
মো: মারুফ, চট্টগ্রাম সিটি রির্পোটার:
ফটো চিএে, আপোষ জয়ধর,
বলির পাঠা হচ্ছে আউটসোর্সিং শ্রমিক!!কোম্পানির মুনাফায় শ্রমিকের অংশগ্রহণের অর্থ যাচ্ছে তথাকথিত সুবিধাভোগী’র পকেটে ২০০৬ সালের মূল শ্রম আইনে কোম্পানির মুনাফায় শ্রমিকের অংশগ্রহণের সুবিধা শুধুমাত্র শ্রমিকের ভোগ করার অধিকার ছিলো। অধ্যায়টি শিল্পসংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত এমন কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিলো, যেখানে কোনো শিফটে অন্তত ১০০ জন শ্রমিক কাজ করে বা হিসাব বছরের শেষে পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ১ কোটি টাকা বা স্থায়ী সম্পদের মূল্য কমপক্ষে ২ কোটি টাকা থাকে। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট সংখ্যক শ্রমিক, মূলধন বা সম্পদের শর্ত পূরণ করলে কোম্পানিটি এর আওতায় পড়ে। এছাড়া, সরকার চাইলে গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারি করে অন্য যেকোনো কোম্পানির ক্ষেত্রেও এই অধ্যায় প্রযোজ্য করতে পারে মর্মে বিধান করা হয়।
ধারা-২৩৩(১)(ঝ) এ শিল্প সম্পর্কিত কাজ কর্মের একটি সংজ্ঞা দেয়া হয় এবং কয়েকটি সেক্টর, শিল্প ও কারখানা প্রকৃতি উল্লেখ করে কোন কোন জায়গায় প্রযোজ্য তা উল্লেখ করা হয়। সেই সময় উৎপাদনের সাথে শ্রমিকের মেধা, পরিশ্রম ও ঘামের অবদান কে স্বীকার করে এই অধ্যায়ের জন্য শ্রমিকের সংজ্ঞা নির্দিষ্ট করা হয়। ধারা-২৩৩(১)(জ) এ উল্লেখ করা হয় যে, “শ্রমিক” বলতে সেই ব্যক্তিকে বোঝায়, যিনি কোনো কোম্পানিতে পদমর্যাদা নির্বিশেষে কমপক্ষে ছয় মাস ধরে চাকরিতে নিয়োজিত আছেন। তবে ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক বা তদারকি কাজে যারা ছিলেন অর্থ্যাৎ যারা এ ধরনের দায়িত্ব পালন করেন, তারা শ্রমিকের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। আজকের শ্রম আইনের ২(৬৫) এ উল্লেখিত প্রশাসনিক, তদারকি কর্মকর্তা বা ব্যবস্থাপনামূলক কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে সচেতনভাবেই বাদ দেয়া হয়।
শ্রমিকের অর্থ তাই আর শ্রমিকের পকেটে পৌছানোর ব্যবস্থা হলো না। কোম্পানির লাভ শুধু কেনো শ্রমিক পাবে। এই বিধানের বাস্তবায়ন তাই খুড়িয়ে খুড়িয়ে এগুলো। আইন বাস্তবায়নের ও যারা এটি প্রতিপালনে গড়িমসি করলো তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া গেলো না। ধারনা করা হলো ধারা-২(৪৯) এর দফা (খ) তে উল্লেখিত মালিক কে যদি লাভের ভাগ দেয়া যায় তাহলে নাকি এই বিধান খুব দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। ২০১৩ এ শ্রম আইনে সংশোধন এনে শ্রমিকের সাথে মালিক কে যুক্ত করা হলো। মালিক, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, প্রধান নির্বাহী, অংশীদার ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ব্যতীত সবাইকে এই সুবিধা দিতে নতুন একটা টার্ম আবিষ্কার করা হলো। সেটাকে বলা হলো সুবিধাভোগী।
মিড লেভেল ম্যানেজমেন্টের এই সুবিধাভোগীরা ঠগীর ভুমিকায় অবতীর্ণ হলেন। শ্রমিকের ন্যায্য পাওনায় এইসব অফিসারগণ যখন বছর শেষে লাভের অর্থ পেলেন তখন নতুন ফন্দি খুজে পেলেন। সেটা কী? নতুন নতুন কনসালটেন্ট, লিগ্যাল এডভাইজার ও আইন বিশারদের আবির্ভাব হলো। তারা ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানের প্রাণভোমরা অসহায় শ্রমিকদের গায়েব করার পদ্ধতি আবিষ্কার করলেন।
অস্থায়ী ভিত্তিতে আউটসোর্সিং শ্রমিক নিয়োগ করে শ্রমিক শূণ্য হলো কারখানা ও প্রতিষ্ঠান। আউটসোর্সিং বা ঠিকাদারের শ্রমিক হলেন হীরক রাজার ধন্য দেশের খনি শ্রমিক। ভরপেট খাবেন না, নিজের পাওনা নিয়ে কৈফিয়ত চাইবেন না, চাকরির কোনো নিরাপত্তা নেই, দুর্ঘটনার কোনো ক্ষতিপূরণ নেই। চমৎকার একটা দাস ব্যবসা দেদারসে দেশে প্রতিষ্ঠা পেলো। ঠিকাদার কমিশন বাণিজ্য পেলেন। সেই কনসালটেন্ট হয়ে গেলেন ঠিকাদার। দেশের শিল্প কারখানা ও বহুজাতিক কোম্পানি এই ইনোভেশন লুফে নিলো। দেশের ধন্য ছেলেরা তাদের শ্রমিক ভাইবোনের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করার পদ্ধতি আবিষ্কার করলেন। মাত্র ২০-১০০ জনের স্থায়ী শ্রমিক দেখালো হলো। প্রতিষ্ঠানে বাকি সব শত শত, হাজার হাজার আউটসোর্সিং শ্রমিক নিয়োগ করা হলো। এই শ্রমিকরা বছরের পর বছর স্থায়ী ধরণের, ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রিকারিয়াস কাজগুলো করতে লাগলেন। জমিদারের হাতে যেমন কৃষক নির্যাতনের আর শোষণের কালজয়ী নাটক, উপন্যাস, কবিতায় গাদা গাদা সাহিত্য তৈরি হলো ঠিক তেমনি হয়তো অদূর ভবিষ্যতে এই আউটসোর্সিং শ্রমিকরা আরেক লেখক সাহিত্যিকের লেখার খোরাক যোগাবে।
Reporter Name 



























