচলা আমাদের সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তাই দেয়। এই অদম্য নারী উদ্যোক্তা মানবজীবনের মুখোমুখী হন। তার কথোপকথন পঠকের উদ্দেশ্যে-

মানবজীবন: জন্ম সাল ও জন্মস্থান কবে কোথায়?

তানজিলা সুলতানা: আমার জন্ম ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ সালে, জামালপুর জেলার সরিষাবাড়িতে। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে সিরাজগঞ্জ জেলার নাটুয়ারপাড়ায়।

মানবজীবন: শিক্ষাজীবন শুরু ও শেষ প্রতিষ্ঠান ?

তানজিলা সুলতানা: আমি ১৯৯৪ সালে নাটুয়ারপাড়া কে বি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করি। এইচএসসি সম্পন্ন করি মাহমুদা সালাম মহিলা কলেজ, সরিষাবাড়ি, জামালপুর থেকে। বিএসএস করেছি মাহমুদা সালাম মহিলা কলেজ সরিষাবাড়ি জামালপুর থেকে (এছাড়াও টঙ্গী সরকারি কলেজে অধ্যয়ন করেছি)।

এমএসএস সম্পন্ন করি ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ, চৌরাস্তা, গাজীপুর থেকে।পরবর্তীতে ২০০৫ সালে শিক্ষক নিবন্ধন (প্রভাষক) অর্জন করি।

মানবজীবন: বিয়ে ও সংসার। কবে, কিভাবে?

তানজিলা সুলতানা: এইচএসসি পরীক্ষার পরপরই আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পরপরই সংসারের বাস্তব দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়ে। শ্বশুরবাড়িতে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া মোটেও সহজ ছিল না। সংসারের কাজ, সন্তান লালন-পালন এবং পড়াশোনা—সবকিছু একসাথে সামলাতে হয়েছে। অনেক সময় গভীর রাতে বা কাজের ফাঁকে ফাঁকে পড়াশোনা করতে হতো। তবুও আমি কখনো পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবিনি। প্রতিকূলতার মধ্যেই আমার সংসার ও শিক্ষাজীবন একসাথে এগিয়ে গেছে।

আরও পড়ুনঃ  ভাঙ্গুড়ায় এস এস সি সমমান পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন উপজেলা প্রশাসনের

মানবজীবন: নারী উদ্যোক্তা হওয়ার শুরুর গল্পটা বলেন।

তানজিলা সুলতানা: নারী উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে আমার গল্পটা মূলত জীবন সংগ্রামের গল্প। ২০১৭ সালে স্বামীকে হারানোর পর আমি একেবারেই দিশেহারা হয়ে পড়ি। একমাত্র সন্তানকে নিয়ে জীবন চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। তখন বুঝতে পারি, পরনির্ভরশীল হয়ে থাকলে সামনে এগোনো সম্ভব নয়। মাত্র ৪,২০০ টাকা পুঁজি নিয়ে অনলাইনে ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করি। তখন ফেসবুক বা অনলাইন ব্যবসা সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণাই ছিল না। নিজে নিজেই শিখেছি, হেঁটে হেঁটে মার্কেট ঘুরেছি, অর্ডার এনে কাস্টমারের হাতে পৌঁছে দিয়েছি। ২০১৮ সালে “Tanjila’s Collection” নামে আমার উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। সীমিত সামর্থ্য আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি দিয়েই আমার উদ্যোক্তা জীবনের সূচনা।

মানবজীবন: আপনার প্রতিষ্ঠানের পন্যগুলো কি কি?

