
মাসুদ রানা, জামালপুর জেলা প্রতিনিধি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিজাম উদ্দিনের সাথে মুর্শেদা আক্তার মিহার বৈধভাবে বিয়ে হয়েছিল। তবে বিয়ের কিছুদিন পর মুর্শেদা আক্তার নিজেই নিজামকে তালাক দেন।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে মুর্শেদা আক্তার অভিযোগ করেন, জমি কেনার আশ্বাস দিয়ে নিজাম উদ্দিন তার ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও ৮ ভরি স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করেছেন। একই সাথে জামালপুরের বোসপাড়ার একটি বাসায় তাকে ১১ দিন অবরুদ্ধ রেখে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন এবং সেই দৃশ্য ধারণ করে হুমকিরও অভিযোগ তোলেন তিনি। এসব দাবিতে গত ৩০ জুন জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ একটি মামলাও দায়ের করেন মুর্শেদা।
সাবেক স্ত্রীর করা সংবাদ সম্মেলন ও মামলার প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপি নেতা নিজাম উদ্দিন। তিনি বলেন, মুর্শেদা আক্তার মিহা আমার বৈধ স্ত্রী ছিলেন। গত ১৪ মে ২০২৬ তারিখে আমাদের বিয়ে হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তিনি নিজেই গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখে আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবরে আমাকে প্রাপক করে তালাকের নোটিশ পাঠান। ১৫ জুন আমি তালাকের কাগজটা হাতে পাই, আর ১৪ জুন আমার ভাড়া বাসা থেকে মুর্শেদা আক্তার মিহা চলে যান। এখন কার উস্কানিতে নিজে তালাক দিয়ে আবার নিজেই আমার বিরুদ্ধে এমন জঘন্য মিথ্যাচার ও মামলা চালাচ্ছেন, তা আমার বোধগম্য নয়।” তিনি আরও বলেন, তাকে সামাজিকভাবে হেয়-প্রতিপন্ন করার জন্য একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। তিনি এই উস্কানিদাতাসহ মূল ষড়যন্ত্রকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
নিজাম উদ্দিন আরো বলেন, সংবাদ সম্মেলনে মুর্শেদা আক্তার মিহা বলেছে পাওনা টাকা উদ্ধার করে নিছে, আবার বলছে জমি কেনার জন্য টাকা দিছে। মুর্শেদার বক্তব্যই তো দুই রকম হচ্ছে। আপনাদের মাধ্যমে সকলের কাছে প্রশ্ন তার কোন কথাটা সঠিক। এক মুখে দুই কথাই বলে দেয় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমি ন্যায়ের পক্ষে আছি আল্লাহর রহমতে সত্যের জয় হবেই।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অপহরণ, ধর্ষণ বা অর্থ আত্মসাতের এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। নিজাম উদ্দিন আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়ায় একটি কুচক্রী মহলের উস্কানি ও লোভে পড়ে তাকে সামাজিকভাবে কোণঠাসা করতেই সাবেক স্ত্রীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এই হীন ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তালাক প্রদানের ব্যাপারে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে জামালপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের মুসলিম নিকাহ রেজিস্টার ও কাজী মো. আবু হানিফা আল মাসুম বলেন, মুর্শেদা আক্তার মিহা নিজেই তালাক প্রদান করেছেন এবং নিজাম উদ্দিনকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছেন। তালাক প্রদানে বাধ্য করা হয়েছিলো কি না প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন- না এখানে মেয়েটি নিজে থেকেই তালাক প্রদান করেছেন।
Reporter Name 





















