Dhaka ০৭:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
প্রেমের বিরোধে সুমিকে হত্যা, মরদেহ পোড়ানোর মামলায় প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড স্বর্ণের লোভে ড্রিল মেশিনে মাথা ফুটো করে হত্যা, আসামির যাবজ্জীবন হরমুজে ট্যাংকারে প্রজেক্টাইল হামলা, আহত ১১ ভারতীয় নাবিক ঢাকায় হত্যার পর ডিমলায় মাটিচাপা কিশোরের লাশ উদ্ধার মানবাধিকার সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে সাংবাদিক আব্দুল আউয়াল মিছবাহ শিবপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা এশিয়ার বড় বাজারে বাড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি ঢাকাসহ দেশের প্রধান শহরগুলোর ভূমিকম্প প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার নির্দেশ জ্বালানি ও রাজস্বে দ্রুত সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের দুই পায়ে হাঁটতে পারেন না কামাল, জীবিকার তাগিদে ওঠেন গাছের মগডালে
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

জ্বালানি ও রাজস্বে দ্রুত সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের

  • Reporter Name
  • সময়: ০৬:৪৫:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ Time View

 

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০২৩ সাল থেকেই ধীরগতির মধ্যে রয়েছে। জ্বালানি সংকট, আর্থিক খাতের দুর্বলতা, রাজস্ব আহরণে সীমিত সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে দেশের অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস তুলে ধরে এসব তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে। বিনিয়োগে স্থবিরতা, রপ্তানি প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়াকে অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বেড়েছে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আর্থিক খাতের দুর্বলতার কারণে ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার কারণে সরকারি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বহির্খাতে কিছুটা স্বস্তি

তবে বাংলাদেশের বহির্খাতে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ায় এ খাত তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।

সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি এবং সরকারের সংস্কার কার্যক্রম গতি পেলে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উঠতে পারে।

দারিদ্র্য ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক চিত্র

অর্থনৈতিক দুর্বলতার প্রভাব পড়েছে দারিদ্র্য ও কর্মসংস্থানেও। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে।

একই সময়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি কার্যত থমকে গেছে। বিশেষ করে নারীদের কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

খেলাপি ঋণ বেড়ে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ

ব্যাংক খাতের ঝুঁকিও বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৬ সালের জুনে তা বেড়ে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  এশিয়ার বড় বাজারে বাড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি

বিশ্বব্যাংকের মতে, ব্যাংকিং খাতের এই দুর্বলতা ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

অন্যদিকে, ২০২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণ জিডিপির মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা বিশ্বের সর্বনিম্ন হারগুলোর একটি। এর ফলে প্রয়োজনীয় খাতে সরকারি ব্যয়ের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে।

এ সময়ে বাজেট ঘাটতিও বেড়েছে। ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ অর্থবছরে তা ৩ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

‘কাজ শুরুর সময় এখনই’

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক বিভাগীয় পরিচালক জাঁ পেসমে বলেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়িয়ে বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত এবং সাহসী সংস্কার প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি আরও বেশি ও মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। কাজ শুরুর সময় এখনই।

সামাজিক সুরক্ষায় লক্ষ্যভিত্তিক সংস্কারের পরামর্শ

বিশ্বব্যাংক বলছে, সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি ও কৃষি ভর্তুকি দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে সহায়তা করছে। তবে দেশের সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেক এখনো কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় নেই।

সুবিধাভোগী নির্বাচনের পদ্ধতি আরও লক্ষ্যভিত্তিক করা গেলে এসব কর্মসূচির কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছে সংস্থাটি।

এ ক্ষেত্রে সরকারের ‘ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক। সমন্বিত এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্যভিত্তিকভাবে উপকারভোগী নির্বাচন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন মানুষকে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে যুক্ত করা সম্ভব হবে।

বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একাধিক খাদ্যভিত্তিক ভর্তুকি কর্মসূচি একীভূত করে বিদ্যমান নগদ সহায়তার সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ডের উন্নত লক্ষ্যনির্ধারণ যুক্ত করা গেলে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা সম্ভব।

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯ শতাংশ

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেটের পাশাপাশি মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আঞ্চলিক প্রতিবেদন ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক আপডেট’ প্রকাশিত হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  আইএমএফের শর্ত আর না মানার কথা জানালেন অর্থমন্ত্রী

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে বৈশ্বিক ধাক্কা সামলে চলতি বছর দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতি বাড়লে ২০২৭ সালে তা কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে নামতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বলেন, কঠিন বৈশ্বিক পরিস্থিতিতেও দক্ষিণ এশিয়া উল্লেখযোগ্য সহনশীলতা দেখিয়েছে। তবে প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখা এবং আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে নতুন প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

এআইয়ে নতুন সম্ভাবনা দেখছে বিশ্বব্যাংক

দক্ষিণ এশিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উন্নত অর্থনীতিগুলোর তুলনায় অঞ্চলটি এখনো পিছিয়ে থাকলেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নতুন বাজার ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে এআই ব্যবহার করছে। সরকারি সেবাতেও এর ব্যবহার বাড়ছে।