তানজিলা সুলতানা: আমার প্রতিষ্ঠানের পন্যগুলো হচ্ছে-১. নিজস্ব ডিজাইনের ব্লকপ্রিন্ট শাড়ী, থ্রি পিস, বেডশিট, বালিশের কভার, কুশন কভার, টেবিল ম্যাট, টেবিল রানার,  জামদানী এবং তাঁতের শাড়ী থ্রী পিস ইত্যাদি।

২. শার্ট, টি শার্ট, পাঞ্জাবি। ৩. হাতের কাজের থ্রি পিস, শাড়ী ও নকশীকাঁথা। ৪. খেজুরের গুড়, সিলেটের চা পাতা, চাক ভাঙা মধু, খাঁটি গাওয়া ঘি ও সরিষার তেল ইত্যাদি।

মানবজীবন: বর্তমানে কোন কোন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাথে কি কি দায়িত্ব পালন করছেন?

তানজিলা সুলতানা: বর্তমানে আমি Tanjila’s Collection-এর স্বত্বাধিকারী ও প্রধান উদ্যোক্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। পাশাপাশি আমি আনয়ারা মান্নাফ স্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচআর (Human Resources) হিসেবে কর্মরত আছি। এছাড়াও পূর্বে এম এ সাত্তার মেমোরিয়াল কলেজ, সরিষাবাড়ি, জামালপুরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি।

মানবজীবন: সামাজিক কোন প্রতিষ্ঠানে জড়িত আছেন কি?

তানজিলা সুলতানা: আমি ২০০০ সালে জাতীয় কিশোর সংশোধনি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি। এরপর ২০০২ সালে প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পাই। বর্তমানে আমি জাস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি এবং সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি।

মানবজীবন: এযাবৎ কয়টি সম্মাননা পেয়েছেন এবং কি কি?

তানজিলা সুলতানা: আমার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আমি যে সম্মাননাগুলো পেয়েছি, সেগুলো হলো— ইপি নক্ষত্র অ্যাওয়ার্ড – ২০২২ ; ইপি অপরাজিতা অ্যাওয়ার্ড – ২০২২ ; ইপি নক্ষত্র অ্যাওয়ার্ড ও উদ্যোক্তা সম্মাননা স্মারক – ২০২৩ ; ত্রয়ী বাংলাদেশ সম্মাননা স্মারক – ২০২৩; আন্তর্জাতিক নারী উদ্যোক্তা দিবস উপলক্ষে সফল নারী উদ্যোক্তা সম্মাননা অ্যাওয়ার্ড – ২০২৩; অদম্য নারী সম্মাননা – ২০২৫ (মানবজীবন); Global Iconic Leadership Award – ২০২৬। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম থেকে সম্মাননা ও স্বীকৃতি পেয়েছি। তবে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে কাস্টমারদের বিশ্বাস ও ভালোবাসা।

আরও পড়ুনঃ  আদমদীঘিতে আবেগঘন বিদায়: পদোন্নতিপ্রাপ্ত এসিল্যান্ড মাহমুদা সুলতানাকে সম্মাননা

মানবজীবন: সফলতার এই পর্যায়ে আসতে আপনাকে কি কি বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করতে হয়েছে?

তানজিলা সুলতানা: আমার জীবনের পথ কখনোই সহজ ছিল না। খুব অল্প বয়সেই দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি সংসার সামলানো, সন্তান লালন-পালন—সবকিছু একসাথে করতে হয়েছে। তার ওপর জীবনের সবচেয়ে বড় আঘাত আসে মাত্র ২৭ বছর বয়সে, যখন প্রথমবার ক্যান্সারে আক্রান্ত হই। চিকিৎসা, কেমোথেরাপি, শারীরিক দুর্বলতা—সবকিছুর মাঝেও থেমে যাইনি।  এরপর স্বামীর দীর্ঘ অসুস্থতা ও চিকিৎসা খরচ আমাদের সর্বস্বান্ত করে দেয়। ২০১৭ সালে স্বামীকে হারানোর পর একা সন্তান নিয়ে জীবন চালানো ছিল ভীষণ কঠিন। আর্থিক সংকট, মানসিক চাপ, সামাজিক ও পারিবারিক অসহযোগিতা—সবকিছুই আমাকে প্রতিনিয়ত ভেঙে দিতে চেয়েছে। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় ছিল, নিজের কাজ ও উদ্যোগকে অনেক কাছের মানুষও সহজভাবে মেনে নেয়নি। তবুও আমি বিশ্বাস হারাইনি। দুইবার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েও আমি কাজ চালিয়ে গেছি। এই পথচলায় ধৈর্য, মনোবল আর আল্লাহর ওপর বিশ্বাসই ছিল আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।

মানবজীবন: নিজেকে কতটুকু সফল মনে করছেন?

