Dhaka ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
কালিগঞ্জে কৃষাণীদের মাঝে ক্ষুদ্র বীজ উদ্যোগের প্রারম্ভিক অনুদানের খরচের চেক বিতরণ সাংবাদিক আবেদ আমেরীর ওপর হামলার ঘটনায় রাউজান প্রেস ক্লাবের উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা নবীনগরে মহেশখাল দখল করে দোকানঘর নির্মান, নিরব প্রশাসন সরকারি চাল না পেয়ে গলাচিপায় জেলেদের মানববন্ধন প্রশাসনের দুর্বল উদ্যোগে চরম ভোগান্তিতে মণিরামপুর, যানজটে অতিষ্ঠ উপজেলা সদর ঝিকরগাছায় মা-ছেলের মৃত্যু : অভিমানে আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ডুমুরিয়া মৎস্য বিভাগের বিশেষ উদ্যোগে আদায় হচ্ছে বহু বছরের বকেয়া সরকারি ঋণ; সচেতন মহলের সাধুবাদ জ্ঞাপন কালীগঞ্জে বসত বাড়ীতে হামলা করে স্বর্ণালংকারসহ ২৫ লাখ টাকার মালামাল লুট মাধবপুরে প্রাইম ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং ধর্মঘর বাজার আউটলেট উদ্বোধন জকিগঞ্জে তালামীযের সম্মেলনে যেতে আল্লামা হুছাম উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলীকে বাধাগ্রস্ত করার ঘটনায় হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকীর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

গাছ অপসারণে বিলম্ব, মা-ঝ-প-থে আ-ট-কে ‘স্বপ্নের সড়ক’ সংস্কারকাজ

শফিকুল ইসলাম শফিক, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:



মধ্যনগরের মহিষখলা বাজার থেকে লাউরেরঘর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কারকাজ বন বিভাগের গাছ অপসারণে বিলম্বের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও গাছ না সরানোয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে গাছের পাশ দিয়েই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে কাজের মান নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং বাড়ছে জনদুর্ভোগ।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর আওতায় ২০২৩ সালের শেষ দিকে মেসার্স জামিল এন্টারপ্রাইজ সড়কটির সংস্কারকাজের দায়িত্ব পায়। জেলা সদরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের এই সড়কটি এলাকাবাসীর কাছে ‘স্বপ্নের সড়ক’ হিসেবে পরিচিত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সড়কের মাঝখানে বন বিভাগের বেশ কিছু গাছ থাকায় কাজ স্বাভাবিকভাবে এগোচ্ছে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “গাছ অপসারণের জন্য আমরা বন বিভাগকে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে জানিয়েছি। কিন্তু এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারলে আমাদেরই জবাবদিহি করতে হবে, তাই বাধ্য হয়ে বিকল্পভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।”

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গাছ রেখে দুই পাশে মাটি ভরাট ও ইটের সোলিং করা হচ্ছে। কোথাও গাছের গোড়া ঘেঁষে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে গাছ উপড়ে পড়ে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে খণ্ড খণ্ডভাবে কাজ হওয়ায় কোথাও রাস্তা খোঁড়া, কোথাও আধা-সমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

মহিষখলার বাসিন্দা মাদ্রাসা শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “এটি আমাদের স্বপ্নের রাস্তা। কিন্তু গাছের কারণে কাজের এই অবস্থা দেখে কষ্ট লাগে। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে পারি না। বন বিভাগের গাফিলতির দায় আমরা কেন নেব?”

বন বিভাগের সামাজিক বনায়নের স্থানীয় উপকারভোগী গ্রুপের সভাপতি মুক্তার হোসেন বলেন, “আমরাও বারবার বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু তারা বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না।”

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে নিষিদ্ধ সংগঠনের ঝটিকা মিছিল, গ্রেপ্তার ১৩

গাছ অপসারণে বিলম্বের কারণ জানতে মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলা বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

এদিকে নির্ধারিত সময়ে সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী বহনকারী যানবাহন ও পণ্য পরিবহনকারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অল্প দূরত্ব অতিক্রম করতেও সময় লাগছে কয়েকগুণ বেশি।

দ্রুত গাছ অপসারণ করে পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়কের কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

কালিগঞ্জে কৃষাণীদের মাঝে ক্ষুদ্র বীজ উদ্যোগের প্রারম্ভিক অনুদানের খরচের চেক বিতরণ

গাছ অপসারণে বিলম্ব, মা-ঝ-প-থে আ-ট-কে ‘স্বপ্নের সড়ক’ সংস্কারকাজ

সময়: ০২:১৫:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

শফিকুল ইসলাম শফিক, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:



মধ্যনগরের মহিষখলা বাজার থেকে লাউরেরঘর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কারকাজ বন বিভাগের গাছ অপসারণে বিলম্বের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও গাছ না সরানোয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে গাছের পাশ দিয়েই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে কাজের মান নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং বাড়ছে জনদুর্ভোগ।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর আওতায় ২০২৩ সালের শেষ দিকে মেসার্স জামিল এন্টারপ্রাইজ সড়কটির সংস্কারকাজের দায়িত্ব পায়। জেলা সদরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের এই সড়কটি এলাকাবাসীর কাছে ‘স্বপ্নের সড়ক’ হিসেবে পরিচিত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সড়কের মাঝখানে বন বিভাগের বেশ কিছু গাছ থাকায় কাজ স্বাভাবিকভাবে এগোচ্ছে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “গাছ অপসারণের জন্য আমরা বন বিভাগকে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে জানিয়েছি। কিন্তু এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারলে আমাদেরই জবাবদিহি করতে হবে, তাই বাধ্য হয়ে বিকল্পভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।”

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গাছ রেখে দুই পাশে মাটি ভরাট ও ইটের সোলিং করা হচ্ছে। কোথাও গাছের গোড়া ঘেঁষে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে গাছ উপড়ে পড়ে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে খণ্ড খণ্ডভাবে কাজ হওয়ায় কোথাও রাস্তা খোঁড়া, কোথাও আধা-সমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

মহিষখলার বাসিন্দা মাদ্রাসা শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “এটি আমাদের স্বপ্নের রাস্তা। কিন্তু গাছের কারণে কাজের এই অবস্থা দেখে কষ্ট লাগে। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে পারি না। বন বিভাগের গাফিলতির দায় আমরা কেন নেব?”

বন বিভাগের সামাজিক বনায়নের স্থানীয় উপকারভোগী গ্রুপের সভাপতি মুক্তার হোসেন বলেন, “আমরাও বারবার বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু তারা বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না।”

আরও পড়ুনঃ  মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

গাছ অপসারণে বিলম্বের কারণ জানতে মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলা বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

এদিকে নির্ধারিত সময়ে সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী বহনকারী যানবাহন ও পণ্য পরিবহনকারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অল্প দূরত্ব অতিক্রম করতেও সময় লাগছে কয়েকগুণ বেশি।

দ্রুত গাছ অপসারণ করে পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়কের কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।