Dhaka ০১:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
মাত্র এক রাতের বৃষ্টিতে নওগাঁর বদলগাছীতে ২৬০ মিমি বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ১৫ মিনিটে ৩ গোল দিয়ে আর্জেন্টিনার বিজয় বারুইপুর কাণ্ডে মোমবাতি হাতে শত শত মানুষের প্রতিবাদ, রাজনীতি নয়- দোষীর ফাঁসি চাই। দিনাজপুর বীরগঞ্জে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জাল হোসেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন সহজ-সরল, কৃষক-শ্রমিক, মজলুম এবং মেহনতি মানুষের মুক্তির কণ্ঠস্বর ও আলোকবর্তিকা নরসিংদীর গ্রীন লাইফ (প্রা:)হাসপাতালে মোবাইল কোর্ট। অর্থ দন্ড,এক্সরে কক্ষটি সিলগালা নবীনগরে স্কুলকক্ষে অভিযান, মাদক সেবনের অভিযোগে আটক ১ দেশকে বাঁচাতে প্রগতিশীল সাংবাদিকদের লেখনী গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে-মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল টেকনাফে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও গান পাউডার উদ্ধার তৃণমূলের প্রতিবাদ মিছিলে সহিত বিজেপি কর্মীদের সংঘর্ষ ও চোর চোর স্লোগান
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

পঞ্চগড় বোদা উপজেলা মসজিদ নির্মাণে বাধাঁ দেয়ার অভিযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি

 

পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধিঃ ছেলে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তারই প্রভাব খাটিয়ে মসজিদের কেনা ৮ শতক জমি অন্যকে দখল করে দিয়ে মসজিদ নির্মাণে বাধাঁ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বাবা ইয়াসিন আলীর বিরুদ্ধে।

শুধু তাই নয় জমি দখলে নিতে আদালতে মামলা দায়ের করে মসজিদ নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা দিতেও সংশ্লিষ্টদের ইন্ধন দিয়েছেন বলে মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়। দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ঝলইশালশিরি ইউনিয়নের মোকরারি পাড়া জামে মসজিদের সামনে কামারহাট-ডাবরভাঙ্গা সড়কের উপর দাড়িয়ে ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধনের আয়োজন করে মসজিদের মুসল্লীরা।

মানববন্ধনে মোকরারি পাড়া জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ওসমান গনি, সাধারণ সম্পাদক ময়নুল ইসলাম, মসজিদের সাবেক সভাপতি খামির উদ্দীন, মসজিদের দাতা সদস্য জামাল হোসেন, মুসল্লী বেলাল হোসেন, ময়দুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

মানববন্ধনে মসজিদ কমিটির সভাপতি ওসমান গণি অভিযোগ করে বলেন, আমরা দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে এই মসজিদে নামাজ আদায় করে আসছি। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় মসজিদ সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নেই।

এজন্য গত দুই বছর আগে মসজিদ সংলগ্ন নতুন করে ১০ শতক জমি কিনে নেয়া হয় হামিদুর রহমানের স্ত্রীর কাছে সাড়ে ৫ লাখ টাকায়। পরে জমিতে থাকা বাশঁঁঝাড় কেটে, খানাখন্দ বন্ধ করে মাটিও ভরাট করা হয়। সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়।

মসজিদের কাজ শুরু করতে গেলে স্থানীয় সফিকুল ইসলাম সলু ও তার ভাই হকিকুল ইসলাম কেনা জমির ৮ শতক নিজেদের দাবি করে। পরে এনিয়ে বিভিন্নভাবে সালিসে বসা হয়। সমাধানও হয়। জমি রেজিস্ট্রি করাও হয়েছে মসজিদের নামে। মসজিদের নির্মাণ করা শুরু করার লক্ষ্যে দুই টন রডও কেনা হয়েছে।

কিন্তু ৫ তারিখের পর থেকে ঝলই শালশিরি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বাবা ইয়াসিন আলী ছেলের প্রভাব খাটিয়ে হকিকুল ও সফিকুলকে আবারো জমি নিজেদের দাবি করতে সরাসরি মদদ ও ইন্ধন দেন।

আরও পড়ুনঃ  সাপাহারে কৃষি প্রণোদনার উপকরণ বিতরণের উদ্বোধন

পরে আদালতে মামলা করিয়ে মসজিদ নির্মাণে বাধাঁ ও নিষেধাজ্ঞা প্রদান করান।
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা সমাজবাসী চাঁদা দিয়ে জমি কিনলাম।

এখন সবাই মিলে মসজিদটি স্থায়ী পাঁকাকরণের কাজ শুরু করতে চাচ্ছি। কিন্তু হকিকুল ও সফিকুল ইয়াসিনের পরামর্শে আমাদের কাজে বাধাঁ প্রদান করছে। আমরা এ্যাসিল্যান্ডের কাছে গেছি সেখানে আমরা রায় পেয়েছি।