তানজিলা সুলতানা: আমি নিজেকে চূড়ান্তভাবে সফল মনে করি না। আমি মনে করি, সফলতা একটি চলমান প্রক্রিয়া। আজ যেখানে আছি, সেখানে পৌঁছানো অবশ্যই আমার জন্য বড় অর্জন, কিন্তু শেখা ও এগিয়ে যাওয়ার শেষ নেই।

মানবজীবন: নতুন উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে আপনার পরামর্শ কি?

তানজিলা সুলতানা: শুধু আবেগ দিয়ে নয়, জ্ঞান ও প্রস্তুতি নিয়ে কাজে নামুন। আগে নিজেকে দক্ষ ও অভিজ্ঞ করে তুলুন। ধৈর্য ধরুন, কারণ রাতারাতি সফলতা আসে না। ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে সেটাকে শেখার মাধ্যম হিসেবে নিন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন এবং সততার সাথে কাজ করুন।

মানবজীবন: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

তানজিলা সুলতানা: আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো- দেশীয় ও ঐতিহ্যবাহী পণ্যকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাঁকাকে আরো গতিশীল করা। তাই Tanjila’s Collection-কে একটি বিশ্বমানের ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। পাশাপাশি ব্লক প্রিন্ট, নকশীকাঁথা, পাঞ্জাবি ও হস্তশিল্পের মাধ্যমে আরও বেশি নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। এছাড়া নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রশিক্ষণভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আমি চাই, আমার অভিজ্ঞতা ও সংগ্রাম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পথনির্দেশনা হয়ে থাকুক।

আরও পড়ুনঃ  কালিয়াকৈরে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের এস এস সি পরীক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে

মানবজীবন: আপনার পরিবার সম্পর্কে কিছু বলুন।

তানজিলা সুলতানা: আমার পরিবার আমার জীবনের শক্তি ও অনুপ্রেরণা। জীবনের কঠিন সময়ে অনেক কষ্ট ও একাকিত্বের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। বর্তমানে একমাত্র সন্তানকে নিয়েই আমার জীবন ও সংগ্রাম। সন্তানই আমার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব এবং সবচেয়ে বড় প্রেরণা। তার ভবিষ্যৎ সুন্দর করার লক্ষ্যেই আমি প্রতিদিন নতুন করে শক্তি নিয়ে এগিয়ে চলেছি।

মানবজীবন: নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে কোন কিছু করার ইচ্ছা আছে?

তানজিলা সুলতানা: হ্যাঁ, অবশ্যই আছে। ভবিষ্যতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চাই, যেখানে তারা প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও কাজের সুযোগ পাবে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের নিয়ে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে। আমি চাই, নারীরা শুধু স্বাবলম্বীই নয়, আত্মবিশ্বাসী নেতৃত্বেও পরিণত হোক।

মানবজীবন: একজন নারীকে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে পারিবারিক সাপোর্ট কতটুকু প্রয়োজন?

তানজিলা সুলতানা: একজন নারীকে প্রতিষ্ঠিত হতে পারিবারিক সাপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার যদি পাশে থাকে, তাহলে নারীর আত্মবিশ্বাস বহুগুণে বেড়ে যায় এবং পথচলা সহজ হয়। তবে বাস্তবতা হলো—সবসময় সেই সাপোর্ট পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে নারীদের নিজের ভেতরের শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে হবে। আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য ও দৃঢ় মনোবল থাকলে সাপোর্টের অভাবও অনেকটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

মানবজীবন: নারী নির্যাতন বন্ধে আপনার পরামর্শ কি?

