
( মা ও বাবার কণ্ঠে, ভালোবাসার ভাষায় )
আমি এসেছিলাম অতিথি শিক্ষার্থী হয়ে—
সূর্যদগ্ধ স্বপ্ন আর ঝড়বিক্ষুব্ধ ইতিহাস বয়ে,
বাংলাদেশ নামের এক আবেগপ্লাবিত দেশ থেকে,
উত্তরের নীরবতায়, আলো ঝলমলে গ্রীষ্মরাতের দেশে।
এক নতুন ভাষায়, এক অপরিচিত ভূমিতে
জীবনের এক নতুন অধ্যায় খুলে গেল নিঃশব্দে—
আর সেই প্রথম পাতাতেই লেখা হল ভালোবাসা।
তোমার মা, সুইডেনের এক আলোকিত কন্যা—
যার শিরায় বয়ে চলে স্পেনের সাগরের ঢেউ,
আর হৃদয়ে লুকানো উত্তর দেশের পাহাড়ি দৃঢ়তা।
আমরা দুজন—দুই মহাদেশ, দুই দিগন্ত—
ভাষা ও সংস্কৃতির সীমা ছাড়িয়ে
মিশে গিয়েছিলাম ভালোবাসার রঙে।
গড়ে তুলেছিলাম এক সংসার—
যেখানে সীমারেখাগুলো প্রেমের সামনে নিঃশব্দে হার মানে।
সেই ভালোবাসার কোমল মাটিতে ফুটে উঠল দুটি বীজ—
জনাথন, ১৯৯৫ সালের সুবেহ সাদিকের আলোয়,
আর তুমি, জেসিকা—
আমাদের বসন্তের বাতাস,
এক ফুল, যার পাঁপড়ি তিনটি সংস্কৃতির রঙে রাঙানো।
তুমি ছিলে শুরু থেকেই আলাদা—
চোখে ছিল নীরব দৃঢ়তা,
হৃদয়ে ছিল সহানুভূতির উষ্ণ আলো,
আর নিজের পথ গড়ে তোলার এক অনির্বচনীয় সাহস।
আমরা ছিলাম একাডেমিক—চাকরিজীবনের ছকে বাঁধা,
আর তোমরা দুই ভাইবোন বেছে নিলে টেনিসের কাদামাটি ভেজা প্রান্তর—
সাদা দাগ, লাল মাটি, আর নীরব গ্যালারির সামনে
এক নির্জন কিন্তু গৌরবময় যুদ্ধ।
জেসিকা—তুমি ছিলে সেই আলো,
যে আলো মেঘভাঙা দুপুরে চোখে ঝিলিক তোলে।
তোমার সার্ভ ছিল আকাশচিরা বজ্রের মতো তীব্র,
তোমার ফোরহ্যান্ড ছিল যুদ্ধের মতো স্নিগ্ধ আগুন।
তুমি ছিলে তোমার প্রজন্মের প্রতিভার উজ্জ্বলতম তারা।
কিন্তু একদিন তুমি থেমে গেলে—
র্যাকেট নামিয়ে রাখলে নিঃশব্দে,
ঝড়ের পরে বেছে নিলে এক মৃদু বিকেলের মতো নিরবতা।
আমরা প্রথমে থমকে গিয়েছিলাম,
হয়তো কিছুটা কষ্টও পেয়েছিলাম।
কিন্তু তুমি বলেছিলে—
“এটা আমার জীবন, মা-বাবা।”
সেই এক বাক্যে আমাদের হৃদয় শিখেছিল—
ভালোবাসা মানে স্বাধীনতার পূর্ণ দান।
তুমি ফিরে গেলে আমাদেরই চেনা পথে—
কিন্তু নিজের ছন্দে, নিজের আলোয়।
আজ তুমি কর্মজগতের আকাশে এক উজ্জ্বল তারা—
সবার প্রিয়, সবার নির্ভরতার নাম,
একটি কোম্পানি নয়, বরং একটি প্রেরণা।
আজ তুমি ২৪ বছরের এক পূর্ণচন্দ্র।
আর কী-ই বা চাইতে পারি আমরা?
তুমি শুধু আমাদের মেয়ে নও—
তুমি আমাদের স্বপ্নের প্রজাপতি,
তুমি আমাদের ভালোবাসার গান,
তুমি আমাদের গর্বের কবিতা।
তুমি প্রমাণ করেছো—
ভালোবাসা পারে ভাষা, জাতি, ভূগোলের সীমানা মুছে দিতে।
তুমি দেখিয়ে দিয়েছো—
তিন মাটির মিলনে একটি জীবন গড়ে উঠতে পারে
নরম অথচ দৃঢ়, রঙিন অথচ গভীর—
একটি জীবন, যেখানে হৃদয়ই একমাত্র মানচিত্র।
প্রিয় জেসিকা,
তুমি আমাদের ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি।
তোমার জীবন যেন চিরকাল
তোমার অন্তরের নিজস্ব সুরে
নৃত্য করে চলে মুক্ত আকাশে।
আমরা তোমায় ভালোবাসি—
শব্দের সীমা ছাড়িয়ে,
সময়ের ঊর্ধ্বে।
তোমার শুভ জন্মদিনে চিরন্তন মমতায়,
তোমার মা ও বাবা।
রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক
(সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন)
Rahman.Mridha@gmail.com
রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক,সুইডেন 




























