Dhaka ০১:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
কলকাতা ইসকনের উদ্যোগে বাবুঘাট গঙ্গা তীর পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতার অভিযান চালালেন আত্রাই রেললাইনের পাশে পড়ে ছিল কলেজ অধ্যক্ষের মরদেহ!! হোয়াইক্যং আলহাজ্ব আলী আছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হলেন জুনায়েদ আলী চৌধুরী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থীদের মেধা ও একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরুপ মেডেল ও সম্মামনা প্রদান ‘লা পুলগা’ থেকে ‘দ্য গোট’ রেকর্ডের অপেক্ষায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, পর্তুগালের মুখোমুখি হবে ডিআর কঙ্গো সংসদে বাজেটকে ‘চানাচুর মার্কা’ বললেন এমপি আমির হামজা সকল অপকর্মের সমাপ্তি চাই গফরগাঁওয়ে স্বামীকে বেঁধে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ‘গেম চেঞ্জার’ বললেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ডিভোর্স কেন বাড়ছে?—ভাঙনের পেছনে সমাজের অদৃশ্য সংকট”

 

অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া
        আইনজীবী, লেখক ও সমাজ বিশ্লেষক,

ভূমিকা: ভালোবাসার ভাঙন, সমাজের ক্ষয়-

বাংলাদেশে এখন প্রতিদিনই কোনো না কোনো পরিবারে ডিভোর্স হচ্ছে।
একটি সম্পর্ক ভাঙে, দুটি পরিবার কেঁপে ওঠে,
আর একটি শিশু হারায় তার নিরাপত্তার অনুভূতি।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই ভাঙন কেন এত দ্রুত বাড়ছে?
কেন মানুষ আর একে অপরকে বুঝতে চায় না?
কেন এক টেবিলে বসে কথা বলার বদলে এখন সবাই আদালতের পথে ছুটছে?

গত ৯ মাসের এক বাস্তব গবেষণায় (অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া কর্তৃক পরিচালিত)
২৪৫ জন ডিভোর্সপ্রাপ্ত নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার থেকে উঠে এসেছে এক গভীর সামাজিক সংকটের চিত্র।

 

গবেষণার মূল ফলাফল: সম্পর্ক ভাঙনের অজানা পরিসংখ্যান –

৭২% ডিভোর্সের মূল কারণ ছিল অহংকার, ভুল বোঝাবুঝি, ও সম্মানহীনতা।

১৮% ক্ষেত্রে ছিল পরকীয়া ও মানসিক অবিশ্বাস।

১০% ক্ষেত্রে স্ত্রীর বিলাসী জীবনধারা ও অবাস্তব চাহিদা বড় ভূমিকা রেখেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য —
৭৮% ডিভোর্সের সূত্রপাত নারী পক্ষ থেকে, আর ২২% পুরুষের কারণে।

অর্থাৎ, আজকের সমাজে নারী-পুরুষ উভয়ই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে,যেখানে “আমার” জয়লাভই গুরুত্বপূর্ণ, “আমাদের” নয়।

ডিভোর্স-পরবর্তী অনুশোচনা: হেরে যাওয়া দুই জীবনের গল্প-

গবেষণায় দেখা গেছে —
৯২% নারী ও পুরুষই ডিভোর্সের পর অনুতপ্ত।
তাদের মুখে একটাই বাক্য —

“যদি একটু ধৈর্য ধরতাম, সবকিছু হয়তো ঠিক থাকত।”

অর্থাৎ, ভালোবাসা হারিয়ে যাচ্ছে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত আর অপমানের প্রতিশোধে।
সামাজিক মিডিয়ার প্রভাব, ভুল পরামর্শ, এবং আত্মমর্যাদার অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা
আজ সম্পর্ককে করে তুলেছে একবার ব্যবহারযোগ্য কাঁচের মতো —একবার ভাঙলে আর জোড়া লাগে না।

 