তানজিলা সুলতানা: নারী নির্যাতন বন্ধ করতে হলে আগে পরিবার থেকেই পরিবর্তন শুরু করতে হবে। ছেলে-মেয়েকে সমান মর্যাদা দিয়ে বড় করতে হবে। শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা জরুরি। আইন আছে, কিন্তু আইনের সঠিক প্রয়োগ ও সামাজিক সচেতনতা ছাড়া নারী নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব নয়। নারীকে মানুষ হিসেবে সম্মান করাই হতে পারে এই সমস্যার সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।

মানবজীবন: সাক্ষাৎকার প্রদান করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

তানজিলা সুলতানা: আমিও মানবজীবন পত্রিকাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই আমাকে আমার জীবনের কথা বলার সুযোগ দেওয়ার জন্য।0

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

ইতিহাস গড়লেন ‘বাঘা’ শরীফ

ক্যান্সারকে জয় করে আজ অদম্য নারী উদ্যোক্তা তানজিলা সুলতানা

সময়: ০২:২১:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

 

ই হক তৈয়ব:

ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বসবাসকারী তানজিলা সুলতানা এক অনুপ্রেরণার নাম। বাবা হাজী আব্দুস ছাত্তার ও মা হাজী জরিনা বেগমের সন্তান তানজিলার স্থায়ী ঠিকানা জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি। জীবন তাকে কঠিন এক পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল ক্যান্সারের মতো মারণব্যাধি দিয়ে। কিন্তু সেই লড়াইয়ে তিনি থেমে যাননি। দীর্ঘ চিকিৎসা ও মানসিক চাপের মধ্যেও তানজিলা সুলতানা ভেঙে পড়েননি। অসুস্থতার সময়ই নিজের ভেতরের শক্তিকে নতুনভাবে চিনেছেন। সুস্থতার পথে ফিরেই শুরু করেন স্বাবলম্বী হওয়ার সংগ্রাম। ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন নিজের উদ্যোগ, প্রতিষ্ঠিত হন একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে। আজ তানজিলা সুলতানা শুধু নিজের জীবনের মোড় ঘোরাননি, আশপাশের বহু নারীর জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন। যার ফলে তিনি একজন অদম্য নারী উদ্যোক্তা হিসেবে সমাজে প্রশংসিত, পরিচিত ও  প্রতিষ্ঠিত। তাঁর গল্প প্রমাণ করে, শারীরিক অসুস্থতা কিংবা সামাজিক বাধা চূড়ান্ত পরাজয় নয়। সাহস, ধৈর্য আর পরিশ্রম থাকলে যে কেউ ঘুরে দাঁড়াতে পারে। ক্যান্সারকে জয় করে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা তানজিলা সুলতানার পথচলা আমাদের সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তাই দেয়। এই অদম্য নারী উদ্যোক্তা মানবজীবনের মুখোমুখী হন। তার কথোপকথন পঠকের উদ্দেশ্যে-

মানবজীবন: জন্ম সাল ও জন্মস্থান কবে কোথায়?

তানজিলা সুলতানা: আমার জন্ম ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ সালে, জামালপুর জেলার সরিষাবাড়িতে। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে সিরাজগঞ্জ জেলার নাটুয়ারপাড়ায়।

মানবজীবন: শিক্ষাজীবন শুরু ও শেষ প্রতিষ্ঠান ?

