Dhaka ১২:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
কলকাতা ইসকনের উদ্যোগে বাবুঘাট গঙ্গা তীর পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতার অভিযান চালালেন আত্রাই রেললাইনের পাশে পড়ে ছিল কলেজ অধ্যক্ষের মরদেহ!! হোয়াইক্যং আলহাজ্ব আলী আছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হলেন জুনায়েদ আলী চৌধুরী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থীদের মেধা ও একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরুপ মেডেল ও সম্মামনা প্রদান ‘লা পুলগা’ থেকে ‘দ্য গোট’ রেকর্ডের অপেক্ষায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, পর্তুগালের মুখোমুখি হবে ডিআর কঙ্গো সংসদে বাজেটকে ‘চানাচুর মার্কা’ বললেন এমপি আমির হামজা সকল অপকর্মের সমাপ্তি চাই গফরগাঁওয়ে স্বামীকে বেঁধে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ‘গেম চেঞ্জার’ বললেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ভাঙা ঘরে নিঃসঙ্গ এক জীবন, পীরগঞ্জের বৃদ্ধের মানবেতর দিনযাপন

  • সাকিব আহসান
  • সময়: ০৪:০৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৯১ Time View

 

সাকিব আহসান,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ১০ নং জাবরহাট ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের চন্দরিয়া তালতলা গ্রামের ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ আজও জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে একা যুদ্ধ করে যাচ্ছেন দারিদ্র্য, বার্ধক্য আর একাকীত্বের সঙ্গে। তার ঘর যাকে ঘর বলা কঠিন। একটি ভাঙাচোরা কুঁড়ে, মাটির ধাপে বসে তিনি দিনের পর দিন কাটান ক্ষুধা, ক্লান্তি আর অবহেলার মধ্যে।

 

 

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খড়ের ছাউনি ঝুলে পড়েছে, দরজার কাঠামো ভেঙে গেছে, ঘরের কোণে স্যাঁতসেঁতে মাটি আর একটি পুরোনো লাঠি। পাশেই কিছু বাঁশের ডাণ্ডা, যেন বহুদিন ধরে মেরামতের ইচ্ছা থেকে জমে থাকা সাক্ষী। বৃদ্ধের শরীরে বয়সের ভার এতটাই গভীর যে হাঁটাচলার শক্তিও প্রায় ফুরিয়ে গেছে। খাবারের জোগান অনিয়মিত, চিকিৎসা নেই, আশেপাশে নেই কোনো স্থায়ী সহায়তাকারী।

 

 

স্থানীয়রা জানান, তিনি কখনো বিবাহ করেননি, পরিবারও গড়ে ওঠেনি। সারাজীবন একাই থেকেছেন। প্রতিবেশীরা মাঝেমধ্যে কিছু খাবার বা টাকা দেন, কিন্তু তা দিয়ে নিয়মিত জীবন চলা সম্ভব নয়। এক স্থানীয় যুবক বলেন, “তার শরীর এখন একদম দুর্বল, চোখে অন্ধকার দেখি, কথা বলতেও কষ্ট হয়।”

 

 

বৃদ্ধ নিজেও জানান, “না খেয়ে দিন পার করছি।” কথাগুলো আসে কণ্ঠে কাঁপুনি নিয়ে, যেন প্রতিটি শব্দের সঙ্গে লুকিয়ে আছে এক গভীর আক্ষেপ ও নিরুপায় আর্তি।

 

 

ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য প্রতিবেদককে বলেন, “আমরা চেষ্টা করি সাহায্য দিতে, কিন্তু সবার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এ ধরনের মানুষ সরকারি সহায়তা তালিকার বাইরে থেকে যায়।”

 

 

চন্দরিয়া তালতলা গ্রামটি মূলত কৃষি ও দিনমজুর নির্ভর। এখানে দারিদ্র্য এখনো বাস্তবতার নির্মম রূপ। কিন্তু এই বৃদ্ধের কাহিনি শুধু একটি ব্যক্তিগত দুঃখগাথা নয়, এটি আমাদের সমাজের বিবেকের কাছে এক নীরব প্রশ্ন। বার্ধক্যে এসে কেন কেউ এত একা, এত অবহেলিত?