কিন্তু তারা মানেনা। কোর্টে মামলা করলো। তাদের কোন কাগজ নেই অথচ জমির মালিকানা দাবি করছে। আমরা ইয়াসিন সহ এসব চক্রান্তকারীদের বিচার চাই। সেই সাথে তাড়াতাড়ি যেন মসজিদ নির্মাণ করতে পারি সেজন্য সবার সহযোগিতা চাই।

মসজিদের দাতা সদস্য জামাল হোসেন বলেন, আমরা জমির মুল মালিক। নিজেদের প্রয়োজনে জমিটি আমারই ছোট ভাইয়ের কাছে বিক্রি করি। পরে সে তার স্ত্রীর নামে রেজিস্ট্রি করে দেয়।

কিন্তু মসজিদ নতুন করে নির্মাণ করতে চাইলে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর কাছে জমিটি কিনে নেয় মসজিদ কমিটি। অথচ হকিকুল ও সফিকুল জমির মালিকই না। কিন্তু ইয়াসিন তাদের নাচাচ্ছে। তারা এখন জমির মালিক দাবি করে মসজিদ নির্মাণে বাঁধা দিচ্ছে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ইয়াসিন আলী বলেন, ছেলের চাইতে আল্লাহর রহমতে আমার যথেষ্ট প্রভাব আছে। আমি কারো নাম ভাঙ্গাই না, প্রভাব খাটাই না।

যারা অভিযোগ করতেছে তাদের মধ্যে কয়েকজন আছে আওয়ামী লীগের দালাল। আমাদের ইউপি চেয়ারম্যানের চামচা। আমাদের বিএনপিরও একজন আছে চেয়ারম্যানের চামচা। তারা আমার নামে এসব ছড়াচ্ছে। মসজিদের নানা সমস্যার কারণে আরো তিনটি মসজিদ হইছে আশপাশে।

আর জাল দলিল করে জমি রেজিস্ট্রি করেছে কয়েকজন। কাগজপত্র প্রমাণ দিবে জমি কার। আমি কাউকে জমি দখলে ইন্ধন দেই নি।
জমির মালিকানা দাবি করা সফিকুল ইসলাম সলু বলেন, আমাদের জমির কাগজপত্র জাল করে হামিদুর রহমান সহ তাদের লোকজন বিক্রি করেছে।

মূলত জমির মালিক আমরা। কিন্তু আমাদের জমি না দেয়ায় কোর্টে মামলা করে দিয়েছি। আপনারা কাগজপত্র দেখবেন তারপরে কথা হবে। মসজিদের জমি নিয়ে তো ছলচাতুরী করা যায় না। আমাকে কেউ জমি দখল করতে পরামর্শ দেয়নি।

আরও পড়ুনঃ  ডুমুরিয়ায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত
Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

মাত্র এক রাতের বৃষ্টিতে নওগাঁর বদলগাছীতে ২৬০ মিমি বৃষ্টিপাতের রেকর্ড

পঞ্চগড় বোদা উপজেলা মসজিদ নির্মাণে বাধাঁ দেয়ার অভিযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি

সময়: ০৫:২০:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

 

পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধিঃ ছেলে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তারই প্রভাব খাটিয়ে মসজিদের কেনা ৮ শতক জমি অন্যকে দখল করে দিয়ে মসজিদ নির্মাণে বাধাঁ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বাবা ইয়াসিন আলীর বিরুদ্ধে।

শুধু তাই নয় জমি দখলে নিতে আদালতে মামলা দায়ের করে মসজিদ নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা দিতেও সংশ্লিষ্টদের ইন্ধন দিয়েছেন বলে মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়। দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ঝলইশালশিরি ইউনিয়নের মোকরারি পাড়া জামে মসজিদের সামনে কামারহাট-ডাবরভাঙ্গা সড়কের উপর দাড়িয়ে ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধনের আয়োজন করে মসজিদের মুসল্লীরা।

মানববন্ধনে মোকরারি পাড়া জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ওসমান গনি, সাধারণ সম্পাদক ময়নুল ইসলাম, মসজিদের সাবেক সভাপতি খামির উদ্দীন, মসজিদের দাতা সদস্য জামাল হোসেন, মুসল্লী বেলাল হোসেন, ময়দুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

মানববন্ধনে মসজিদ কমিটির সভাপতি ওসমান গণি অভিযোগ করে বলেন, আমরা দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে এই মসজিদে নামাজ আদায় করে আসছি। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় মসজিদ সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নেই।