তালাকপ্রাপ্ত নারীদের বাস্তবতা: নীরব কষ্টের ছায়া-

গবেষণায় দেখা গেছে —
৮৯% নারী দ্বিতীয়বার বিয়ে করতে পারছে না।
৪% নারী নিজের ইচ্ছায় বিয়ে এড়িয়ে চলছে।
৭% নারী সমাজের অবহেলায় ভুল পথে পা বাড়িয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  রিকশা চালক নকির চ/র/ম অসহায়

বাংলাদেশের সমাজ কাঠামো এখনো ডিভোর্সপ্রাপ্ত নারীকে “দোষী” মনে করে।
অর্থাৎ, একজন নারী যদি সম্পর্ক ভাঙে—তাকে বিচার করে সমাজ, পরিবার, এমনকি নিজের আত্মীয়রাও।
ফলে তার মানসিক অবস্থা আরও ভেঙে পড়ে।
অন্যদিকে পুরুষের ক্ষেত্রে সমাজের মনোভাব তুলনামূলকভাবে সহনশীল।

 

 

পুরুষদের বাস্তবতা: পুনর্বিবাহের সুখ ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব-
৮৫% পুরুষ দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছে।
১৩% বিয়ে নিয়ে আর আগ্রহী নয়।
২% বিপথগামী জীবনে জড়িয়েছে।

অবাক করার বিষয়,
৬৭% পুরুষ দ্বিতীয়বার কুমারী মেয়েকে বিয়ে করেছে,
কিন্তু নারীরা কুমার পুরুষ পেয়েছে মাত্র ০.১% ক্ষেত্রে!

এ থেকেই বোঝা যায়,
আমাদের সমাজে এখনো নারীর চরিত্র বিচার হয় অতীত দিয়ে, পুরুষের নয়।

দ্বিতীয় বিয়ের বাস্তবতা: সুখ না প্রতারণা?

১২% নারী দ্বিতীয় বিয়েতে আবারও তালাকপ্রাপ্ত।

৮৯% নারী দ্বিতীয় সংসারে অসুখী।

অন্যদিকে —
মাত্র ২% পুরুষ দ্বিতীয়বার ডিভোর্স দিয়েছে,

এবং মাত্র ৩% পুরুষ দ্বিতীয় সংসারে অসুখী।

সবচেয়ে চমকপ্রদ ফলাফল—

দ্বিতীয়বার ডিভোর্স দেওয়া পুরুষদের স্ত্রীরা প্রায় সবাই আগের ডিভোর্সপ্রাপ্ত নারী।
কিন্তু যারা বিধবা নারীকে বিয়ে করেছে,
তাদের মধ্যে ৯৩% পুরুষই সুখী সংসার করছে।

এই পরিসংখ্যান সমাজবিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছে —
বিধবা নারী সমাজে হয়তো বেশি সহনশীল, পরিণত ও বাস্তববাদী,
যার ফলে সংসারে স্থিতি আসে।

মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক বিশ্লেষণ: কোথায় ভাঙছে সম্পর্ক?

ডিভোর্সের হার বৃদ্ধির পেছনে মূলত তিনটি সামাজিক কারণ কাজ করছে —
১) ইগো বা আত্মমর্যাদার ভুল ধারণা: “আমি কেন আগে ক্ষমা চাইব?”—এই মানসিকতা সম্পর্ককে হত্যা করছে।
২) সোশ্যাল মিডিয়া ও কৃত্রিম তুলনা: অন্যের সুখ দেখে নিজের সম্পর্ককে তুচ্ছ মনে হচ্ছে।
৩) পরিবারের মূল্যবোধের অবক্ষয়:বয়োজ্যেষ্ঠদের পরামর্শ ও ধৈর্যশিক্ষা আজ হারিয়ে গেছে।