আরও পড়ুনঃ  তীব্র গরমে বেড়েছে তালের শাঁসের চাহিদা

 

স্থানীয়রা বলেছেন, যদি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক সংস্থাগুলো এগিয়ে আসে, তবে এই মানুষটির শেষ জীবনটুকু অন্তত সম্মানজনকভাবে কাটাতে পারেন।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

কলকাতা ইসকনের উদ্যোগে বাবুঘাট গঙ্গা তীর পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতার অভিযান চালালেন

ভাঙা ঘরে নিঃসঙ্গ এক জীবন, পীরগঞ্জের বৃদ্ধের মানবেতর দিনযাপন

সময়: ০৪:০৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

 

সাকিব আহসান,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ১০ নং জাবরহাট ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের চন্দরিয়া তালতলা গ্রামের ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ আজও জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে একা যুদ্ধ করে যাচ্ছেন দারিদ্র্য, বার্ধক্য আর একাকীত্বের সঙ্গে। তার ঘর যাকে ঘর বলা কঠিন। একটি ভাঙাচোরা কুঁড়ে, মাটির ধাপে বসে তিনি দিনের পর দিন কাটান ক্ষুধা, ক্লান্তি আর অবহেলার মধ্যে।

 

 

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খড়ের ছাউনি ঝুলে পড়েছে, দরজার কাঠামো ভেঙে গেছে, ঘরের কোণে স্যাঁতসেঁতে মাটি আর একটি পুরোনো লাঠি। পাশেই কিছু বাঁশের ডাণ্ডা, যেন বহুদিন ধরে মেরামতের ইচ্ছা থেকে জমে থাকা সাক্ষী। বৃদ্ধের শরীরে বয়সের ভার এতটাই গভীর যে হাঁটাচলার শক্তিও প্রায় ফুরিয়ে গেছে। খাবারের জোগান অনিয়মিত, চিকিৎসা নেই, আশেপাশে নেই কোনো স্থায়ী সহায়তাকারী।

 

 

স্থানীয়রা জানান, তিনি কখনো বিবাহ করেননি, পরিবারও গড়ে ওঠেনি। সারাজীবন একাই থেকেছেন। প্রতিবেশীরা মাঝেমধ্যে কিছু খাবার বা টাকা দেন, কিন্তু তা দিয়ে নিয়মিত জীবন চলা সম্ভব নয়। এক স্থানীয় যুবক বলেন, “তার শরীর এখন একদম দুর্বল, চোখে অন্ধকার দেখি, কথা বলতেও কষ্ট হয়।”

 

 

বৃদ্ধ নিজেও জানান, “না খেয়ে দিন পার করছি।” কথাগুলো আসে কণ্ঠে কাঁপুনি নিয়ে, যেন প্রতিটি শব্দের সঙ্গে লুকিয়ে আছে এক গভীর আক্ষেপ ও নিরুপায় আর্তি।

 

 

ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য প্রতিবেদককে বলেন, “আমরা চেষ্টা করি সাহায্য দিতে, কিন্তু সবার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এ ধরনের মানুষ সরকারি সহায়তা তালিকার বাইরে থেকে যায়।”

 

 

চন্দরিয়া তালতলা গ্রামটি মূলত কৃষি ও দিনমজুর নির্ভর। এখানে দারিদ্র্য এখনো বাস্তবতার নির্মম রূপ। কিন্তু এই বৃদ্ধের কাহিনি শুধু একটি ব্যক্তিগত দুঃখগাথা নয়, এটি আমাদের সমাজের বিবেকের কাছে এক নীরব প্রশ্ন। বার্ধক্যে এসে কেন কেউ এত একা, এত অবহেলিত?

আরও পড়ুনঃ  রিকশা চালক নকির চ/র/ম অসহায়

 

স্থানীয়রা বলেছেন, যদি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক সংস্থাগুলো এগিয়ে আসে, তবে এই মানুষটির শেষ জীবনটুকু অন্তত সম্মানজনকভাবে কাটাতে পারেন।