Dhaka ০৭:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
স্পেনের জয়ে সেজদা দেওয়ায় শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী যুবককে মারধরের অভিযোগ ভেড়ামারায় এক আর্জেন্টিনা সমর্থক আত্মহত্যার অভিযোগ কালিয়াকৈরে বিল থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার সাপাহারে প্রদর্শনী চাষীদের মাঝে মাছের খাবার ও গাছের চারা বিতরণ ভাঙ্গুড়ায় মাদক নির্মূলে কোমর বেঁধে নেমেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান গোবিন্দগঞ্জে অনলাইন ক্যাসিনোর এজেন্ট গ্রেফতার, ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ ডিমলায় কচুরিপানা পরিষ্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্যোগ অ‍্যাসাল লংআইল‍্যান্ড চ‍্যাপ্টারের অভিষেক ও বারবিকিউ পার্টি-২০২৬ অনুষ্ঠিত, সভাপতি শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক নাছের নির্বাচিত ‘স্মরণে ৭১-হৃদয়ে বাংলাদেশ’-এর আহ্বায়ক সাংবাদিক মানিক লাল ঘোষ ও সদস্য সচিব সাংবাদিক শফিক বাবু মনোনীত গোদাগাড়ীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আজাদ গ্রেপ্তার
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

বুড়িচংয়ে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে জাতীয় ফুল শাপলা

  • Reporter Name
  • সময়: ১২:২৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • ৯ Time View

মো. আবদুল্লাহ, বুড়িচং (কুমিল্লা):


বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা একসময় দেশের গ্রামাঞ্চলের বিল, ঝিল, খাল, পুকুর ও জলাভূমিজুড়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরিহার্য অংশ ছিল। বর্ষা ও শরৎ মৌসুমে লাল, সাদা, বেগুনি, নীল ও হলুদ রঙের শাপলায় মুখরিত থাকত জলাশয়গুলো। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার গ্রামাঞ্চলে সেই পরিচিত দৃশ্য এখন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে।

স্থানীয়দের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, জলাশয় ভরাট, আধুনিক কৃষি ব্যবস্থায় অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক জলাভূমি সংকুচিত হয়ে যাওয়ার কারণে শাপলার বিস্তার দিন দিন কমে যাচ্ছে। ফলে জাতীয় ফুলের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না।

উদ্ভিদবিদদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সাধারণত সাদা, লাল, বেগুনি, হলুদ ও নীল—এই পাঁচ ধরনের শাপলা দেখা যায়। এর মধ্যে সাদা শাপলা বাংলাদেশের জাতীয় ফুল হিসেবে স্বীকৃত। একসময় নদী, খাল, বিল ও স্থির জলাশয়জুড়ে শাপলার সমারোহ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে বর্ষা ও শরৎকাল ছিল শাপলার প্রধান ফুল ফোটার মৌসুম।

গ্রামীণ জীবনে শাপলার গুরুত্ব শুধু সৌন্দর্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। শাপলার ডাঁটা বা লতা দিয়ে সুস্বাদু সবজি রান্না করা হতো। এর ফল, যা স্থানীয়ভাবে ‘ড্যাঁপ’ নামে পরিচিত, সিদ্ধ বা ভেজে খাওয়ার প্রচলনও ছিল। শিশু-কিশোররা শাপলার মালা গেঁথে খেলাধুলা করত এবং অনেক কৃষক ও সংগ্রহকারী শাপলা তুলে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করতেন।

বুড়িচং উপজেলার কয়েকজন কৃষক জানান, আগে সামান্য পানিযুক্ত জমিতেও স্বাভাবিকভাবে শাপলা জন্মাত। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ জলাশয় ভরাট হয়ে গেছে অথবা কৃষিজমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে শাপলার স্বাভাবিক বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে আগের মতো শাপলার দেখা মেলে না।

