
হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজঃ
গত শুক্রবার ( ৩ জুলাই ২০২৬) বিকাল ৩টায় ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টির উদ্যোগে বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থানের দাবিতে গণ-সমাবেশ ও বিক্ষোভ প্রকাশ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। গণ-সমাবেশ সঞ্চালনা করেন পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লেখক অমূল্য কুমার বৈদ্য। গণ-সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সভাপতি এমএ আলীম সরকার। সভাপতির বক্তব্যে এমএ আলীম সরকার বলেন, দেশে বেকারত্ব দিন দিন একটি ভয়াবহ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পরিণত হচ্ছে। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত ও দক্ষ তরুণ-তরুণী কর্মবাজারে প্রবেশ করলেও তাদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। এর ফলে একদিকে যেমন যুবসমাজ হতাশা, অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটে নিমজ্জিত হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের উৎপাদনশীল মানবসম্পদ যথাযথভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। খবর আইবিএননিউজ ।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মেগা প্রকল্পের নামে মেগা লুটপাট করা হয়েছে কিন্তু কার্যকর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও কোনো প্রকার কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেনি বরং ৪০০ কারখানার বন্ধ করে দিয়েছে মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে এবং কয়েক লাখ মানুষ চাকুরীচ্যুত ও কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ড. ইউনুস কর্তৃত্ববাদী যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দাসত্ব চুক্তি করে নিজের স্বার্থ হাসিল করেছে এবং সম্প্রীতিময় বাংলাদেশে গৃহযুদ্ধের বীজ বপন করেছে। কিছুদিন পরে দেশের মানুষ হাড়ে হাড়ে টের পাবে। প্রতিবছর প্রায় ৮ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীরা গ্রাজুয়েশন করে বের হয় এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয় মাত্র ৬০ হাজার। প্রায় প্রতিবছর ৭ লাখ ৪০ হাজার লোক বেকার হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে এক কোটির বেশি লোক বেকার আছে। বর্তমান বাস্তবতায় মূল্যস্ফীতির চাপ, বিনিয়োগের ধীরগতি, শিল্প ও উৎপাদন খাতে সীমিত কর্মসংস্থান এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন নিয়োগ কার্যক্রম স্থবির থাকায় কর্মসংস্থানের সংকট আরও তীব্র হয়েছে। উচ্চশিক্ষিতদের একটি বড় অংশ যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি না পেয়ে বেকার অথবা অপ্রাতিষ্ঠানিক ও অনিশ্চিত পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় ধরনের হুমকি। সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ৩৬ শতাংশ ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষা দিচ্ছে না। এর কারণ কর্মসংস্থানের অভাব নাকি তাঁদের কোনো ভিন্ন ধরনের অসুবিধা আছে। এর প্রকৃত অর্থ সরকারকে খুঁজে বের করতে হবে। এটা বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের জন্যে ভয়ংকর বার্তা দিচ্ছে। এই শিক্ষাই হচ্ছে মানবসম্পদ উন্নয়নে নতুন প্রজন্মের উন্নতির বাহক। বর্তমান সরকারকে অর্থনীতি, ভুরাজনৈতিক ব্যবস্থা, শিক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ ও গুরুত্ব দিতে হবে।
বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি মনে করে, বেকারত্ব কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; এটি একটি জাতীয় সংকট। তাই এই সংকট মোকাবিলায় সরকারের সুপরিকল্পিত, সময়োপযোগী ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ অপরিহার্য। আমরা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি— সরকারি খাতের সব শূন্য পদে দ্রুত, স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে। দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে শিল্পায়ন ও উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ করতে হবে। ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহজ ঋণ, কর-সহায়তা ও নীতিগত প্রণোদনা দিতে হবে। দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবসমাজকে আধুনিক শ্রমবাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষের সংস্কৃতি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।
বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি বিশ্বাস করে, কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার ও টেকসই রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম ভিত্তি। দেশের যুবসমাজের শক্তিকে অবহেলা করে কোনো উন্নয়নই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। বেকারত্ব দূরীকরণে কার্যকর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। আরও বক্তব্য দেন পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য প্রভাষক বিজন হালদার, নাজমা বেগম, জাহাঙ্গীর হাওলাদার জানা, আল আমিন, সেলিম রেজা প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।
Reporter Name 





