তানজিলা সুলতানা: আমি ১৯৯৪ সালে নাটুয়ারপাড়া কে বি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করি। এইচএসসি সম্পন্ন করি মাহমুদা সালাম মহিলা কলেজ, সরিষাবাড়ি, জামালপুর থেকে। বিএসএস করেছি মাহমুদা সালাম মহিলা কলেজ সরিষাবাড়ি জামালপুর থেকে (এছাড়াও টঙ্গী সরকারি কলেজে অধ্যয়ন করেছি)।

এমএসএস সম্পন্ন করি ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ, চৌরাস্তা, গাজীপুর থেকে।পরবর্তীতে ২০০৫ সালে শিক্ষক নিবন্ধন (প্রভাষক) অর্জন করি।

মানবজীবন: বিয়ে ও সংসার। কবে, কিভাবে?

তানজিলা সুলতানা: এইচএসসি পরীক্ষার পরপরই আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পরপরই সংসারের বাস্তব দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়ে। শ্বশুরবাড়িতে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া মোটেও সহজ ছিল না। সংসারের কাজ, সন্তান লালন-পালন এবং পড়াশোনা—সবকিছু একসাথে সামলাতে হয়েছে। অনেক সময় গভীর রাতে বা কাজের ফাঁকে ফাঁকে পড়াশোনা করতে হতো। তবুও আমি কখনো পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবিনি। প্রতিকূলতার মধ্যেই আমার সংসার ও শিক্ষাজীবন একসাথে এগিয়ে গেছে।

আরও পড়ুনঃ  আদমদীঘিতে আবেগঘন বিদায়: পদোন্নতিপ্রাপ্ত এসিল্যান্ড মাহমুদা সুলতানাকে সম্মাননা

মানবজীবন: নারী উদ্যোক্তা হওয়ার শুরুর গল্পটা বলেন।

তানজিলা সুলতানা: নারী উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে আমার গল্পটা মূলত জীবন সংগ্রামের গল্প। ২০১৭ সালে স্বামীকে হারানোর পর আমি একেবারেই দিশেহারা হয়ে পড়ি। একমাত্র সন্তানকে নিয়ে জীবন চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। তখন বুঝতে পারি, পরনির্ভরশীল হয়ে থাকলে সামনে এগোনো সম্ভব নয়। মাত্র ৪,২০০ টাকা পুঁজি নিয়ে অনলাইনে ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করি। তখন ফেসবুক বা অনলাইন ব্যবসা সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণাই ছিল না। নিজে নিজেই শিখেছি, হেঁটে হেঁটে মার্কেট ঘুরেছি, অর্ডার এনে কাস্টমারের হাতে পৌঁছে দিয়েছি। ২০১৮ সালে “Tanjila’s Collection” নামে আমার উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। সীমিত সামর্থ্য আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি দিয়েই আমার উদ্যোক্তা জীবনের সূচনা।

মানবজীবন: আপনার প্রতিষ্ঠানের পন্যগুলো কি কি?

তানজিলা সুলতানা: আমার প্রতিষ্ঠানের পন্যগুলো হচ্ছে-১. নিজস্ব ডিজাইনের ব্লকপ্রিন্ট শাড়ী, থ্রি পিস, বেডশিট, বালিশের কভার, কুশন কভার, টেবিল ম্যাট, টেবিল রানার,  জামদানী এবং তাঁতের শাড়ী থ্রী পিস ইত্যাদি।

২. শার্ট, টি শার্ট, পাঞ্জাবি। ৩. হাতের কাজের থ্রি পিস, শাড়ী ও নকশীকাঁথা। ৪. খেজুরের গুড়, সিলেটের চা পাতা, চাক ভাঙা মধু, খাঁটি গাওয়া ঘি ও সরিষার তেল ইত্যাদি।

মানবজীবন: বর্তমানে কোন কোন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাথে কি কি দায়িত্ব পালন করছেন?

তানজিলা সুলতানা: বর্তমানে আমি Tanjila’s Collection-এর স্বত্বাধিকারী ও প্রধান উদ্যোক্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। পাশাপাশি আমি আনয়ারা মান্নাফ স্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচআর (Human Resources) হিসেবে কর্মরত আছি। এছাড়াও পূর্বে এম এ সাত্তার মেমোরিয়াল কলেজ, সরিষাবাড়ি, জামালপুরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি।

মানবজীবন: সামাজিক কোন প্রতিষ্ঠানে জড়িত আছেন কি?

