দেশের বর্তমান জ্বালানিসংকটের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের নীতিকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ওই সময়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (বাপেক্স) কার্যত দুর্বল করে রাখা হয়েছিল। ফলে পর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান না হওয়া এবং আমদানিনির্ভরতা বাড়ায় দেশে বর্তমান জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ৪০টি কূপ খনন
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান জ্বালানিসংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকার একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ১০টি কূপ খনন এবং ওয়ার্কওভারের আওতায় ৩০টি কূপের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
এসব কূপ থেকে প্রায় ৪৫০ এমএমএসসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে খননাধীন আরও সাতটি কূপের কাজ শেষ হলে অতিরিক্ত ৮৫ এমএমএসসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। অবশিষ্ট কূপগুলো খননের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন রিগ
বাপেক্সকে আরও শক্তিশালী করতে দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বাড়াতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া দেশের নতুন গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানে ৫ হাজার ৬০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অফশোর-অনশোর অনুসন্ধানে জোর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, অফশোর মডেল পিএসসি-২০২৬ অনুমোদনের পর এর আওতায় বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি আরেকটি অফশোর মডেল পিএসসি অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অফশোর ও অনশোর—উভয় ক্ষেত্রেই গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা হলে নতুন উৎসের সন্ধান পাওয়া সম্ভব হবে। আর নতুন গ্যাসের মজুত আবিষ্কার করা গেলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
Reporter Name 


























