
খাদেমুল ইসলাম,
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান আদর্শ ক্লিনিকে এক প্রসূতি মা ও দুই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরপর এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসাসেবার মান, রোগীর নিরাপত্তা এবং তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য বিভাগ। গত বুধবার (১০ জুন) রাত প্রায় ১১টার দিকে পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান ক্লিনিকটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে ক্লিনিকটির অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ও লেবার রুম সিলগালা করা হয়। একই সঙ্গে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিতে সব ধরনের অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৭ জুন রাতে আদর্শ ক্লিনিকে নরমাল ডেলিভারির সময় মনিরুল ইসলামের স্ত্রী মিতু আক্তারের নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়। এর দুই দিন পর, ১০ জুন সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের নূরনবীর স্ত্রী পাপড়ি আক্তারের নরমাল ডেলিভারির সময় প্রথমে নবজাতক শিশুর মৃত্যু ঘটে। পরে প্রসূতি পাপড়ি আক্তারও মারা যান।
পরপর এসব মৃত্যুর ঘটনায় নিহতদের স্বজনরা চিকিৎসায় অবহেলা, দায়িত্বহীনতা এবং অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, যথাযথ চিকিৎসা ও পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবেই এ মর্মান্তিক ঘটনাগুলো ঘটেছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আদর্শ ক্লিনিকটির হালনাগাদ লাইসেন্স নেই। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য বিভাগ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্লিনিকটির অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
Reporter Name 



























