Dhaka ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
গলাচিপায় যৌথ অভিযানে ৩০টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ, আগুনে ধ্বংস বুড়িচংয়ে কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও অনুমোদন সভা অনুষ্ঠিত মধ্যনগরে বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করল বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ গোদাগাড়ী পৌরসভার সড়ক নির্মাণে ব্যপক অনিয়ম স্বামী বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে বাইরে যাওয়ার সুযোগে নারীকে ধর্ষণ টেকনাফে বিজিবির অভিযানে ৬০ লিটার দেশীয় চোলাই মদ উদ্ধার, আটক ২ অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন: তরুণ শক্তির কাছে হার মানল অভিজ্ঞতা চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ত্রাণ ও আর্থিক সাহায্য নিয়ে হাজির খুলনার জুলাই কন্যারা ২১ জুলাই মৃত্যুঞ্জয়ী সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তাহের বীরউত্তম এর ৫০তম হত্যাদিবস পালন করবে জাসদ একুশে জুলাই শহীদ দিবসের প্রস্তুতির মুহূর্তে, প্রচন্ড বর্ষণে কলকাতা ভাসালো
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ: আলো ছড়ানো এক জীবনের গল্প

  • Reporter Name
  • সময়: ০৮:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • ১৩২ Time View

 


কলকাতার জোড়াসাঁকোর সেই বিশাল ঠাকুরবাড়িতে ১৮৬১ সালের ৭ই মে জন্ম নিয়েছিলেন এক শান্ত, গভীর চোখের শিশু। নাম রাখা হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। পরিবার ছিল শিক্ষিত, সংস্কৃতিমনা ও শিল্পপ্রেমী। কিন্তু ছোট্ট রবির মন ছিল অন্যরকম—তিনি বইয়ের চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন প্রকৃতি, আকাশ, নদী আর মানুষের জীবন দেখতে।

শৈশবে তিনি বিদ্যালয়ের চার দেয়ালে নিজেকে বন্দি মনে করতেন। তাই জানালার ফাঁক দিয়ে আকাশ দেখতেন, গাছের পাতায় বাতাসের নাচ দেখতেন। একদিন ছোট্ট রবি বাবাকে বলেছিলেন—
“মানুষ কি শুধু বই পড়েই বড় হয়? প্রকৃতি থেকেও কি শেখা যায় না?”
এই প্রশ্নই যেন তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

কৈশোরে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। অল্প বয়সেই তাঁর শব্দের জাদু সবাইকে মুগ্ধ করে। কিন্তু জীবনের পথ তাঁর জন্য শুধু প্রশংসায় ভরা ছিল না। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি হারান মা, পরে স্ত্রী মৃণালিনী দেবী, সন্তান এবং প্রিয়জনদের। একের পর এক শোক তাঁর জীবনকে আঘাত করে। তবুও তিনি ভেঙে পড়েননি।

শিলাইদহের পদ্মার তীরে নৌকায় বসে তিনি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ দেখতেন। কৃষকের কষ্ট, গ্রামের মানুষের হাসি, বাংলার প্রকৃতি—সবকিছু তাঁর হৃদয় ছুঁয়ে যেত। সেই অনুভব থেকেই জন্ম নেয় অসংখ্য গান, কবিতা ও গল্প।

একবার এক দরিদ্র কৃষক তাঁর কাছে এসে বলেছিল—
“বাবু, আমাদের কথা কেউ লেখে না।”
রবীন্দ্রনাথ শান্ত কণ্ঠে উত্তর দিয়েছিলেন—
“আমি লিখবো তোমাদের কথা, বাংলার মাটির কথা।”

তারপর থেকেই তাঁর লেখায় উঠে আসে বাংলার গ্রাম, মানুষের ভালোবাসা, বেদনা ও স্বপ্ন।

১৯১৩ সালে তাঁর “গীতাঞ্জলি” কাব্যগ্রন্থ তাঁকে এনে দেয় বিশ্বের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান—নোবেল পুরস্কার। পুরো পৃথিবী তখন বাংলার এক কবিকে চিনে নেয়। কিন্তু এত বড় সম্মান পাওয়ার পরও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপনের মানুষ।

আরও পড়ুনঃ  লেখালেখি দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খ্যাতি ছড়াচ্ছেন শাম্মী তুলতুল

১৯১৯ সালে ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া “নাইট” উপাধি তিনি ফিরিয়ে দেন জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে। তিনি লিখেছিলেন—
“মানুষের রক্তের ওপর কোনো সম্মান টিকে থাকতে পারে না।”

এই সাহসী প্রতিবাদ তাঁকে শুধু কবি নয়, মানবতার কণ্ঠস্বর হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরে।

তিনি বিশ্বাস করতেন শিক্ষা হবে মুক্ত, আনন্দময় ও প্রকৃতিনির্ভর। তাই শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে গাছের নিচে বসে পাঠদান হতো। তাঁর স্বপ্ন ছিল—একদিন মানুষ ধর্ম, জাতি ও ভেদাভেদ ভুলে একসাথে মানবতার পথে চলবে।

জীবনের শেষ সময়েও তিনি লিখে গেছেন। অসুস্থ শরীর নিয়েও কলম থামাননি। ১৯৪১ সালের ৭ই আগস্ট তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। কিন্তু তাঁর গান, কবিতা ও দর্শন আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে।

