প্রশাসনের ‘আইওয়াশ’ নোটিশ, নেপথ্যে ‘হলুদ খাম’ বাণিজ্যের অভিযোগ
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নাজিমগঞ্জ বাজারে সরকারি খাস জমি জবরদখল করে অবৈধ স্থাপনা ও পাকা ভবন নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। দখলদারদের উচ্ছেদে উপজেলা প্রশাসন ও ভূমি অফিস থেকে নামমাত্র নোটিশ বা চিঠি ইস্যু করা হলেও তা কেবল ‘আইওয়াশ’ বা লোক দেখানো কার্যক্রম বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এসব চিঠি কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
উপজেলা ভূমি অফিসের বসন্তপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে সম্প্রতি জারিকৃত এমনই একটি নোটিশ (স্মারক নং- এবং তারিখ: ২০.০৯.২৬) এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জি. এম. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, কালিগঞ্জ উপজেলার শীতলপুর মৌজার বি.আর.এস ১ নম্বর খতিয়ানের সরকারি খাস জমিতে বিনা অনুমতিতে অবৈধভাবে ইমারত নির্মাণ করা হচ্ছে। নোটিশে বলা হয়েছে, এটি ‘সরকারি এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ভূমি ও ইমারত (দখল ও পুনরুদ্ধার) অধ্যাদেশ, ১৯৭০-এর ৫(১) ধারার অপরাধ’।
নোটিশে আগামী ৩ (তিন) দিনের মধ্যে গণপতি গ্রামের মোঃ জাহাঙ্গীর আলমকে নিজ খরচে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলেও নোটিশ জারির পর বাস্তবে এর কোনো কার্যকারিতা দেখা যায় না।
নোটিশের অনুলিপিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি), কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরাকে বিষয়টি অবহিত করা হলেও মাঠপর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিগত কয়েক বছরে নাজিমগঞ্জ বাজারে এসিল্যান্ডের পক্ষ থেকে এ ধরনের ৩০টিরও বেশি নোটিশ বা চিঠি দেওয়া হয়েছে। ইতিপূর্বে ইউএনও হাতুড়ি দিয়ে আংশিক ছাদ ভেঙেছেন এবং এসিল্যান্ড বহুবার বাজারে অভিযান চালালেও অভিযুক্ত প্রভাবশালী দখলদারদের কাউকেই জমি বিক্রি কিংবা পাকা ছাদ নির্মাণ থেকে বিরত রাখতে পারেনি প্রশাসন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার নোটিশ প্রদান এবং লোক দেখানো অভিযানের আড়ালে একটি গভীর আঁতাত কাজ করছে।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে, অবৈধ দখল টিকিয়ে রাখতে এবং প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে ইতিমধ্যে প্রভাবশালী মহল থেকে সাংবাদিক, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করতে ‘হলুদ খাম’-এর মাধ্যমে কয়েক লক্ষ টাকা লেনদেন হয়েছে। তবে এই আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সূত্রটির দাবি, আর্থিক লেনদেনের কারণেই নোটিশ জারির পরও বহাল তবিয়তে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে।
সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে লোক দেখানো নোটিশ বা ‘আইওয়াশ’ অভিযান বন্ধ করে প্রকৃত দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
Reporter Name 
























