
কামরুল ইসলাম ,
প্রতিনিধি :বোয়ালমারী, ফরিদপুর
ফরিদপুরের বোয়ালমারীর ঐতিহ্যবাহী জর্জ একাডেমির নাম পরিবর্তন করে দানবীর ও সমাজহিতৈষী ছবদুমিয়া মিয়ার নামে করার প্রস্তাবকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলামের একটি বক্তব্যের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, ব্রিটিশ আমলের স্মৃতিবিজড়িত নাম বহনকারী একটি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি আবেগ দিয়ে নয়, বরং ইতিহাস ও বাস্তবতার আলোকে বিবেচনা করা উচিত। যারা নিজেদের সম্পদ দান করে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে অবদান রেখেছেন, তাদের অবদানও ইতিহাসে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
জানা যায়, বোয়ালমারীর দানবীর জমিদার ছবদুমিয়া মিয়া স্থানীয় শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে। জর্জ একাডেমির জমির বড় একটি অংশ তার দান করা বলেও দাবি রয়েছে।
স্থানীয় ইতিহাসের বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, বোয়ালমারীর বড় পুকুর, কবরস্থান, শ্মশান, গরুর হাট, থানা, পাবলিক লাইব্রেরি, পোস্ট অফিস, অডিটোরিয়াম, উপজেলা পরিষদের পেছনের জমি, সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে ছবদুমিয়া মিয়ার জমি দান বা সহযোগিতার কথা উল্লেখ করা হয়।
এদিকে জর্জ একাডেমির নামকরণের ইতিহাস নিয়েও রয়েছে নানা আলোচনা। প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯১১ সালে ব্রিটিশ আমলে তৎকালীন পঞ্চম জর্জের আগমনকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘জর্জ একাডেমি’ রাখা হয় বলে স্থানীয়ভাবে বলা হয়ে থাকে।
তবে বর্তমানে বিদ্যালয়ের নামের সঙ্গে যাদের অবদান রয়েছে, তাদের ইতিহাস ও স্থানীয় দাতাদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
খন্দকার নাসিরুল ইসলামের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে অনেকেই মনে করছেন, জর্জ একাডেমির নাম পরিবর্তন করে ‘ছবদুমিয়া একাডেমি’ করা হলে তা স্থানীয় ইতিহাস ও দানবীর ছবদুমিয়া মিয়ার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
একই সঙ্গে বোয়ালমারী স্টেডিয়ামের নামও ছবদুমিয়া মিয়ার নামে করার দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের নামকরণ হলে বোয়ালমারীর ইতিহাসে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তবে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।
Reporter Name 






















