
মোঃ রনি রজব, ভোলাহাট উপজেলা প্রতিনিধি:
উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলে ব্যাপক পানি প্রবেশ শুরু হয়েছে। এতে প্রায় ৬ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে যাওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার পানি ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সোমবার সকাল ৯টায় ২১.৬২ সেন্টিমিটার প্রবাহিত হচ্ছে, যা বিপদসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার নিচে।পানিবন্দি এলাকার মধ্যে সদর উপজেলার নারায়ণপুরে ৫০০, আলাতুলিতে ৬০০, শিবগঞ্জের পাঁকা ইউনিয়নে ২ হাজার, উজিরপুরে ৪৫০ এবং দুর্লভপুরে প্রায় ৩ হাজার পরিবার রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বন্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪৩ হেক্টর ও শিবগঞ্জে ৩৬০ হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পাঁকা ইউনিয়নের বাসিন্দা ইয়াকুব আলী বলেন,“আমাদের ধান ও অন্যান্য ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এখন অনেক বাড়ির চারপাশে পানি ঢুকে গেছে, বাড়ির জায়গা ছাড়া চারদিকে পানি।”নারায়ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নাজির হোসেন বলেন,“পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে, তাদের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে পুরো নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।”দুর্লভপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহা. আজম আলী জানান,“ফিল্টেরহাট, নামোজগন্নাথপুর ও বাদশাপাড়াসহ নিম্নাঞ্চলের জমিগুলো ডুবে গেছে। এখানে প্রায় ৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি।”
শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন আশপাশের উঁচু জায়গায় বিকল্প পাঠদানের চেষ্টা করছে।ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম জানান,“সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিবগঞ্জ উপজেলার মানুষ। তাদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে।”
মোঃ রনি রজব 


