এজন্য গত দুই বছর আগে মসজিদ সংলগ্ন নতুন করে ১০ শতক জমি কিনে নেয়া হয় হামিদুর রহমানের স্ত্রীর কাছে সাড়ে ৫ লাখ টাকায়। পরে জমিতে থাকা বাশঁঁঝাড় কেটে, খানাখন্দ বন্ধ করে মাটিও ভরাট করা হয়। সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়।

মসজিদের কাজ শুরু করতে গেলে স্থানীয় সফিকুল ইসলাম সলু ও তার ভাই হকিকুল ইসলাম কেনা জমির ৮ শতক নিজেদের দাবি করে। পরে এনিয়ে বিভিন্নভাবে সালিসে বসা হয়। সমাধানও হয়। জমি রেজিস্ট্রি করাও হয়েছে মসজিদের নামে। মসজিদের নির্মাণ করা শুরু করার লক্ষ্যে দুই টন রডও কেনা হয়েছে।

কিন্তু ৫ তারিখের পর থেকে ঝলই শালশিরি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বাবা ইয়াসিন আলী ছেলের প্রভাব খাটিয়ে হকিকুল ও সফিকুলকে আবারো জমি নিজেদের দাবি করতে সরাসরি মদদ ও ইন্ধন দেন।

আরও পড়ুনঃ  ডিমলায় শিক্ষার্থীদের দিয়ে শরীর ম্যাসাজের ঘটনায় ভিডিও ভাইরাল

পরে আদালতে মামলা করিয়ে মসজিদ নির্মাণে বাধাঁ ও নিষেধাজ্ঞা প্রদান করান।
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা সমাজবাসী চাঁদা দিয়ে জমি কিনলাম।

এখন সবাই মিলে মসজিদটি স্থায়ী পাঁকাকরণের কাজ শুরু করতে চাচ্ছি। কিন্তু হকিকুল ও সফিকুল ইয়াসিনের পরামর্শে আমাদের কাজে বাধাঁ প্রদান করছে। আমরা এ্যাসিল্যান্ডের কাছে গেছি সেখানে আমরা রায় পেয়েছি।

কিন্তু তারা মানেনা। কোর্টে মামলা করলো। তাদের কোন কাগজ নেই অথচ জমির মালিকানা দাবি করছে। আমরা ইয়াসিন সহ এসব চক্রান্তকারীদের বিচার চাই। সেই সাথে তাড়াতাড়ি যেন মসজিদ নির্মাণ করতে পারি সেজন্য সবার সহযোগিতা চাই।

মসজিদের দাতা সদস্য জামাল হোসেন বলেন, আমরা জমির মুল মালিক। নিজেদের প্রয়োজনে জমিটি আমারই ছোট ভাইয়ের কাছে বিক্রি করি। পরে সে তার স্ত্রীর নামে রেজিস্ট্রি করে দেয়।

কিন্তু মসজিদ নতুন করে নির্মাণ করতে চাইলে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর কাছে জমিটি কিনে নেয় মসজিদ কমিটি। অথচ হকিকুল ও সফিকুল জমির মালিকই না। কিন্তু ইয়াসিন তাদের নাচাচ্ছে। তারা এখন জমির মালিক দাবি করে মসজিদ নির্মাণে বাঁধা দিচ্ছে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ইয়াসিন আলী বলেন, ছেলের চাইতে আল্লাহর রহমতে আমার যথেষ্ট প্রভাব আছে। আমি কারো নাম ভাঙ্গাই না, প্রভাব খাটাই না।

যারা অভিযোগ করতেছে তাদের মধ্যে কয়েকজন আছে আওয়ামী লীগের দালাল। আমাদের ইউপি চেয়ারম্যানের চামচা। আমাদের বিএনপিরও একজন আছে চেয়ারম্যানের চামচা। তারা আমার নামে এসব ছড়াচ্ছে। মসজিদের নানা সমস্যার কারণে আরো তিনটি মসজিদ হইছে আশপাশে।

আর জাল দলিল করে জমি রেজিস্ট্রি করেছে কয়েকজন। কাগজপত্র প্রমাণ দিবে জমি কার। আমি কাউকে জমি দখলে ইন্ধন দেই নি।
জমির মালিকানা দাবি করা সফিকুল ইসলাম সলু বলেন, আমাদের জমির কাগজপত্র জাল করে হামিদুর রহমান সহ তাদের লোকজন বিক্রি করেছে।

মূলত জমির মালিক আমরা। কিন্তু আমাদের জমি না দেয়ায় কোর্টে মামলা করে দিয়েছি। আপনারা কাগজপত্র দেখবেন তারপরে কথা হবে। মসজিদের জমি নিয়ে তো ছলচাতুরী করা যায় না। আমাকে কেউ জমি দখল করতে পরামর্শ দেয়নি।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহীকে আরও সুন্দর মহা নগরী করা হবে