
মোহাম্মাদ হেদায়েতুল্লাহ্ নবীনগর ব্রাহ্মণবাড়ীয়া প্রতিনিধি :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই প্রায় ৩০০ ফুট দীর্ঘ সীমানা প্রাচীর এক্সকাভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও উপজেলা প্রশাসন প্রথমে অনবগতির কথা জানালেও পরবর্তীতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামের,
সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর নাতি মোহাম্মদ হোসেন খান অভিযোগ করে জানান, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সড়ক নির্মাণ বা সম্প্রসারণের জন্য বাড়িঘর ছাড়তেও তাদের কোনো আপত্তি নেই এবং তারা সবসময় উন্নয়নমূলক কাজকে স্বাগত জানান। তবে পরিকল্পিত ১৮ ফুট প্রশস্ত কার্পেটিং সড়ক নির্মাণের পরও তাদের প্রাচীরটি সড়ক থেকে প্রায় ২২-২৩ ফুট দূরত্বে (অতিরিক্ত ২.৫ থেকে ৩ ফুট গভীরে) অবস্থান করছিল। তা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ অন্যায্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই এক্সকাভেটর দিয়ে তাঁদের প্রাচীরটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান যে প্রাচীর ভাঙার বিষয়ে তারা কিছুই জানতেন না। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনো স্থাপনা বা প্রাচীর ভাঙতে হলে পূর্বেই লিখিত নোটিশ দেওয়া বাধ্যতামূলক।
মোহাম্মদ হোসেন খান জানান, এই সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়ম ও প্রাচীর ভাঙচুরের মূল অভিযুক্ত ঠিকাদার লোকমান এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহায়তায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও প্রধান ঠিকাদার বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। তিনি অবিলম্বে এই স্বেচ্ছাচারিতার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ ছাড়া সড়কের দক্ষিণ পাশের সীমানায় থাকা বিশালাকার চাম্বল গাছগুলো অপসারণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। ঝড়-বৃষ্টির মৌসুমে এসব গাছের ডাল ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা পথচারীদের প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসন ও পরিবেশবাদী সংগঠনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে রাস্তার তদারকির দায়িত্বে থাকা উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল আলম বলেন, “যে সীমানা প্রাচীরটি ভাঙা হয়েছে, সে বিষয়ে মালিকপক্ষকে প্রায় তিন মাস আগেই মৌখিকভাবে জানানো হয়েছিল। এছাড়া প্রাচীরটি অবৈধভাবে রাস্তার জায়গায় নির্মাণ করে রাখা হয়েছিল বলেই তা ভেঙে ফেলা হয়েছে।”
তবে সরকারি নিয়ম মেনে লিখিত নোটিশ না দিয়ে এভাবে হুট করে প্রাচীর ভেঙে ফেলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য প্রায় ১৪কোটি টাকা ব্যয়ে শিবপুর কলেজ মোড় থেকে মেরকুটা বাজার পর্যন্ত প্রায় ৬কি.মি রাস্তার কাজ গত পাঁচ মাস ধরে এলজিআরডি’র অধীনে চলমান রয়েছে।
Reporter Name 