বর্তমানে উপজেলার কিছু গভীর জলাশয়ে সীমিত পরিসরে সাদা শাপলা দেখা গেলেও লাল, বেগুনি কিংবা নীল শাপলা প্রায় বিলুপ্তির পথে।

আরও পড়ুনঃ  অমাবস্যার জোয়ারে ফুলে উঠেছে নদী, বরিশালে ৮ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, জাতীয় ফুল শাপলাসহ জলজ উদ্ভিদের অস্তিত্ব রক্ষায় প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণ, জলাভূমি ভরাট বন্ধ এবং কৃষিজমিতে পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো বইয়ের পাতাতেই শাপলার পরিচয় খুঁজে পাবে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

স্পেনের জয়ে সেজদা দেওয়ায় শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী যুবককে মারধরের অভিযোগ

বুড়িচংয়ে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে জাতীয় ফুল শাপলা

সময়: ১২:২৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

মো. আবদুল্লাহ, বুড়িচং (কুমিল্লা):


বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা একসময় দেশের গ্রামাঞ্চলের বিল, ঝিল, খাল, পুকুর ও জলাভূমিজুড়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরিহার্য অংশ ছিল। বর্ষা ও শরৎ মৌসুমে লাল, সাদা, বেগুনি, নীল ও হলুদ রঙের শাপলায় মুখরিত থাকত জলাশয়গুলো। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার গ্রামাঞ্চলে সেই পরিচিত দৃশ্য এখন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে।

স্থানীয়দের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, জলাশয় ভরাট, আধুনিক কৃষি ব্যবস্থায় অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক জলাভূমি সংকুচিত হয়ে যাওয়ার কারণে শাপলার বিস্তার দিন দিন কমে যাচ্ছে। ফলে জাতীয় ফুলের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না।

উদ্ভিদবিদদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সাধারণত সাদা, লাল, বেগুনি, হলুদ ও নীল—এই পাঁচ ধরনের শাপলা দেখা যায়। এর মধ্যে সাদা শাপলা বাংলাদেশের জাতীয় ফুল হিসেবে স্বীকৃত। একসময় নদী, খাল, বিল ও স্থির জলাশয়জুড়ে শাপলার সমারোহ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে বর্ষা ও শরৎকাল ছিল শাপলার প্রধান ফুল ফোটার মৌসুম।

গ্রামীণ জীবনে শাপলার গুরুত্ব শুধু সৌন্দর্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। শাপলার ডাঁটা বা লতা দিয়ে সুস্বাদু সবজি রান্না করা হতো। এর ফল, যা স্থানীয়ভাবে ‘ড্যাঁপ’ নামে পরিচিত, সিদ্ধ বা ভেজে খাওয়ার প্রচলনও ছিল। শিশু-কিশোররা শাপলার মালা গেঁথে খেলাধুলা করত এবং অনেক কৃষক ও সংগ্রহকারী শাপলা তুলে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করতেন।

বুড়িচং উপজেলার কয়েকজন কৃষক জানান, আগে সামান্য পানিযুক্ত জমিতেও স্বাভাবিকভাবে শাপলা জন্মাত। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ জলাশয় ভরাট হয়ে গেছে অথবা কৃষিজমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে শাপলার স্বাভাবিক বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে আগের মতো শাপলার দেখা মেলে না।

বর্তমানে উপজেলার কিছু গভীর জলাশয়ে সীমিত পরিসরে সাদা শাপলা দেখা গেলেও লাল, বেগুনি কিংবা নীল শাপলা প্রায় বিলুপ্তির পথে।

আরও পড়ুনঃ  চন্দনাইশ সমিতি-ইউএই এর উদ্যোগে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, জাতীয় ফুল শাপলাসহ জলজ উদ্ভিদের অস্তিত্ব রক্ষায় প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণ, জলাভূমি ভরাট বন্ধ এবং কৃষিজমিতে পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো বইয়ের পাতাতেই শাপলার পরিচয় খুঁজে পাবে।