কম্বোডিয়ার বিভিন্ন স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হওয়া ৩৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
ফেরত আসা বাংলাদেশিরা কম্বোডিয়ার বিভিন্ন প্রদেশের স্ক্যাম কম্পাউন্ডে দীর্ঘদিন আটকে ছিলেন। দেশে ফিরে তারা জানিয়েছেন, মোটা অঙ্কের বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দালাল চক্র তাদের কম্বোডিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার পর তাদের আটকে রেখে জোরপূর্বক প্রতারণামূলক সাইবার কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদেশে যাওয়ার আগে তাদের ভালো চাকরি ও উচ্চ বেতনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে যায়। তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্ক্যাম কম্পাউন্ডে আটকে রেখে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা হয়।
দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
দেশে ফেরার পর ভুক্তভোগীরা তাদের বিদেশে পাঠানো দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, চাকরির আশ্বাস দিয়ে বিদেশে পাঠানোর পরই দালালদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবতার পার্থক্য স্পষ্ট হয়। একপর্যায়ে তাদের স্ক্যাম কম্পাউন্ডে আটকে রাখা হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এ ধরনের প্রতারণা ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রকে চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হলে ভবিষ্যতে অন্য বাংলাদেশিরাও এমন প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে রক্ষা পাবেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় মানসিক পুনর্বাসন ও আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।
একই সঙ্গে দেশে ফেরত আসা নাগরিকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও অভিযোগ যাচাই করে মানবপাচার এবং সাইবার প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
Reporter Name 






















