
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের কালিনগরে দীর্ঘদিন ধরে চলমান জমির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত বিরোধের মধ্যে আদালতের নির্দেশে বিরোধপূর্ণ জমির ক্যাচম্যাপ (জমির নকশা) তৈরি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন সিভিল কোর্টের ভূমি কমিশনার মোঃ শাহজাহান। এ সময় মামলার বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে জমির অবস্থান ও সীমানা চিহ্নিত করে ক্যাচম্যাপ তৈরির কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, কালিনগরের ওই জমি নিয়ে হবিগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে ২০১২ সালের ৬৯ নম্বর স্বত্ব মোকদ্দমা বিচারাধীন রয়েছে। মামলায় মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে মোঃ শফিক মিয়া ও তাঁর পক্ষের অন্যরা বাদী হিসেবে রয়েছেন। অন্যদিকে মৃত আপতর হুসেনের ছেলে আপিল উদ্দিন ও তাঁর পক্ষের অন্যরা বিবাদী।
মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিরোধপূর্ণ জমির মূল মালিক ছিলেন সায়েরা ভানু বিবি। এসএ জরিপেও তাঁর নামে জমিটি রেকর্ডভুক্ত ছিল। নথিতে জমির শ্রেণি হিসেবে বাড়ি, সাইল, চারা ও ডোবার উল্লেখ রয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সায়েরা ভানু বিবির মৃত্যুর পর তাঁর তিন ছেলে আব্দুল হামিদ, আব্দুল খালেক ও আব্দুল ওয়াজেদ এবং এক মেয়ে খুশ বানু ওয়ারিশ সূত্রে জমির মালিকানা লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁদের উত্তরাধিকারীদের মধ্যে জমির মালিকানা ও প্রাপ্য হিস্যা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
বাদীপক্ষের দাবি, তাঁরা এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ারিশরা মৌরশি সূত্রে ওই জমির স্বত্ববান ও দখলকার হিসেবে ভোগদখল করে আসছেন। মামলার নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, জমির কয়েকজন ওয়ারিশ নগদ অর্থ গ্রহণের মাধ্যমে তাঁদের স্বত্ব ও দখলের দাবি বাদীপক্ষের অনুকূলে পরিত্যাগ করেন।
এ ছাড়া ২০০৯ সালে ২১০৯ নম্বর নামজারি মোকদ্দমার মাধ্যমে বিরোধপূর্ণ জমি নামজারি করা হয়েছে বলেও বাদীপক্ষের বক্তব্যে উল্লেখ রয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, ১ নম্বর বিবাদী আপিল উদ্দিন ২০০১ সালের শেষের দিক থেকে ওই জমি বর্গা চাষ করতেন।
মামলায় বাদীপক্ষ বিরোধপূর্ণ জমিতে তাঁদের সম্পূর্ণ স্বত্ব প্রতিষ্ঠা, বিবাদীপক্ষের দখল থেকে জমি উদ্ধার এবং খাস দখল ফিরে পাওয়ার প্রতিকার চেয়েছেন। তবে জমির মালিকানা, স্বত্ব ও দখল নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ থাকায় বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
এ অবস্থায় আদালতের নির্দেশে সরেজমিনে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে জমির ক্যাচম্যাপ তৈরির কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট জমির সীমানা, অবস্থান ও পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে এ কার্যক্রম মামলার পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
তবে বিরোধপূর্ণ জমির প্রকৃত মালিকানা, স্বত্ব ও দখল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন আদালত। ক্যাচম্যাপ তৈরির মাধ্যমে জমির অবস্থান ও সীমানা নিরূপণের কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও এতে কোনো পক্ষের মালিকানা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে এমনটি নয়।
Reporter Name 






