আইনি দৃষ্টিকোণ: ডিভোর্সের সহজ প্রক্রিয়া, কঠিন পরিণতি

বর্তমান আইন অনুযায়ী মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশ ১৯৬১ ও ২০১০ সালের সংশোধনীর ফলে
ডিভোর্স এখন তুলনামূলক সহজতর হয়েছে।তবে আইন “সহজ” হলেও এর সামাজিক প্রভাব ভয়াবহ।
কারণ আইন সম্পর্ক শেষ করে, কিন্তু মনোভাব ও ক্ষতচিহ্ন সারায় না।

আরও পড়ুনঃ  গণ'বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে জামালপুর জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা খানের আয়োজনে শুভেচ্ছা মিছিল ও পথসভা

সমাধান: সমাজে নতুন মূল্যবোধের প্রত্যাবর্তন:-

শিক্ষায় পারিবারিক নৈতিকতা ও সহমর্মিতা শেখানো দরকার।

দম্পতি কাউন্সেলিং বাধ্যতামূলক করা উচিত আদালতে যাওয়ার আগে।

মিডিয়া ও সোশ্যাল নেটওয়ার্কে পরিবারভিত্তিক ইতিবাচক বার্তা প্রচার করা দরকার।

আইনজীবী ও ধর্মীয় নেতাদের উচিত মানুষকে মিলনের পথে উৎসাহিত করা, বিচ্ছেদ নয়।

সুতরাং : ডিভোর্স নয়, দরকার ধৈর্য ও সহমর্মিতা

ডিভোর্স কোনো সমাধান নয়, এটা একটি শেষ প্রান্ত।
এখান থেকে কেউ জেতে না, সবাই হারে।

একটি সম্পর্ক ভাঙে মানে একটি সমাজ দুর্বল হয়।
একটি শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়।
এবং একদিন, আমরা সবাই বুঝতে পারব—
ভালোবাসা হারানোই মানুষের সবচেয়ে বড় দারিদ্র্য।

শেষ বার্তা:
“বুদ্ধিমান মানুষ সেই নয়, যে ঝগড়ায় জয়ী হয়—
বরং সে, যে সময়মতো ক্ষমা করে ভালোবাসাকে টিকিয়ে রাখে।”

অ্যাডভোকেট মো কামরুজ্জামান ভূঁইয়া
অ্যাডভোকেট, লেখক, গবেষক, কলামিস্ট, গীতিকার।

 

অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া
আইনজীবী, লেখক ও সমাজ বিশ্লেষক

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

কলকাতা ইসকনের উদ্যোগে বাবুঘাট গঙ্গা তীর পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতার অভিযান চালালেন

ডিভোর্স কেন বাড়ছে?—ভাঙনের পেছনে সমাজের অদৃশ্য সংকট”

সময়: ০৮:৫৭:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

 

অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া
        আইনজীবী, লেখক ও সমাজ বিশ্লেষক,

ভূমিকা: ভালোবাসার ভাঙন, সমাজের ক্ষয়-

বাংলাদেশে এখন প্রতিদিনই কোনো না কোনো পরিবারে ডিভোর্স হচ্ছে।
একটি সম্পর্ক ভাঙে, দুটি পরিবার কেঁপে ওঠে,
আর একটি শিশু হারায় তার নিরাপত্তার অনুভূতি।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই ভাঙন কেন এত দ্রুত বাড়ছে?
কেন মানুষ আর একে অপরকে বুঝতে চায় না?
কেন এক টেবিলে বসে কথা বলার বদলে এখন সবাই আদালতের পথে ছুটছে?