প্রতিবেদনে উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, ভারতে ক্ষুদ্র কৃষকদের কাছে এআইভিত্তিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশেও এআই-সহায়তায় চোখের রেটিনা পরীক্ষা চালু হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের এশিয়াবিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রাঞ্জিস্কা ওনসর্গ বলেন, এআই দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নের গতিপথ বদলে দিতে পারে। শ্রমের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সরকারি সেবার মান উন্নয়নে এর বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এআইয়ের সুফল পেতে হলে প্রযুক্তি গ্রহণের পথে থাকা মৌলিক ঘাটতিগুলো দূর করতে সরকারগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

প্রেমের বিরোধে সুমিকে হত্যা, মরদেহ পোড়ানোর মামলায় প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড

জ্বালানি ও রাজস্বে দ্রুত সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের

সময়: ০৬:৪৫:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

 

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০২৩ সাল থেকেই ধীরগতির মধ্যে রয়েছে। জ্বালানি সংকট, আর্থিক খাতের দুর্বলতা, রাজস্ব আহরণে সীমিত সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে দেশের অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস তুলে ধরে এসব তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে। বিনিয়োগে স্থবিরতা, রপ্তানি প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়াকে অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বেড়েছে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আর্থিক খাতের দুর্বলতার কারণে ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার কারণে সরকারি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বহির্খাতে কিছুটা স্বস্তি

তবে বাংলাদেশের বহির্খাতে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ায় এ খাত তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।

সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি এবং সরকারের সংস্কার কার্যক্রম গতি পেলে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উঠতে পারে।

দারিদ্র্য ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক চিত্র

অর্থনৈতিক দুর্বলতার প্রভাব পড়েছে দারিদ্র্য ও কর্মসংস্থানেও। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে।

একই সময়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি কার্যত থমকে গেছে। বিশেষ করে নারীদের কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

খেলাপি ঋণ বেড়ে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ

ব্যাংক খাতের ঝুঁকিও বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৬ সালের জুনে তা বেড়ে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  এশিয়ার বড় বাজারে বাড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি

বিশ্বব্যাংকের মতে, ব্যাংকিং খাতের এই দুর্বলতা ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

অন্যদিকে, ২০২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণ জিডিপির মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা বিশ্বের সর্বনিম্ন হারগুলোর একটি। এর ফলে প্রয়োজনীয় খাতে সরকারি ব্যয়ের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে।

এ সময়ে বাজেট ঘাটতিও বেড়েছে। ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ অর্থবছরে তা ৩ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

‘কাজ শুরুর সময় এখনই’

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক বিভাগীয় পরিচালক জাঁ পেসমে বলেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়িয়ে বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত এবং সাহসী সংস্কার প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি আরও বেশি ও মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। কাজ শুরুর সময় এখনই।

সামাজিক সুরক্ষায় লক্ষ্যভিত্তিক সংস্কারের পরামর্শ

বিশ্বব্যাংক বলছে, সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি ও কৃষি ভর্তুকি দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে সহায়তা করছে। তবে দেশের সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেক এখনো কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় নেই।

সুবিধাভোগী নির্বাচনের পদ্ধতি আরও লক্ষ্যভিত্তিক করা গেলে এসব কর্মসূচির কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছে সংস্থাটি।

এ ক্ষেত্রে সরকারের ‘ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক। সমন্বিত এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্যভিত্তিকভাবে উপকারভোগী নির্বাচন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন মানুষকে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে যুক্ত করা সম্ভব হবে।

বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একাধিক খাদ্যভিত্তিক ভর্তুকি কর্মসূচি একীভূত করে বিদ্যমান নগদ সহায়তার সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ডের উন্নত লক্ষ্যনির্ধারণ যুক্ত করা গেলে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা সম্ভব।

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯ শতাংশ

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেটের পাশাপাশি মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আঞ্চলিক প্রতিবেদন ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক আপডেট’ প্রকাশিত হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  আইএমএফের শর্ত আর না মানার কথা জানালেন অর্থমন্ত্রী

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে বৈশ্বিক ধাক্কা সামলে চলতি বছর দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতি বাড়লে ২০২৭ সালে তা কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে নামতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বলেন, কঠিন বৈশ্বিক পরিস্থিতিতেও দক্ষিণ এশিয়া উল্লেখযোগ্য সহনশীলতা দেখিয়েছে। তবে প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখা এবং আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে নতুন প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

এআইয়ে নতুন সম্ভাবনা দেখছে বিশ্বব্যাংক

দক্ষিণ এশিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উন্নত অর্থনীতিগুলোর তুলনায় অঞ্চলটি এখনো পিছিয়ে থাকলেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নতুন বাজার ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে এআই ব্যবহার করছে। সরকারি সেবাতেও এর ব্যবহার বাড়ছে।

প্রতিবেদনে উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, ভারতে ক্ষুদ্র কৃষকদের কাছে এআইভিত্তিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশেও এআই-সহায়তায় চোখের রেটিনা পরীক্ষা চালু হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের এশিয়াবিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রাঞ্জিস্কা ওনসর্গ বলেন, এআই দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নের গতিপথ বদলে দিতে পারে। শ্রমের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সরকারি সেবার মান উন্নয়নে এর বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এআইয়ের সুফল পেতে হলে প্রযুক্তি গ্রহণের পথে থাকা মৌলিক ঘাটতিগুলো দূর করতে সরকারগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।