অবৈধ আয় করা থেকে বিরত থাকার আদেশ
মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী
মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষকে যে ধন সম্পদ দিয়েছে, এবং মানুষকে তাঁর চলার মতো জ্ঞান বুদ্ধি শক্তি সহ সব কিছু দিয়েছে। কিন্তু তাঁরপরেও মানুষ খুশি নয়। মানুষ আল্লাহর আদেশ কে ভুলে ও পরকাল কে ভুলে মানুষ শুরু করে দিয়েছে অবৈধ আয়। যারা সরকারি চাকরি করে তাঁরা যে বেতন পায় তা দিয়ে খুব সুন্দর মতে সংসার চলে, কিন্ত তাঁরা সম্মানজনক বেতন পাওয়ার পরেও খুশি নয়। তাঁরা ধন সম্পদ বাড়ানো জন্য অবৈধ ভাবে আয় করে তাঁরা প্রচুর পরিমাণে ঘুষ খায় ও দুর্নীতি করে। তাঁরা বিভিন্ন রকমের অবৈধ আয় করে জমা করে পাহাড় পরিমাণ ধন সম্পদ ও টাকা পয়সা। সরকারি যে কোন অফিসে পিউন থেকে শুরু করে প্রধান অফিসার পর্যন্ত অবৈধ আয় করে। দুর্নীতির কারণে সমাজ জনগণ ও দেশ উন্নত হচ্ছে না, দুর্নীতি যদি না থাকতো তাহলে সমাজ জনগণ ও দেশ আমেরিকার মতো উন্নয়নশীল হতো।
আল্লাহ তায়ালা মহা গ্রন্থ আল কুরআনে আদেশ দিয়েছে:
“এবং তোমরা নিজেদের মধ্যে পরস্পরের ধন সম্পত্তি অন্যায়ভাবে গ্রাস করনা এবং তা বিচারকের নিকট টোপ হিসাবে উপস্থাপন করনা যাতে তোমরা জ্ঞাতসারে লোকের সম্পদের অংশ অন্যায়ভাবে উদরস্থ করতে পার।” (সূরা বাকারা, আয়াত-১৮৮)
আজ সমাজ ও দেশে দেখা যাচ্ছে মানুষ মানুষের ধন সম্পদ ও জায়গা জমিন অন্যায় ভাবে দখল ও আত্মসাৎ করতেছে। এক ভাই আরেক ভাইয়ের অবৈধভাবে জায়গা দখল করতেছে, ভাইয়ে বোনের অবৈধভাবে জায়গা দখল করতেছে। গ্রামে ধান ক্ষেতে দেখা যায় একজন আরেক জনের জমির আইল কেটে পেলে ও জমি দখল করে। গ্রাম গঞ্জে জায়গা জমিন নিয়ে সবসময় ঝগড়া সৃষ্টি হয় ও মারামারি হয়। জায়গা জমিন নিয়ে এক অপরের বিরুদ্ধে থানা ও কোর্টে মামলা করে এবং প্রচুর অর্থ নষ্ট করে। সবাই যদি আল্লাহর আদেশ পালন করতো ও প্রিয় নবীজীর হাদিস মানতো তাহলে একে অপরের জমি দখল করতো না এবং মারামারি হতো না। এই অত্যাচারির কারণে আল্লাহর আদালতে আসামি হিসাবে হাজির হতে হবে।
হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
“যে ব্যক্তি কারো জমি এক বিঘত পরিমাণ অন্যায়ভাবে দখল করে নেবে, কিয়ামতের দিন সাত তবক (স্তর) জমিন তার গলায় লটকে দেওয়া হবে।”
(বুখারি ২৪৫৩, ৩১৯৫, মুসলিম ১৬১২, আহমদ ২৩৮৩২, ২৫৬১২, ২৫৬৯২)
আজ সমাজে দেখা যাচ্ছে মানুষ প্রচুর পরিমাণে সুদ খাচ্ছে, এবং সুদের টাকা দিয়ে ধন সম্পদ ও টাকা পয়সা জমা করতেছে। মানুষ এই অবৈধ আয় বেশী উপার্জন করতেছে। আল্লাহ আদেশ দিয়েছেন:
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা দ্বিগুণের উপর দ্বিগুণ সুদ ভক্ষণ করনা এবং আল্লাহকে ভয় কর যেন তোমরা সুফল প্রাপ্ত হও।” (সূরা আল ইমরান, আয়াত-১৩০)
কিন্তু মানুষ আল্লাহর আদেশ শুনে না ও পরকালকে ভয় না করে বেশী বেশী সুদের টাকা দিয়ে ধন সম্পদ জমা করতেছে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিশাপ দিয়েছেন সুদখোরকে, সুদ দাতাকে, সুদের লেখককে, সাক্ষীকে। এবং তিনি বলেছেন, “এরা সকলে সমান অপরাধী।” (সহিহ মুসলিম, ৪১৭৭)
আজ রাতের আধাঁরে একে অপরের ধন সম্পদ ও টাকা পয়সা চুরি ডাকাতি করে, এটা সম্পূর্ণ হারাম ও অবৈধ। গ্রাম কিংবা শহরে বেশী চুরি ও ডাকাতি হচ্ছে। বাসের মধ্যে পকেট মার ও ডাকাতি হচ্ছে। রাতের আধাঁরে চিনতাই হচ্ছে এবং মানুষ খুন হচ্ছে। বহু মানুষ চুরি ডাকাতি করে এই সব অবৈধ আয় করে ধন সম্পদ জমা করতেছে।
আল্লাহ বলেন:
“আর পুরুষ চোর ও নারী চোর তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও তাদের অর্জনের প্রতিদান ও আল্লাহর পক্ষ থেকে শিক্ষণীয় আযাবস্বরূপ এবং আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” (সূরা মায়েদাহ, আয়াত-৩৮)
আজ সমাজে অনেক মানুষ অবৈধভাবে ব্যবসা করে ধন সম্পদ উপার্জন করে। যারা এই সব অবৈধ আয় করে তাঁদের জন্য পরকালে ভয়াবহ হুতামা শাস্তি উপেক্ষা করতেছে, মৃত্যুর পরে শাস্তি শুরু হয়ে যাবে।
আল্লাহ বলেন:
“যে অর্থ সঞ্চিত করে ও গণনা করে সে মনে করে যে, তার অর্থ চিরকাল তার সাথে থাকবে! কখনও না, সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে পিষ্টকারীর মধ্যে। আপনি কি জানেন, পিষ্টকারী কি? এটা আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত অগ্নি, যা হৃদয় পর্যন্ত পৌছবে। এতে তাদেরকে বেঁধে দেয়া হবে, লম্বা লম্বা খুঁটিতে।” (সূরা হুমাযাহ, আয়াত-২,৩,৪,৫,৬,৭,৮,৯)
আল্লাহ পাক আমাদের কে সকল ধরনের অবৈধ আয় করা থেকে রক্ষা করুক, আমিন।
লেখকঃ আলেম, গবেষক।
মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী 




























