Dhaka ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
বিশ্বম্ভরপুর পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত সভাপতি স্বপন কুমার বর্মন, সাধারণ সম্পাদক বিজিৎ মৈত্র নির্বাচিত মহিষখলায় লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও অভিযোগ কেন্দ্র ঘেরাও ভাঙ্গুড়ায় শ্রমিক কল্যাণের ট্রেড ইউনিয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত ভালুকায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত, চরম দুর্ভোগে গ্রাহকরা কাউখালীতে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান: ৯৫ পিস ইয়াবাসহ চারজন আটক তেঁতুলিয়ায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পালনে উপজেলা পর্যায়ে অ্যাডভোকেসি ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত কাউখালীতে ৯৫ পিস ইয়াবাসহ চারজন আটক, আদালতে প্রেরণ তাহিরপুরে হযরত শাহ আরেফিন আস্থানা কমিটির সদস্য সচিবকে নিয়ে মানহানিকর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক আলম সাব্বির হুন্ডি ব্যবসার অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সোহেল রানাসহ ৪ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা শীলখালী চেকপোস্টে পিকআপে ৪৬ হাজার ইয়াবা, চালক গ্রেপ্তার
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ঝিকরগাছা হাসপাতালে ইসিজি কেলেঙ্কারি: তদন্ত শেষ হলেও নীরব কর্তৃপক্ষ, ধামাচাপার অভিযোগ

  • Reporter Name
  • সময়: ০৬:৩০:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • ৭ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক:


যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্ডিওগ্রাফার (ইসিজি টেকনিশিয়ান) রিয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্যের অভিযোগের তদন্ত শেষ হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ধামাচাপার অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিক আফজাল হোসেন চাঁদকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্ডিওগ্রাফার নিজে, তার স্ত্রী ও সহযোগীদের মাধ্যমে অশালীন মন্তব্য করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

ঘটনার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মে ২০২৬ তারিখে ঈদুল আযহার সরকারি ছুটির আগে হাসপাতালে ইসিজি সেবা নিতে আসা রোগীরা ভোগান্তিতে পড়েন। সংশ্লিষ্ট কার্ডিওগ্রাফার রিয়াজুল ইসলাম কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলে অভিযোগ ওঠে, যদিও কোনো ছুটির অনুমোদনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে পরদিন স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এরপর ১ জুন ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী সাংবাদিক আফজাল হোসেন চাঁদ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের অনুলিপি সিভিল সার্জন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে ৬ জুন ২০২৬ তারিখে তদন্ত বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে একজন হেলথ সহকারী দিয়ে ইসিজি কার্যক্রম চালানো হয়েছিল, যা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগকারী আফজাল হোসেন চাঁদ জানান, তদন্ত শেষ হলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

তদন্ত বোর্ডের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক সুপার নিউমারারী (মেডিসিন) ডা. মো. রফিকুজ্জামান বলেন, তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে প্রতিবেদন দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বুড়িচংয়ে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রশিদ বলেন, অভিযুক্তকে শোকজ করা হয়েছে এবং তিনি জবাব দিয়েছেন। জবাবের কপি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন এখনো তার দপ্তরে আসেনি, এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা বলেন, অভিযুক্তকে সতর্ক করা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও সাংবাদিকরা দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

বিশ্বম্ভরপুর পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত সভাপতি স্বপন কুমার বর্মন, সাধারণ সম্পাদক বিজিৎ মৈত্র নির্বাচিত

ঝিকরগাছা হাসপাতালে ইসিজি কেলেঙ্কারি: তদন্ত শেষ হলেও নীরব কর্তৃপক্ষ, ধামাচাপার অভিযোগ

সময়: ০৬:৩০:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:


যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্ডিওগ্রাফার (ইসিজি টেকনিশিয়ান) রিয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্যের অভিযোগের তদন্ত শেষ হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ধামাচাপার অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিক আফজাল হোসেন চাঁদকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্ডিওগ্রাফার নিজে, তার স্ত্রী ও সহযোগীদের মাধ্যমে অশালীন মন্তব্য করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

ঘটনার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মে ২০২৬ তারিখে ঈদুল আযহার সরকারি ছুটির আগে হাসপাতালে ইসিজি সেবা নিতে আসা রোগীরা ভোগান্তিতে পড়েন। সংশ্লিষ্ট কার্ডিওগ্রাফার রিয়াজুল ইসলাম কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলে অভিযোগ ওঠে, যদিও কোনো ছুটির অনুমোদনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে পরদিন স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এরপর ১ জুন ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী সাংবাদিক আফজাল হোসেন চাঁদ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের অনুলিপি সিভিল সার্জন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে ৬ জুন ২০২৬ তারিখে তদন্ত বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে একজন হেলথ সহকারী দিয়ে ইসিজি কার্যক্রম চালানো হয়েছিল, যা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগকারী আফজাল হোসেন চাঁদ জানান, তদন্ত শেষ হলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

তদন্ত বোর্ডের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক সুপার নিউমারারী (মেডিসিন) ডা. মো. রফিকুজ্জামান বলেন, তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে প্রতিবেদন দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ভাঙ্গুড়ায় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রশিদ বলেন, অভিযুক্তকে শোকজ করা হয়েছে এবং তিনি জবাব দিয়েছেন। জবাবের কপি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন এখনো তার দপ্তরে আসেনি, এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা বলেন, অভিযুক্তকে সতর্ক করা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও সাংবাদিকরা দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।