আজ দক্ষিণডিহির রবীন্দ্র কমপ্লেক্সে যখন রবীন্দ্রজয়ন্তী ও লোকমেলার আয়োজন হয়, তখন মনে হয়—বাংলার মাটি, নদী, গ্রাম আর মানুষের মাঝে রবীন্দ্রনাথ এখনও আছেন। বাতাসে ভেসে আসে তাঁর সেই অমর বাণী—
“মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ।”

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু একজন কবি নন; তিনি বাঙালির আত্মা, বাংলার আকাশে জ্বলজ্বলে এক চিরন্তন নক্ষত্র।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

গলাচিপায় যৌথ অভিযানে ৩০টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ, আগুনে ধ্বংস

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ: আলো ছড়ানো এক জীবনের গল্প

সময়: ০৮:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

 


কলকাতার জোড়াসাঁকোর সেই বিশাল ঠাকুরবাড়িতে ১৮৬১ সালের ৭ই মে জন্ম নিয়েছিলেন এক শান্ত, গভীর চোখের শিশু। নাম রাখা হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। পরিবার ছিল শিক্ষিত, সংস্কৃতিমনা ও শিল্পপ্রেমী। কিন্তু ছোট্ট রবির মন ছিল অন্যরকম—তিনি বইয়ের চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন প্রকৃতি, আকাশ, নদী আর মানুষের জীবন দেখতে।

শৈশবে তিনি বিদ্যালয়ের চার দেয়ালে নিজেকে বন্দি মনে করতেন। তাই জানালার ফাঁক দিয়ে আকাশ দেখতেন, গাছের পাতায় বাতাসের নাচ দেখতেন। একদিন ছোট্ট রবি বাবাকে বলেছিলেন—
“মানুষ কি শুধু বই পড়েই বড় হয়? প্রকৃতি থেকেও কি শেখা যায় না?”
এই প্রশ্নই যেন তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

কৈশোরে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। অল্প বয়সেই তাঁর শব্দের জাদু সবাইকে মুগ্ধ করে। কিন্তু জীবনের পথ তাঁর জন্য শুধু প্রশংসায় ভরা ছিল না। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি হারান মা, পরে স্ত্রী মৃণালিনী দেবী, সন্তান এবং প্রিয়জনদের। একের পর এক শোক তাঁর জীবনকে আঘাত করে। তবুও তিনি ভেঙে পড়েননি।

শিলাইদহের পদ্মার তীরে নৌকায় বসে তিনি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ দেখতেন। কৃষকের কষ্ট, গ্রামের মানুষের হাসি, বাংলার প্রকৃতি—সবকিছু তাঁর হৃদয় ছুঁয়ে যেত। সেই অনুভব থেকেই জন্ম নেয় অসংখ্য গান, কবিতা ও গল্প।

একবার এক দরিদ্র কৃষক তাঁর কাছে এসে বলেছিল—
“বাবু, আমাদের কথা কেউ লেখে না।”
রবীন্দ্রনাথ শান্ত কণ্ঠে উত্তর দিয়েছিলেন—
“আমি লিখবো তোমাদের কথা, বাংলার মাটির কথা।”

তারপর থেকেই তাঁর লেখায় উঠে আসে বাংলার গ্রাম, মানুষের ভালোবাসা, বেদনা ও স্বপ্ন।

১৯১৩ সালে তাঁর “গীতাঞ্জলি” কাব্যগ্রন্থ তাঁকে এনে দেয় বিশ্বের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান—নোবেল পুরস্কার। পুরো পৃথিবী তখন বাংলার এক কবিকে চিনে নেয়। কিন্তু এত বড় সম্মান পাওয়ার পরও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপনের মানুষ।

আরও পড়ুনঃ  নটরডেমিয়ান্স ফাউন্ডেশনের চিকিৎসা সেবা ও খাবার বিতরণে বন্যার্তদের মাঝে প্রাণের সঞ্চার

১৯১৯ সালে ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া “নাইট” উপাধি তিনি ফিরিয়ে দেন জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে। তিনি লিখেছিলেন—
“মানুষের রক্তের ওপর কোনো সম্মান টিকে থাকতে পারে না।”

এই সাহসী প্রতিবাদ তাঁকে শুধু কবি নয়, মানবতার কণ্ঠস্বর হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরে।

তিনি বিশ্বাস করতেন শিক্ষা হবে মুক্ত, আনন্দময় ও প্রকৃতিনির্ভর। তাই শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে গাছের নিচে বসে পাঠদান হতো। তাঁর স্বপ্ন ছিল—একদিন মানুষ ধর্ম, জাতি ও ভেদাভেদ ভুলে একসাথে মানবতার পথে চলবে।

জীবনের শেষ সময়েও তিনি লিখে গেছেন। অসুস্থ শরীর নিয়েও কলম থামাননি। ১৯৪১ সালের ৭ই আগস্ট তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। কিন্তু তাঁর গান, কবিতা ও দর্শন আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে।

আজ দক্ষিণডিহির রবীন্দ্র কমপ্লেক্সে যখন রবীন্দ্রজয়ন্তী ও লোকমেলার আয়োজন হয়, তখন মনে হয়—বাংলার মাটি, নদী, গ্রাম আর মানুষের মাঝে রবীন্দ্রনাথ এখনও আছেন। বাতাসে ভেসে আসে তাঁর সেই অমর বাণী—
“মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ।”

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু একজন কবি নন; তিনি বাঙালির আত্মা, বাংলার আকাশে জ্বলজ্বলে এক চিরন্তন নক্ষত্র।