গত ৯ মাসের এক বাস্তব গবেষণায় (অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া কর্তৃক পরিচালিত)
২৪৫ জন ডিভোর্সপ্রাপ্ত নারী ও পুরুষের সাক্ষাৎকার থেকে উঠে এসেছে এক গভীর সামাজিক সংকটের চিত্র।

 

গবেষণার মূল ফলাফল: সম্পর্ক ভাঙনের অজানা পরিসংখ্যান –

৭২% ডিভোর্সের মূল কারণ ছিল অহংকার, ভুল বোঝাবুঝি, ও সম্মানহীনতা।

১৮% ক্ষেত্রে ছিল পরকীয়া ও মানসিক অবিশ্বাস।

১০% ক্ষেত্রে স্ত্রীর বিলাসী জীবনধারা ও অবাস্তব চাহিদা বড় ভূমিকা রেখেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য —
৭৮% ডিভোর্সের সূত্রপাত নারী পক্ষ থেকে, আর ২২% পুরুষের কারণে।

অর্থাৎ, আজকের সমাজে নারী-পুরুষ উভয়ই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে,যেখানে “আমার” জয়লাভই গুরুত্বপূর্ণ, “আমাদের” নয়।

ডিভোর্স-পরবর্তী অনুশোচনা: হেরে যাওয়া দুই জীবনের গল্প-

গবেষণায় দেখা গেছে —
৯২% নারী ও পুরুষই ডিভোর্সের পর অনুতপ্ত।
তাদের মুখে একটাই বাক্য —

“যদি একটু ধৈর্য ধরতাম, সবকিছু হয়তো ঠিক থাকত।”

অর্থাৎ, ভালোবাসা হারিয়ে যাচ্ছে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত আর অপমানের প্রতিশোধে।
সামাজিক মিডিয়ার প্রভাব, ভুল পরামর্শ, এবং আত্মমর্যাদার অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা
আজ সম্পর্ককে করে তুলেছে একবার ব্যবহারযোগ্য কাঁচের মতো —একবার ভাঙলে আর জোড়া লাগে না।

 

তালাকপ্রাপ্ত নারীদের বাস্তবতা: নীরব কষ্টের ছায়া-

গবেষণায় দেখা গেছে —
৮৯% নারী দ্বিতীয়বার বিয়ে করতে পারছে না।
৪% নারী নিজের ইচ্ছায় বিয়ে এড়িয়ে চলছে।
৭% নারী সমাজের অবহেলায় ভুল পথে পা বাড়িয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  গণ'বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে জামালপুর জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা খানের আয়োজনে শুভেচ্ছা মিছিল ও পথসভা

বাংলাদেশের সমাজ কাঠামো এখনো ডিভোর্সপ্রাপ্ত নারীকে “দোষী” মনে করে।
অর্থাৎ, একজন নারী যদি সম্পর্ক ভাঙে—তাকে বিচার করে সমাজ, পরিবার, এমনকি নিজের আত্মীয়রাও।
ফলে তার মানসিক অবস্থা আরও ভেঙে পড়ে।
অন্যদিকে পুরুষের ক্ষেত্রে সমাজের মনোভাব তুলনামূলকভাবে সহনশীল।

 

 

পুরুষদের বাস্তবতা: পুনর্বিবাহের সুখ ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব-
৮৫% পুরুষ দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছে।
১৩% বিয়ে নিয়ে আর আগ্রহী নয়।
২% বিপথগামী জীবনে জড়িয়েছে।

অবাক করার বিষয়,
৬৭% পুরুষ দ্বিতীয়বার কুমারী মেয়েকে বিয়ে করেছে,
কিন্তু নারীরা কুমার পুরুষ পেয়েছে মাত্র ০.১% ক্ষেত্রে!

এ থেকেই বোঝা যায়,
আমাদের সমাজে এখনো নারীর চরিত্র বিচার হয় অতীত দিয়ে, পুরুষের নয়।

দ্বিতীয় বিয়ের বাস্তবতা: সুখ না প্রতারণা?

