
সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ থেকে:
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৬তম জন্মোৎসব উপলক্ষে রবিবার সকালে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শ্রদ্ধাঞ্জলি ও মেলা।
প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও সকাল থেকেই কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে ভিড় জমান অসংখ্য রবীন্দ্রপ্রেমী, শিল্পী, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিমনা মানুষ। নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি ও শ্রদ্ধার্ঘ্যের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী পালিত হয় এই বিশেষ আয়োজন।
অনুষ্ঠানে কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে পদ্মফুলের মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শপথ গ্রহণের পর বেলা একটার দিকে তিনি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে এসে কবিগুরুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন মদন মিত্র, বিমান বসু-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
তবে বহু বছরের পরিচিত কিছু সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও শিল্পীদের অনুপস্থিতি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন অনেক রবীন্দ্রপ্রেমী। উপস্থিত দর্শনার্থীদের একাংশের মতে, কবিগুরু কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা মতের নন; তিনি সকলের। তাই তাঁর জন্মোৎসব যেন সর্বজনীন আবহেই উদযাপিত হয়—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও কবিতা পরিবেশনের মাধ্যমে মঞ্চ আলোকিত করেন অগ্নিভ বন্দ্যোপাধ্যায়, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, শ্রাবণী সেন, জগন্নাথ বসু, মনোময় ভট্টাচার্য-সহ আরও অনেকে।
এছাড়াও সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরাও অংশ নেন বিভিন্ন পরিবেশনায়।
কবিগুরুর গান ও কবিতার আবহে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। দিনভর চলতে থাকে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আবৃত্তি ও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন। শুধু কলকাতাই নয়, সারা ভারতজুড়ে স্কুল, কলেজ, ক্লাব ও সাংস্কৃতিক মঞ্চে পালিত হয় রবীন্দ্রজয়ন্তী।
“নব আনন্দে জাগো আজি নব কিরণে—
শুভ সুন্দর প্রীতি উজ্জ্বল নির্মল জীবনে…”
কবিগুরুর এই চিরন্তন বাণী যেন নতুন করে ছুঁয়ে যায় উপস্থিত সকলকে।
Reporter Name 




