তানজিলা সুলতানা: আমি ২০০০ সালে জাতীয় কিশোর সংশোধনি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি। এরপর ২০০২ সালে প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পাই। বর্তমানে আমি জাস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি এবং সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি।

মানবজীবন: এযাবৎ কয়টি সম্মাননা পেয়েছেন এবং কি কি?

তানজিলা সুলতানা: আমার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আমি যে সম্মাননাগুলো পেয়েছি, সেগুলো হলো— ইপি নক্ষত্র অ্যাওয়ার্ড – ২০২২ ; ইপি অপরাজিতা অ্যাওয়ার্ড – ২০২২ ; ইপি নক্ষত্র অ্যাওয়ার্ড ও উদ্যোক্তা সম্মাননা স্মারক – ২০২৩ ; ত্রয়ী বাংলাদেশ সম্মাননা স্মারক – ২০২৩; আন্তর্জাতিক নারী উদ্যোক্তা দিবস উপলক্ষে সফল নারী উদ্যোক্তা সম্মাননা অ্যাওয়ার্ড – ২০২৩; অদম্য নারী সম্মাননা – ২০২৫ (মানবজীবন); Global Iconic Leadership Award – ২০২৬। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম থেকে সম্মাননা ও স্বীকৃতি পেয়েছি। তবে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে কাস্টমারদের বিশ্বাস ও ভালোবাসা।

আরও পড়ুনঃ  স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও অবহেলিত—যুদ্ধশিশু শামসুন্নাহারের আর্তনাদ

মানবজীবন: সফলতার এই পর্যায়ে আসতে আপনাকে কি কি বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করতে হয়েছে?

তানজিলা সুলতানা: আমার জীবনের পথ কখনোই সহজ ছিল না। খুব অল্প বয়সেই দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি সংসার সামলানো, সন্তান লালন-পালন—সবকিছু একসাথে করতে হয়েছে। তার ওপর জীবনের সবচেয়ে বড় আঘাত আসে মাত্র ২৭ বছর বয়সে, যখন প্রথমবার ক্যান্সারে আক্রান্ত হই। চিকিৎসা, কেমোথেরাপি, শারীরিক দুর্বলতা—সবকিছুর মাঝেও থেমে যাইনি।  এরপর স্বামীর দীর্ঘ অসুস্থতা ও চিকিৎসা খরচ আমাদের সর্বস্বান্ত করে দেয়। ২০১৭ সালে স্বামীকে হারানোর পর একা সন্তান নিয়ে জীবন চালানো ছিল ভীষণ কঠিন। আর্থিক সংকট, মানসিক চাপ, সামাজিক ও পারিবারিক অসহযোগিতা—সবকিছুই আমাকে প্রতিনিয়ত ভেঙে দিতে চেয়েছে। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় ছিল, নিজের কাজ ও উদ্যোগকে অনেক কাছের মানুষও সহজভাবে মেনে নেয়নি। তবুও আমি বিশ্বাস হারাইনি। দুইবার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েও আমি কাজ চালিয়ে গেছি। এই পথচলায় ধৈর্য, মনোবল আর আল্লাহর ওপর বিশ্বাসই ছিল আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।

মানবজীবন: নিজেকে কতটুকু সফল মনে করছেন?

তানজিলা সুলতানা: আমি নিজেকে চূড়ান্তভাবে সফল মনে করি না। আমি মনে করি, সফলতা একটি চলমান প্রক্রিয়া। আজ যেখানে আছি, সেখানে পৌঁছানো অবশ্যই আমার জন্য বড় অর্জন, কিন্তু শেখা ও এগিয়ে যাওয়ার শেষ নেই।

মানবজীবন: নতুন উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে আপনার পরামর্শ কি?