১২% নারী দ্বিতীয় বিয়েতে আবারও তালাকপ্রাপ্ত।

৮৯% নারী দ্বিতীয় সংসারে অসুখী।

অন্যদিকে —
মাত্র ২% পুরুষ দ্বিতীয়বার ডিভোর্স দিয়েছে,

এবং মাত্র ৩% পুরুষ দ্বিতীয় সংসারে অসুখী।

সবচেয়ে চমকপ্রদ ফলাফল—

দ্বিতীয়বার ডিভোর্স দেওয়া পুরুষদের স্ত্রীরা প্রায় সবাই আগের ডিভোর্সপ্রাপ্ত নারী।
কিন্তু যারা বিধবা নারীকে বিয়ে করেছে,
তাদের মধ্যে ৯৩% পুরুষই সুখী সংসার করছে।

এই পরিসংখ্যান সমাজবিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছে —
বিধবা নারী সমাজে হয়তো বেশি সহনশীল, পরিণত ও বাস্তববাদী,
যার ফলে সংসারে স্থিতি আসে।

মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক বিশ্লেষণ: কোথায় ভাঙছে সম্পর্ক?

ডিভোর্সের হার বৃদ্ধির পেছনে মূলত তিনটি সামাজিক কারণ কাজ করছে —
১) ইগো বা আত্মমর্যাদার ভুল ধারণা: “আমি কেন আগে ক্ষমা চাইব?”—এই মানসিকতা সম্পর্ককে হত্যা করছে।
২) সোশ্যাল মিডিয়া ও কৃত্রিম তুলনা: অন্যের সুখ দেখে নিজের সম্পর্ককে তুচ্ছ মনে হচ্ছে।
৩) পরিবারের মূল্যবোধের অবক্ষয়:বয়োজ্যেষ্ঠদের পরামর্শ ও ধৈর্যশিক্ষা আজ হারিয়ে গেছে।

আইনি দৃষ্টিকোণ: ডিভোর্সের সহজ প্রক্রিয়া, কঠিন পরিণতি

বর্তমান আইন অনুযায়ী মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশ ১৯৬১ ও ২০১০ সালের সংশোধনীর ফলে
ডিভোর্স এখন তুলনামূলক সহজতর হয়েছে।তবে আইন “সহজ” হলেও এর সামাজিক প্রভাব ভয়াবহ।
কারণ আইন সম্পর্ক শেষ করে, কিন্তু মনোভাব ও ক্ষতচিহ্ন সারায় না।

আরও পড়ুনঃ  সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

সমাধান: সমাজে নতুন মূল্যবোধের প্রত্যাবর্তন:-

শিক্ষায় পারিবারিক নৈতিকতা ও সহমর্মিতা শেখানো দরকার।

দম্পতি কাউন্সেলিং বাধ্যতামূলক করা উচিত আদালতে যাওয়ার আগে।

মিডিয়া ও সোশ্যাল নেটওয়ার্কে পরিবারভিত্তিক ইতিবাচক বার্তা প্রচার করা দরকার।

আইনজীবী ও ধর্মীয় নেতাদের উচিত মানুষকে মিলনের পথে উৎসাহিত করা, বিচ্ছেদ নয়।

সুতরাং : ডিভোর্স নয়, দরকার ধৈর্য ও সহমর্মিতা

ডিভোর্স কোনো সমাধান নয়, এটা একটি শেষ প্রান্ত।
এখান থেকে কেউ জেতে না, সবাই হারে।

একটি সম্পর্ক ভাঙে মানে একটি সমাজ দুর্বল হয়।
একটি শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়।
এবং একদিন, আমরা সবাই বুঝতে পারব—
ভালোবাসা হারানোই মানুষের সবচেয়ে বড় দারিদ্র্য।

শেষ বার্তা:
“বুদ্ধিমান মানুষ সেই নয়, যে ঝগড়ায় জয়ী হয়—
বরং সে, যে সময়মতো ক্ষমা করে ভালোবাসাকে টিকিয়ে রাখে।”

অ্যাডভোকেট মো কামরুজ্জামান ভূঁইয়া
অ্যাডভোকেট, লেখক, গবেষক, কলামিস্ট, গীতিকার।

 

অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া
আইনজীবী, লেখক ও সমাজ বিশ্লেষক