Dhaka ০২:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
সমঝোতার রাজনীতিতে আসার আহ্বান রাষ্ট্রপতির সান্তাহারে ছাতিম গাছের ডালে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ, মৃত্যু নিয়ে রহস্য ফিবোনাকি রোবটিক্স অলিম্পিয়াডে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন কেএফটির প্রিয়ন্ত ও তার দল, এবার লক্ষ্য ইতালি বিশ্বম্ভরপুর পিএফজির ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত নবীনগরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও মেধাবৃত্তি প্রদান সবুজ পরিবেশ গড়ার প্রত্যয়ে বিশ্বম্ভরপুরে ৪২০টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ বিতরণ বিএনপির দুর্দিনে কর্মীদের পাশে থাকা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ‘বাবলু ভাই’ আজ কালীগঞ্জের রাজনীতিতে এক বিশ্বস্ত নাম রামপালে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির নবগঠিত কমিটির পরিচিতি ও শুভেচ্ছা বিনিময় সাপাহারে শিক্ষক আছেন ১৫ জন, কাগজে শিক্ষার্থী ২৯৯; মাদ্রাসায় গিয়ে মিলল মাত্র ৪ জন
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

দালাল চক্রের ফাঁদে আদমদীঘি থানা আদমদীঘিতে ওসির ইশারায় বিচারের নামে চলছে রমরমা বাণিজ্য

  • Reporter Name
  • সময়: ০৮:২৩:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৭ Time View

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি:


বগুড়ার আদমদীঘি থানা এখন এক শ্রেণির দালালদের প্রতারণার ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

থানায় যে কোনো আইনি সেবা নিতে এসে প্রতারণা ও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে অনেক সাধারণ মানুষকে। থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়ার পরোক্ষ মদদেই এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা ও দালাল চক্রের মাধ্যমে বিচারের নামে গড়ে উঠেছে এক রমরমা বাণিজ্য—এমন অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিচার কিংবা আইনি সহায়তার নামে থানায় চলে প্রকাশ্য অর্থ লেনদেন। এ ঘটনায় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঘোরপাক খাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়ার আদমদীঘি থানায় ছোট হোক বা বড় হোক, যেকোনো অভিযোগ বা মামলা জমা দিতে গেলেই শুরু হয় নানা টালবাহানা। অভিযোগ তদন্তের নামে দু’পক্ষকে থানায় ডেকে হেনস্থা ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তারপর ওসির নির্দেশে কথিত ‘আপস-মীমাংসা’র নাটক সাজিয়ে বিচারের নামে দুই পক্ষ থেকেই মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য ও দালাল চক্রটি। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দালাল চক্রের দ্বারা শুরু হয় উল্টো মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার নানা রকম হুমকি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ কিংবা পারিবারিক কলহের ছোটখাটো বিষয়গুলো নিয়ে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়।

কিন্তু পরবর্তীতে শালিসের নামে ওসির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত স্থানীয় কিছু দালাল ও এসআই পদমর্যাদার কর্মকর্তা দু’পক্ষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা দরদাম শুরু করেন। আর যার পকেট ভারী, তার পক্ষেই যায় থানার তথাকথিত রায়।

থানার পার্শ্ববর্তী এক ব্যবসায়ী জানান, “আদমদীঘি থানা এখন আর আইনি সেবার কেন্দ্র নেই। এটি এখন বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিণত হয়ে গেছে।

ওসির সবুজ সংকেত ছাড়া এখানে কোনো ফাইল নড়েচড়ে না। আর ওসির ইশারা পেলেই দালালদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায় বহুগুণ।”

আরও পড়ুনঃ  অসাধারণ সাফল্য এনেছেন আরএমপি পুলিশ কমিশনার

এর ফলে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ থানায় গিয়ে সুবিচার পাওয়া তো দূরের কথা, অনেকে নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফিরেন।

অনেকে আবার আইনি প্রতিকার পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়ে নীরবে-নিভৃতে এই জুলুম সহ্য করে আসছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

তারা আদমদীঘি থানার এই দুর্নীতি ও বিচার-বাণিজ্যের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আদমদীঘি থানায় এ ধরনের কাজ কখনোই হয় না। কিছু কিছু মানুষ আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য মিথ্যা, বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

সমঝোতার রাজনীতিতে আসার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

দালাল চক্রের ফাঁদে আদমদীঘি থানা আদমদীঘিতে ওসির ইশারায় বিচারের নামে চলছে রমরমা বাণিজ্য

সময়: ০৮:২৩:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি:


বগুড়ার আদমদীঘি থানা এখন এক শ্রেণির দালালদের প্রতারণার ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

থানায় যে কোনো আইনি সেবা নিতে এসে প্রতারণা ও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে অনেক সাধারণ মানুষকে। থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়ার পরোক্ষ মদদেই এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা ও দালাল চক্রের মাধ্যমে বিচারের নামে গড়ে উঠেছে এক রমরমা বাণিজ্য—এমন অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিচার কিংবা আইনি সহায়তার নামে থানায় চলে প্রকাশ্য অর্থ লেনদেন। এ ঘটনায় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঘোরপাক খাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়ার আদমদীঘি থানায় ছোট হোক বা বড় হোক, যেকোনো অভিযোগ বা মামলা জমা দিতে গেলেই শুরু হয় নানা টালবাহানা। অভিযোগ তদন্তের নামে দু’পক্ষকে থানায় ডেকে হেনস্থা ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তারপর ওসির নির্দেশে কথিত ‘আপস-মীমাংসা’র নাটক সাজিয়ে বিচারের নামে দুই পক্ষ থেকেই মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য ও দালাল চক্রটি। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দালাল চক্রের দ্বারা শুরু হয় উল্টো মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার নানা রকম হুমকি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ কিংবা পারিবারিক কলহের ছোটখাটো বিষয়গুলো নিয়ে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়।

কিন্তু পরবর্তীতে শালিসের নামে ওসির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত স্থানীয় কিছু দালাল ও এসআই পদমর্যাদার কর্মকর্তা দু’পক্ষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা দরদাম শুরু করেন। আর যার পকেট ভারী, তার পক্ষেই যায় থানার তথাকথিত রায়।

থানার পার্শ্ববর্তী এক ব্যবসায়ী জানান, “আদমদীঘি থানা এখন আর আইনি সেবার কেন্দ্র নেই। এটি এখন বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিণত হয়ে গেছে।

ওসির সবুজ সংকেত ছাড়া এখানে কোনো ফাইল নড়েচড়ে না। আর ওসির ইশারা পেলেই দালালদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায় বহুগুণ।”

আরও পড়ুনঃ  গ্রেফতারি পরোয়ানায় কাউখালীতে এক আসামি গ্রেফতার

এর ফলে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ থানায় গিয়ে সুবিচার পাওয়া তো দূরের কথা, অনেকে নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফিরেন।

অনেকে আবার আইনি প্রতিকার পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়ে নীরবে-নিভৃতে এই জুলুম সহ্য করে আসছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

তারা আদমদীঘি থানার এই দুর্নীতি ও বিচার-বাণিজ্যের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আদমদীঘি থানায় এ ধরনের কাজ কখনোই হয় না। কিছু কিছু মানুষ আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য মিথ্যা, বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।