তানজিলা সুলতানা: শুধু আবেগ দিয়ে নয়, জ্ঞান ও প্রস্তুতি নিয়ে কাজে নামুন। আগে নিজেকে দক্ষ ও অভিজ্ঞ করে তুলুন। ধৈর্য ধরুন, কারণ রাতারাতি সফলতা আসে না। ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে সেটাকে শেখার মাধ্যম হিসেবে নিন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন এবং সততার সাথে কাজ করুন।

মানবজীবন: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

তানজিলা সুলতানা: আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো- দেশীয় ও ঐতিহ্যবাহী পণ্যকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাঁকাকে আরো গতিশীল করা। তাই Tanjila’s Collection-কে একটি বিশ্বমানের ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। পাশাপাশি ব্লক প্রিন্ট, নকশীকাঁথা, পাঞ্জাবি ও হস্তশিল্পের মাধ্যমে আরও বেশি নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। এছাড়া নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রশিক্ষণভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আমি চাই, আমার অভিজ্ঞতা ও সংগ্রাম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পথনির্দেশনা হয়ে থাকুক।

আরও পড়ুনঃ  ডুমুরিয়ায় ধানের দামের চেয়ে শ্রমিকের মজুরির মূল্যে বেশি

মানবজীবন: আপনার পরিবার সম্পর্কে কিছু বলুন।

তানজিলা সুলতানা: আমার পরিবার আমার জীবনের শক্তি ও অনুপ্রেরণা। জীবনের কঠিন সময়ে অনেক কষ্ট ও একাকিত্বের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। বর্তমানে একমাত্র সন্তানকে নিয়েই আমার জীবন ও সংগ্রাম। সন্তানই আমার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব এবং সবচেয়ে বড় প্রেরণা। তার ভবিষ্যৎ সুন্দর করার লক্ষ্যেই আমি প্রতিদিন নতুন করে শক্তি নিয়ে এগিয়ে চলেছি।

মানবজীবন: নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে কোন কিছু করার ইচ্ছা আছে?

তানজিলা সুলতানা: হ্যাঁ, অবশ্যই আছে। ভবিষ্যতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চাই, যেখানে তারা প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও কাজের সুযোগ পাবে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের নিয়ে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে। আমি চাই, নারীরা শুধু স্বাবলম্বীই নয়, আত্মবিশ্বাসী নেতৃত্বেও পরিণত হোক।

মানবজীবন: একজন নারীকে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে পারিবারিক সাপোর্ট কতটুকু প্রয়োজন?

তানজিলা সুলতানা: একজন নারীকে প্রতিষ্ঠিত হতে পারিবারিক সাপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার যদি পাশে থাকে, তাহলে নারীর আত্মবিশ্বাস বহুগুণে বেড়ে যায় এবং পথচলা সহজ হয়। তবে বাস্তবতা হলো—সবসময় সেই সাপোর্ট পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে নারীদের নিজের ভেতরের শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে হবে। আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য ও দৃঢ় মনোবল থাকলে সাপোর্টের অভাবও অনেকটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

মানবজীবন: নারী নির্যাতন বন্ধে আপনার পরামর্শ কি?

তানজিলা সুলতানা: নারী নির্যাতন বন্ধ করতে হলে আগে পরিবার থেকেই পরিবর্তন শুরু করতে হবে। ছেলে-মেয়েকে সমান মর্যাদা দিয়ে বড় করতে হবে। শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা জরুরি। আইন আছে, কিন্তু আইনের সঠিক প্রয়োগ ও সামাজিক সচেতনতা ছাড়া নারী নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব নয়। নারীকে মানুষ হিসেবে সম্মান করাই হতে পারে এই সমস্যার সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।

মানবজীবন: সাক্ষাৎকার প্রদান করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

তানজিলা সুলতানা: আমিও মানবজীবন পত্রিকাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই আমাকে আমার জীবনের কথা বলার সুযোগ দেওয়ার জন্য।0